×

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

করোনার টিকা নিয়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

নতুন করে গবেষণা জরুরি

Icon

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নতুন করে গবেষণা জরুরি
করোনা মহামারির ভাইরাস থেকে মুক্তি দিয়েছে কোভিড ভ্যাকসিন বা টিকা। মহামারির ভয়াবহতায় পুরো বিশ্ব উদ্বেগে ছিল। দীর্ঘ হচ্ছিল মৃত্যুর মিছিল। তখন আশার আলো নিয়ে আসে অ্যাস্ট্রাজেনেকা, ফাইজার, মর্ডানা ও জনসনের মতো টিকা। এবার সেই টিকা নিয়ে শরীরে বিভিন্ন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার অভিযোগ উঠছে। এমতাবস্থায় বৈশ্বিকভাবে নিজেদের সব করোনা টিকা প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ওষুধ ও টিকা প্রস্তুতকারী কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই কোম্পানির কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি এ টিকার বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ও বিতর্ক তৈরি হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক এ কোম্পানি। বাংলাদেশের মানুষকে সাড়ে ৫ কোটির বেশি ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা দেয়া হয়েছে। এই টিকা গ্রহণকারীদের দেহে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে কিনা তা খুঁজে দেখতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়টি জোরেশোরে সামনে আসায় উৎকণ্ঠায় আছেন এই টিকাগ্রহীতারা। এমন ঘটনায় টিকাগ্রহীতারা উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় থাকবে এটাই স্বাভাবিক। চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নয়, করোনার আরো যেসব টিকা দেয়া হয়েছে সব টিকারই কম-বেশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। অনেক রোগীও পাওয়া গেছে। তারা বিভিন্ন ধরনের জটিলতায় ভুগছেন। সুতরাং বলা যায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সব টিকাতেই রয়েছে। বিবৃতিতে অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোম্পানি বলেছে, ২০২০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ছাড়পত্র পাওয়ার পর এক বছরে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩০০ কোটি করোনা টিকার ডোজ ব্যবহার করা হয়েছে পৃথিবীজুড়ে। এসব টিকার ডোজ প্রাণ বাঁচিয়েছে বিশ্বের ৬৫ লাখেরও বেশি মানুষের। বিভিন্ন দেশের সরকার আমাদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে এবং করোনা মহামারি দূর করতে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তা বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত। করোনা মহামারির সময়ে যে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ছিল এখন আর তা নেই। ‘করোনা ভাইরাস’ নামের ভাইরাসটির বিস্তার প্রতিরোধে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে ২০২০ সালের শেষ দিকে যে টিকা বাজারে এনেছিল অ্যাস্ট্রাজেনেকা, সেই ভাইরাসটি এখন প্রায় নিষ্ক্রিয়, এমনকি মূল ভাইরাসটি থেকে যেসব ভ্যারিয়েন্ট ভাইরাসের উদ্ভব হয়েছে সেগুলোও এখন আর প্রাণঘাতী নয়। বিশ্ব গণমাধ্যমগুলো বলছে, কোভিশিল্ড ও ভ্যাক্সজেভরিয়া নামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনার টিকা সরবরাহ করেছে অক্সফোড অ্যাস্ট্রাজেনেকা। তবে এই টিকা নিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ এসেছে অনেক। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার শিকার হয়ে ২০২০ সালের টিকাদান কর্মসূচির শুরু থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ অভিযোগ মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে। আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে অনেক পরিবার। একই অভিযোগে ব্রিটিশ হাইকোর্টে অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিরুদ্ধে প্রায় ১০ কোটি পাউন্ড দাবি করে ৫১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাংলাদেশে করোনার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টিকা গ্রহণ-পরবর্তী শারীরিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর রয়েছে। টিকাগ্রহীতার মধ্যে ভুলে যাওয়া প্রবণতা বাড়ছে। অনেকের সামান্য পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠা, শারীরিক দুর্বলতা, ঘুম কমে যাওয়া, অবসাদগ্রস্ততা, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের সমস্যা দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা টিকা গ্রহণকারীদের বিষয়ে নির্দেশনা সংশ্লিষ্টরা গুরুত্ব দিয়ে আমলে নিতে হবে। পাশাপাশি এ টিকা নেয়ার কারণে সাময়িক বা দীর্ঘমেয়াদি কোনো প্রভাবের সুযোগ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। সর্বোপরি টিকা নিয়ে নতুন করে গবেষণাও জরুরি মনে করছি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App