×

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

পাহাড়ে সংকট

শান্তি বজায় রাখতে সরকারের জোরালো উদ্যোগ জরুরি

Icon

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শান্তি বজায় রাখতে সরকারের জোরালো উদ্যোগ জরুরি
পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠনগুলো ব্যস্ত আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং খুন-খারাবিতে। পার্বত্য শান্তিচুক্তি হলেও পাহাড়ে এখনো আস্থা তৈরি হয়নি বলে মনে করেন দেশের বিশিষ্টজনরা। তারা বলেছেন, সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারে যখন নানা বিদ্রোহী জনগোষ্ঠীর উত্থান ও সংঘর্ষ চলছে, এমন সময় কুকি-চিনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উদ্বেগ সৃষ্টি করে। পাহাড়ে যে নতুন তৎপরতা তৈরি হয়েছে তার সমাধান রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে। গত শনিবার রাজধানীর বনানীতে সম্পাদকদের শীর্ষ সংগঠন এডিটরস গিল্ড আয়োজিত ‘অশান্ত পাহাড়ি জনপদ : সহিংসতা বনাম সম্প্রীতি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অথচ শান্তিচুক্তি হওয়ার পর এই হত্যাযজ্ঞ থেমে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনো সেই অস্ত্রের দামামা। চাঁদাবাজি ও অপহরণ বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে জেএসএস-ইউপিডিএফের মধ্যে কয়েক বছর ধরে চলছে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, তিন পার্বত্য এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ছয়টি সন্ত্রাসী সশস্ত্র সংগঠন। এরা হলো- জেএসএস, জেএসএস (সংস্কার), ইউপিডিএফ, গণতান্ত্রিক এমএনপি (মগ গণতান্ত্রিক পার্টি) এবং সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)। কেএনএফের ছত্রছায়ায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’। এতে জঙ্গি ও পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের অপরাধ কর্মকাণ্ডের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। ইতোমধ্যে পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২৬ বছরের বেশি সময় পার হয়েছে। চুক্তির ৭২টি ধারার ৪৮টিই পূর্ণাঙ্গ এবং ১৫টির আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে। ৯টি ধারা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াধীন। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষার হার বৃদ্ধিসহ পাহাড়িদের জীবনযাত্রার মানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু শান্তিবাহিনীর আদলে সশস্ত্র গ্রুপগুলো সক্রিয় রয়েছে। প্রতিনিয়ত খুন, ধর্ষণ, অপহরণ ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ করে চলেছে এসব গ্রুপ। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এক-দশমাংশ ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত তিন জেলার মোট আয়তন ৫ হাজার ৫০০ বর্গমাইল। জনসংখ্যা মাত্র ১৬ লাখ। এর মধ্যে ৮ লাখ বাঙালি আর বাকি ৮ লাখ ১৩টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। শান্তিচুক্তির পর পাহাড়ের অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এমতাবস্থায় কিছুদিন পরপরই অশান্ত হয়ে উঠছে পার্বত্যাঞ্চল। রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলায় পাহাড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ঘটছে প্রাণহানি। পার্বত্যাঞ্চলে পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন আন্দোলনের নামে সক্রিয় আঞ্চলিক সংগঠনগুলো নিজেরাই পারস্পরিক দ্ব›েদ্ব লিপ্ত থাকছে সবসময়। আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিনিয়ত চলছে বন্দুকযুদ্ধ ও অপহরণের ঘটনা। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ঐকমত্যের সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় সে সময়কার বিচ্ছিন্নতাবাদী শান্তি বাহিনীর ২ হাজার সশস্ত্র কর্মী অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। অবসান ঘটে অব্যাহত রক্তপাতের। দুঃখজনক ব্যাপার, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এখনো এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের দিকে সবসময় বন্দুক তাক করে থাকছে। প্রায়ই শোনা যাচ্ছে পাহাড়ি জনপদে অপহরণ, রক্তাক্ত সংঘর্ষ, জমি দখলের খবর। পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে সরকারকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। আঞ্চলিক গ্রুপগুলোর সন্ত্রাসী তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা দিতে হবে। পার্বত্য শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করে এর সুফল দৃশ্যমান করতে হবে পার্বত্যবাসীর কাছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App