×

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

তাজউদ্দীন আহমদের ম্যানিলা সফর

Icon

ড. এম এ মোমেন

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

তাজউদ্দীন আহমদের ম্যানিলা সফর
জীবিত বিশিষ্ট আমলাদের মধ্যে সর্বাধিক বয়োজ্যেষ্ঠ নিঃসন্দেহে মোহাম্মদ মতিউল ইসলাম, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অর্থ সচিব। জন্ম ১৯৩০ সালে, ১৯৪৬-এ কলকাতা থেকে ম্যাট্রিকুলেশন। তিনি ডেন্টিস্ট হতে চেয়েছিলেন; কিন্তু তার সরকারি চাকুরে বাবার চাওয়া ভিন্ন- তাকে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হতে হবে। ভর্তি হলেন কমার্স কলেজে, কিন্তু ১৯৪৭-এর ভারত ভাগ, কলেজটাকেও ভাগ করল, একাংশ এসে সৃষ্টি হলো চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হতে পড়াশোনা ও আর্টিকেলশিপ শুরু করলেন। বড় ভাই নুরুল ইসলাম ১৯৫০ সালে সিএসপি হলেন (পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর); মতিউল ইসলামও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসলেন এবং ১৯৫২ সালে সিএসপি উত্তীর্ণ হয়ে কর্মজীবন শুরু করলেন। ইংরেজিতে লিখিত তার স্মৃতিকথা ‘রিকালেকশনস অব অ্যা সিভিল সার্ভেন্ট টার্নড ব্যাংকার’-এর একটি অধ্যায়ে স্বাধীন বাংলাদেশের রয়েছেন প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। তার রচনা থেকেই অনুসৃত ‘তাজউদ্দীন আহমদের ম্যানিলা সফর’। তাজউদ্দীনের ম্যানিলা সফর ১৯৭২-এ এডিবির বার্ষিক সভায় যোগদান : বাংলাদেশ যখন নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হলো এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) বার্ষিক সভায় যোগদানের জন্য অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অর্থমন্ত্রী সভায় যোগ দেবেন এডিবির ফার্স্ট গভর্নর হিসেবে আর অর্থসচিব তার সঙ্গে যাবেন বিকল্প গভর্নর হিসেবে। সপ্তাহে থাই এয়ারওয়েজের দুই ফ্লাইটের একটিতে ঢাকা থেকে ব্যাংকক হয়ে ম্যানিলা এমন বড় কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু আমাদের যাত্রার একদিন আগে যখন ঘোষণা করা হলো থাই এয়ারওয়েজ তার দিল্লি ঢাকা ব্যাংকক ফ্লাইট বাতিল করেছে, এটা আমাদের জন্য বিশেষ দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াল। বিমান তখনো ব্যাংকক ফ্লাইট শুরু করেনি। সময়মতো বার্ষিক সভা ধরতে হলে ম্যানিলা পৌঁছার একমাত্র বিকল্প পশ্চিমগামী ফ্লাইটে দিল্লি যাওয়া, দিল্লিতে রাত কাটিয়ে প্যানঅ্যাম ফ্লাইটে ব্যাংকক যাওয়া। দিল্লি এয়ারপোর্টে আমাদের আন্তরিকভাবে অভ্যর্থনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধীর বিশেষ সহায়তাকারী ডি পি ধর এবং আমাদের হাইকমিশনার ডক্টর এ আর মল্লিক। সরকারের অতিথি হিসেবে আমাদের অশোকা হোটেলে রাখা হলো। তাজউদ্দীন ও আমি ছাড়া প্রতিনিধি দলের আরেকজন সদস্য হচ্ছেন অর্থমন্ত্রীর একান্ত সচিব আবু সায়ীদ। পরদিন ভোরে প্যানঅ্যাম ফ্লাইট ০০২ দিল্লি থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা, আমাদের বেশ একটা ঘুম দিয়ে ভোর ৫টার দিকে এয়ারপোর্টে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়। তাজউদ্দীনের