×

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলি

প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার জরুরি

Icon

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার জরুরি
কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসছে। এতে টেকনাফসহ সীমান্তবর্তী এলাকার লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। উদ্বেগের বিষয়, রাখাইন রাজ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করে। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে কেউ বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করেছে বলে জানা যায়নি, তবে এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। এর আগে বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের মুখে সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা। তারা মিয়ানমারের বিদ্রোহী সশস্ত্র দল আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যেই পালিয়ে আসে। আবার ফেরতও যায়। স্থানীয়রা গণমাধ্যমকে জানায়, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর ২টা পর্যন্ত টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাইট্যংপাড়া থেকে সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ এলাকা পর্যন্ত নাফ নদে বিভিন্ন সীমান্তে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের বিকট শব্দ ভেসে আসছে। এর কারণ হিসেবে জানা যায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপের উত্তরে সুধাপাড়াসহ কয়েকটি এলাকায় বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) সঙ্গে দেশটির সরকারি বাহিনীর সংঘাত কয়েক দিন বন্ধ ছিল। এখন আবার সেখানে সংঘাত শুরু হয়েছে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে সীমান্তের এপারে ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। আতঙ্কে রাত কাটিয়েছেন মানুষজন। এখনো বিস্ফোরণ অব্যাহত থাকায় স্থানীয়রা আতঙ্কে রয়েছেন। তবে সীমান্তের এপারে কোনো গোলাবারুদ এসে পড়েনি। এমন অবস্থায় আমাদের সতর্কতা জরুরি। সীমান্তে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরো জোরদারের বিষয় সামনে আসছে। মিয়ানমারের ভেতরে কী হচ্ছে, সেখানকার পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, তা নজর রাখতে হবে। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী প্রদেশ রাখাইনসহ মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে দেশটির সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির তুমুল লড়াই চলছে। গণতন্ত্রপন্থিদের আক্রমণে দেশটির সামরিক বাহিনী এখন বেশ নাজুক অবস্থায় আছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও বেশ শোচনীয়। রাজনৈতিকভাবে হতবিহ্বল হয়ে সামরিক বাহিনী গায়ের জোরেই ক্ষমতা ধরে রেখেছে। এদিকে মিয়ানমারে গোলাগুলির শব্দে সীমান্তে বাংলাদেশ অংশে জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকে সীমান্ত এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। এ পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ। উদ্বেগের বিষয়, রাখাইন রাজ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করে। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও বিষয়টিকে মিয়ানমার সব সময় এড়িয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে বারবার বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান এবং সমাধানের জন্য বক্তব্য তুলে ধরেছেন। অনেক দেশ রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিলেও ভূরাজনীতির কারণে অনেক দেশ এ ব্যাপারে বিরত থেকেছে। এর আগে আমরা দেখেছি, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে মর্টারশেল নিক্ষেপের ঘটনায় সীমান্তরেখায় জড়ো হয়েছিল লাখো রোহিঙ্গা। সীমান্তে মিয়ানমারের মর্টারশেল নিক্ষেপ, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা, যুদ্ধাবস্থার সৃষ্টি- এটাকে আগ্রাসন হিসেবেই দেখেছে বাংলাদেশ। নতুন করে সীমান্ত দিয়ে আর একটি রোহিঙ্গাও যেন বাংলাদেশে প্রবেশ না করতে পারে তার জন্য নজরদারি বাড়াতে হবে। সে জন্য সীমান্তরক্ষীদের সতর্ক থাকতে হবে। মিয়ানমারের রাখাইনে চলমান উত্তেজনার দ্রুত প্রশমন হওয়া প্রয়োজন মনে করছি। পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে শান্তিপূর্ণ তথা কূটনৈতিক পন্থায় সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আন্তরিক ভূমিকাও জরুরি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App