×

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

নিয়োগবঞ্চিত নিবন্ধিত শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ কী?

Icon

আমির আসহাব

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের উদ্দেশ্যে গঠিত বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) যোগ্যতার সনদ প্রদান করা সত্ত্বেও শিক্ষক নিয়োগ ক্ষমতা ছিল ম্যানেজিং কমিটির হাতে। ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করে ২০১৫ সালে এনটিআরসিএকে নিয়োগ সুপারিশ অনুমতি দেয় মন্ত্রণালয়। পরের দিন থেকে এনটিআরসিএ নিয়োগ দেবে এমনটাই স্বাভাবিক। এনটিআরসিএর এক ঝাঁক অনার্স-মাস্টার্স করা তরুণ-তরুণী নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে বিষয়ভিত্তিক ‘শিক্ষক নিবন্ধন সনদ’ অর্জন করেছে। শিক্ষক হিসেবে শুধু তাদেরই নিয়োগ দেয়া হবে, এখানে কোনো জটিলতা থাকার কথা না। কিন্তু কেন এনটিআরসিএর সব শর্তে উত্তীর্ণ তরুণ-তরুণী বারবার নিয়োগ বঞ্চিত? কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক সংকটে? আর কেনইবা এনটিআরসিএর নামে হাজার হাজার মামলা-মোকদমা? এনটিআরসিএ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাঝে সমন্বয়হীনতা আধুনিক সময়োপযোগী একটি শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতিকে জটিল থেকে জটিল করে তুলেছে। সুতরাং এখন যা হচ্ছে সবই পরিকল্পনাহীন ও সমন্বয়হীনতার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া কিছুই নয়। এনটিআরসিএর দ্বিমুখী নীতির কারণে কেউ ৪০ নম্বর পেয়ে চাকরি করছে, কেউ ব্লক পোস্ট পেয়ে চাকরিতে যোগদান করছে, আবার অবৈধ সনদ দিয়েও চাকরি করছে। অথচ বৈধ সনদধারীরা অযোগ্য হচ্ছে। তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে যেসব পদে আবেদন নেয়া হয়েছে, ৪র্থ গণবিজ্ঞপ্তিতে আবার ওই সব পদ শূন্য দেখিয়েছে। ৪র্থ গণবিজ্ঞপ্তিতে যেসব পদে আবেদন নেয়া হয়েছে, ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতে আবার ওইসব পদ শূন্য দেখিয়ে আবেদন নেয়া হচ্ছে। প্রখ্যাত লেখক ও শিক্ষাবিদ ড. জাফর ইকবালের ‘কমন সেন্সের বাইরে’ শিরোনামের লেখায় ফুটে ওঠে এনটিআরসিএর অনিয়মের ফিরিস্তি। এনটিআরসিএ (বারবার পদ ফাঁকা রেখে, এন্ট্রিলেভেলের শিক্ষকদের সঙ্গে ইনডেক্সধারীদের সুযোগ দিয়ে, কোনো কোনো রিটকারীদের বিরুদ্ধে আপিল না করে, সুযোগ প্রাদানের মাধ্যমে) নিবন্ধিত শিক্ষকদের একটা অংশের সঙ্গে প্রতারণা করেই যাচ্ছে। যেহেতু ২০১৫ সালে কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করে, ১ থেকে ১২তম, ১৩তম, ১০তম বিশেষসহ সম্মিলিত মেধা তালিকা করা হয়। এরপর থেকে এনটিআরসিএ সবাইকে নিয়োগ দেবে, এটাই বিধিসম্মত নিয়ম বা আইন। এককবার একেকটি পরীক্ষায় প্রার্থীরা এককে নম্বর পান। পদ্ধতিগত পরিবর্তন হলে মূল্যায়নের সবকিছুই ওলটপালট হয়ে যায়। তাই সম্মিলিত তালিকা করায় কোনো কোনো ব্যাচ লাভবান হয়, আবার কোনো কোনো ব্যাচের একেবারে বিনা কারণে সর্বনাশ হয়ে যায়। নম্বরভিত্তিক তালিকা করার কোনো পূর্ব ঘোষণা ছিল না, ফলে পূর্বে যোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১-১২তমদের একই তালিতায় অন্তর্ভুক্ত করায় তাদের নব্বই ভাগেরই অবস্থান থাকে তালিকার পেছনের দিকে। সবার জন্য নিয়োগ সুপারিশের কোনো সুন্দর বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির প্রয়োগ ও মনমানসিকতা না থাকলে ১-১২তমরা নিয়োগবঞ্চিত থেকে যাবে। হয়েছেও ঠিক তাই। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে (ব্যাচভিত্তিক) নিয়োগ প্রদান সময়ের অপেক্ষামাত্র। কেন না, এনটিআরসিএর ওয়েব সাইটে নিবন্ধিত সনদধারীর সংখ্যা ৬ লক্ষাধিক। অথচ চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তিতে স্কুল ও কলেজ পৃথকভাবে আবেদন পড়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার। স্কুল-কলেজ মিলে (যেহেতু একজন ব্যক্তি একাধিক পদে চাকরি করার কোনো সুযোগ নেই। প্রকৃত চাকরিপ্রত্যাশীর সংখ্যা হিসেবে) আবেদন পড়েছিল ৮১ হাজার। বর্তমানে শূন্যপদ ৯৭ হাজার। নতুন যুক্ত ১৭তম সাড়ে ২৩ হাজার। সবাইকে একত্র করে স্ব-স্ব নীতিমালায় একটি মাত্র ই-আবেদন নিয়ে প্যানেল করে নিয়োগ দেয়া সম্ভব। দুই-একটা বিষয়ে সাময়িক সমস্যা হলেও জাতি সামগ্রিকভাবে লাভবান হবে। জাল সনদে কেউ কেউ চাকরি করছে, সরকারি বেতন-ভাতা তুলছে, অথচ বৈধ নিবন্ধিত শিক্ষকের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। এতে শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য তো পূরণ হচ্ছেই না, শিক্ষার বৈরী পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে বেকারত্ব এবং বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত চাকরিপ্রত্যাশী। আমির আসহাব : নয়াবাজার, ঢাকা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App