সঙ্গে আমরা একটি মুক্ত সন্ধ্যা পেয়ে গেলাম, অন্যথায় খুবই ‘রিজার্ভড’ ধরনের ব্যক্তিত্ব তাজউদ্দীন সেদিন খোলামেলা হয়ে গেলেন। দিল্লি তখনো মুজিবনগর সরকারকে সাহায্য করতে প্রতিশ্রæতিবদ্ধ হয়নি, স্বাধীনতাযুদ্ধের শুরুর দিকের সেই অনিশ্চিত দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে শুরু করলেন। তাজউদ্দীন একাই কলকাতা থেকে উড়োজাহাজে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে দিল্লি এলেন। কেবল দুজনের মুখোমুখি বৈঠক। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ সত্যিই পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন হতে চাচ্ছে এবং মুজিবনগর সরকারকে স্বাধীনতা যুদ্ধ করতে ভারতের সাহায্য করা উচিত এটা বুঝিয়ে রাজি করানো খুব সহজ ব্যাপার ছিল না। বৈঠকের এক পর্যায়ে ডি পি ধর এবং প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য উপদেষ্টা বৈঠকে যোগ দিলেন, শেষ পর্যন্ত তাজউদ্দীনের জয় হলো। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিশ্রæতি দিলেন। গভীর রাতে ভারতীয় প্রটোকল আমাদের জানায় যে, প্যানঅ্যাম ফ্লাইট বিলম্ব হবে। হোটেলে নাস্তা সেরে আমরা এয়ারপোর্টের দিকে রওনা হই। আমাদের ভিআইপি লাউঞ্জে নিয়ে যাওয়া হয়। আমাদের লাগেজ আগেই চেক ইন করিয়ে দেয়া হয়। ১৯৭৩-এ সেই পুরনো দিল্লি এয়ারপোর্টে আলাদা কোনো ইন্টারন্যাশনাল টার্মিনাল নেই, এয়ারপোর্ট ভবনের পেছনে একটি ছোট ভিআইপি লাউঞ্জ। প্রটোকলের দায়িত্বে থাকা মিস্টার সচদেব ফরেন সার্ভিসের একজন জ্যেষ্ঠ অফিসার সম্প্রতি টোকিওতে ভারতের রাষ্ট্রদূত পদ থেকে অবসরে গিয়েছেন। আমাদের বিদায় জানাতে হাইকমিশনার ডক্টর এ আর মল্লিকও সেখানে ছিলেন। আমি দেখলাম ভারতীয় প্রটোকল আমাদের সফরটাকে হালকাভাবে নিয়েছে, ফ্লাইট নিয়ে তাদের কোনো উদ্বেগ আছে বলে মনে হলো না। আমি যতবার ফ্লাইটের কথা জিজ্ঞেস করি আমাকে বলা হয়, রিলাক্স। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর আমাদের দুটো অ্যাম্বাসেডর গাড়িতে টারম্যাকের দিকে এগোতে বলা হলো। আমরা যখন অ্যাপ্রনের দিকে এগোচ্ছি- আমার নজরে এলো প্যানঅ্যাম ৭৪৭-এর চারটি ইঞ্জিন চলতে শুরু করেছে, গ্যাঙওয়ে উড়োজাহাজের কাছ থেকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। আমি যখন সচদেবকে বললাম প্যানঅ্যাম ৭৪৭ তো চলতে শুরু করেছে, তিনি আতঙ্কিত বোধ করে লাফ দিয়ে গাড়ি থেকে নামলেন এবং অ্যাপ্রনে ডিউটি অফিসারকে গিয়ে আদেশ করলেন এক্ষনি উড়োজাহাজ থামাতে হবে। ডিউটিরত স্টাফ সাফ সাফ জানিয়ে দিল তাদের গ্রাউন্ড স্টাফ তিনজন যাত্রীকে বারবার ডাকাডাকি করেছে, কেউ সাড়া দেয়নি, প্যানঅ্যাম ফ্লাইট আর দেরি করানো সম্ভব নয়। যখন এই নাটক চলছে তাজউদ্দীন অস্থির হয়ে উঠেন। তিনজনের মধ্যে আমার উদ্বেগই সবচেয়ে কম, কারণ আমি জানি প্রথমত আমরা এখনো ভারত সরকারের অতিথি। কাজেই বার্ষিক সভার জন্য যথাসময়ে আমাদের ম্যানিলা পৌঁছানো তাদেরই দায়িত্ব। দ্বিতীয়ত সাধারণ সতর্কতা হিসেবে আমার হাতব্যাগে দুয়েকটি বাড়তি কাপড় নিয়েছি, কিন্তু তাজউদ্দিন হাওয়াই শার্ট পরে আছেন, হাতের কাছে বিকল্প ব্যবস্থা নেই। সচদেব শেষ পর্যন্ত প্যানঅ্যামের ডিউটি অফিসারকে সম্মত করাতে সক্ষম হলেন; যেহেতু ভ্রান্তির কারণে একজন ভিভিআইপি রয়ে যাচ্ছেন তাকে তুলে নেয়ার জন্য উড়োজাহাজ থামাতে হবে। উড়োজাহাজের ক্যাপ্টেন কন্ট্রোল টাওয়ারের মাধ্যমে আমাদের উড়োজাহাজ অনুসরণ করে এগোতে পরামর্শ দিলেন। ততক্ষণে উড়োজাহাজের গতি বেড়েছে এবং টেইক অব পয়েন্টের কাছাকাছি এসে গেছে। আমরা দুই অ্যাম্বাসেডর গাড়িতে নিজেদের ঢুকিয়ে ৭৪৭-এর কাছাকাছি থেকে অনুসরণ করতে থাকি, ব্যাপারটা হিন্দি অ্যাকশন সিনেমার মতো। রানওয়ের শেষ মাথায় টেইক অব পয়েন্টে উড়োজাহাজ থামল, সেখানে আতঙ্কিত হয়ে আরো বুঝলাম উড়োজাহাজে ওঠার জন্য গ্যাঙওয়ে আনতে কেউ ভুলে গেছে। তার বদলে তারা যা এনেছে তা হচ্ছে উড়োজাহাজে ভারি মাল উঠানোর ফর্ক লিফট। একে একে ফর্ক লিফটের ওপর আমাদের নিজেদের স্থাপন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প রইল না। অপারেটর ম্যানুয়ালি একেকজনকে তুলে ৭৪৭-এর ফার্স্ট ক্লাস কেবিনের দরজার দিকে নিয়ে এলো। ভূমি থেকে তা অন্তত ৪০ ফুট উপরে। ধীরে ধীরে উপরে উঠছে, ৩০ ফুট উচ্চতায় দেখি ৭৪৭-এর প্ল্যাট অ্যান্ড হুইটনি কোম্পানির অতিকায় ইঞ্জিন আমাদের চুষে নেয়ার জন্য প্রস্তুত। আমি নিচে তাকিয়ে দেখি আমাদের হাইকমিশনার ও অন্যদের চিনতে সমস্যা হচ্ছে। আমরা কেবিন ডোরে পৌঁছে টোকা দিলাম, একজন চিফ স্টুয়ার্ডেস ঠেলে দরজা খুললেন এবং আমাদের লিফটের প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রায় ছুড়েই ফেলছিলেন। আমরা নিচে অপারেটরকে ইঙ্গিত করলাম ফর্ক লিফট আরো কিছুটা সরিয়ে নিতে হবে, তাহলে উড়োজাহাজের দরজা পুরোটা খুলবে। একে একে আমাদের ভেতরে নেয়া হলো, সবার আগে তাজউদ্দীন তারপর আমি তারপর প্রাইভেট সেক্রেটারি মর্যাদার ক্রম অনুসারে। তাজউদ্দীন তখন নির্বিকার, ফার্স্ট ক্লাস কেবিনের সামনের সিটে বসলেন, প্যানঅ্যাম ০০২ আকাশে উড়ল। ম্যানিলাতে তাজউদ্দীনের দাপ্তরিক কর্মসূচির মধ্যে ছিল প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ ই মার্কোসের সঙ্গে সাক্ষাৎ। প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কামনা করলেন; তারপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোমেউলুর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় প্রেসিডেন্ট মার্কোসের সামরিক আইন জারির পর ম্যানিলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন করে ঠিক করা হলো তার বিস্তারিত বিবরণ দিলেন। কাঁধে বন্দুক ঝোলানো মাস্তানরা সামরিক আইন জারির আগে তার অফিসে যে ঘুর ঘুর করত এটা ছিল সাধারণ দৃশ্য। সব সাক্ষাৎকার ও ম্যানিলায় অবস্থানকালে ফিলিপাইনে নিযুক্ত আমাদের রাষ্ট্রদূত খুবরম খান পন্নী সার্বক্ষণিক আমাদের সঙ্গ দিয়েছেন। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ষষ্ঠ বার্ষিক সভায় তাজউদ্দীন তার সবচেয়ে ভালো বক্তৃতাটি দিয়েছেন। কিছু কিছু বিষয়ে তিনি অভ্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন। আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর তিনি বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উন্নয়নের অন্তর্নিহিত শক্তি এবং সম্পদ বণ্টনের বিচারে এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে বিশাল বৈচিত্র্য লক্ষণীয়। আবার একই সঙ্গে তাদের মধ্যে সামাজিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, সংস্কৃতি ও জীবনাচরণের প্রশ্নে ঐক্যও বর্তমান। দেশগুলো পরস্পরের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারে এবং লাভবানও হতে পারে।’ বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশল নিয়ে তাজউদ্দীন বলেন, ‘আমাদের উন্নয়নের প্রধান উদ্যোগ ও শক্তি পরিচালিত হবে কৃষি খাতে, তা যে কেবল খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য তা নয়, কর্মসংস্থানের বিস্তার ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে। এ ক্ষেত্রে প্রধান কর্মকৌশল হবে সেচ সুবিধা বাড়ানো, সার কীটনাশক ও উচ্চ ফলনশীল বীজের যতটা সম্ভব বেশি ব্যবহার নিশ্চিত করা, ক্রমাগত গবেষণাকর্মের মাধ্যমে এসবের জন্য নতুন ইনপুট জোগান এবং এসবের উৎপাদনশীল ব্যবহারের নিশ্চিত করা।’ বিশেষ করে নৌপরিবহন ও গ্রামীণ বিদ্যুতায়ন খাতে সুনির্বাচিত বিনিয়োগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের দীর্ঘদিনের ঘাটতি পূরণ করতে হবে। পানি সম্পদের উন্নয়ন বিশেষ করে বন্যানিয়ন্ত্রণ আমাদের জন্য জরুরি বিষয় আর এ ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতামূলক উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা আমরা খতিয়ে দেখছি। বিশাল এবং ক্রমবর্ধমান শ্রমশক্তির যথাযথ ব্যবহারে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনশক্তি সম্পদকে যথাযথভাবে প্রস্তুত করাকে আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি। বার্ষিক সভায় পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তাদের অর্থনৈতিক বিষয় বিভাগের সচিব এস এস ইকবাল হোসেন, যিনি বরাবরই পূর্ব পাকিস্তান বৈধতা নিয়ে সমালোচনামুখর ছিলেন। কিন্তু তাজউদ্দীন আহমদের বিনয়ী আচরণ ও তার প্রতি সৌজন্যমূলক ভঙ্গি দেখে এতটাই অভিভূত ছিলেন, তিনি তার তৈরি করা ভাষণ থেকে সরে গিয়ে এডিবির নতুন সদস্য বাংলাদেশকে স্বাগত জানালেন। যদিও তার দেশ পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশ এখনো ভারতের অধিকৃত পূর্ব পাকিস্তানই রয়ে গেছে। ইকবাল হোসেন বাংলাদেশকে এক ধরনের বাস্তব স্বীকৃতিই দিলেন, যদিও তার দেশের আইনি স্বীকৃতি এসেছে আরো পরে ১৯৭৪ সালে। প্রতিদিন সকালে আমি আমার গুলশানের বাসা থেকে তেজগাঁও শিল্প এলাকায় শহীদ তাজউদ্দীন সড়ক ধরে মতিঝিলে অফিসে যাই। আমার কষ্ট লাগে মেয়র সাদেক হোসেন খোকা অনেক মুক্তিযোদ্ধার নামে রাস্তা করলেও ঢাকা শহরের পেছন উঠানের এই রাস্তাটিকে চরমতম আত্মত্যাগ করা তাজউদ্দীনকে সম্মানিত করার জন্য নির্ধারিত করেছেন। হয়তো সব ধরনের রাজনৈতিক বিতর্কে থেকে দূরে ‘আনসাঙ্গ হিরো’ হয়ে থাকাটাই তার জন্য ভালো ছিল। ড. এম এ মোমেন : সাবেক সরকারি চাকুরে, নন-ফিকশন ও কলাম লেখক।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App