×

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

জুবায়ের আহমেদ

চালু হোক ২৫০ গ্রাম মাংস বিক্রি

Icon

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চালু হোক ২৫০ গ্রাম মাংস বিক্রি
ভোজনরসিক হিসেবে বাঙালির পরিচিতি আছে। কোনো উৎসব-অনুষ্ঠানের প্রয়োজন নেই, শুধু খাওয়ার ইচ্ছে জাগা থেকেই উদরপূর্তি করতে পারদর্শী। রোজগার থেকে দৈনন্দিন সব চাহিদা মিটিয়ে কিছু সঞ্চয় করা জরুরি হলেও আমাদের দেশে ঋণ করে ঘি খাওয়া, আনন্দ উৎসব করা এবং বিলাসী বহু আয়োজন করার ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। বাংলাদেশে খাদ্য অপচয়ও হয় ব্যাপক। খাদ্য ও আনন্দপ্রিয় মানসিকতার মাঝেই একটা সময় পর্যন্ত বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ ছিল অসহায়, দরিদ্র ও মঙ্গাকবলিত একটি দেশ। বর্তমান বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে খেলাধুলাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এগিয়ে গেলেও দারিদ্র্য এখনো বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে বড় একটা অংশের দৈনন্দিন বাস্তবতা, যারা দৈনিক ভিত্তিতে কিংবা মাসিক স্বল্প মজুরিতে কাজ করে মানবেতর জীবনযাপন করে। ধনী ও গরিবের মধ্যে অর্থনৈতিক তফাত দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, ধনী আরো ধনী হচ্ছে, গরিব গরিবই থাকছে। নাগরিকদের মাঝে এই অর্থনৈতিক বৈষম্যের মাঝেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে পৃষ্ঠ হচ্ছে দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির নাগরিকরা। ধনী ব্যক্তিরা দ্রব্যমূল্য নিয়ে চিন্তিত না হলেও দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের চোখে-মুখে দ্রব্যমূল্য নিয়ে দীর্ঘশ্বাস। পাশাপাশি সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে খাদ্য ও শিক্ষা খাত নিয়ে চিন্তায় দিন কাটাতে হয় সাধারণ নাগরিকদের। বিশেষ করে দৈনন্দিন স্বাভাবিক খাদ্যের চাহিদার মধ্যে গরু-মহিষের মাংস, ইলিশ ও দেশীয় বিভিন্ন মাছ খেতে ইচ্ছে করলে পকেটের করুণ অবস্থা বিবেচনায় অনেকে গরু-মহিষের মাংস না নিয়ে ফার্মের মুরগিতেই সন্তুষ্ট থাকেন। অবশ্য ফার্মের মুরগির দামও এখন দরিদ্র মানুষের প্রায় নাগালের বাইরে। এক সময়ের ১২০ টাকা কেজির মুরগি এখন ২৩০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে নিয়মিত। ফলের ক্ষেত্রে একই অবস্থা। ২৫০ গ্রাম আঙুর অথবা ২ পিস আপেল, কমলা কিনতে চাইলে অনেকেই বিক্রি করতে চায় না। ক্রেতার দিকে করুণার দৃষ্টিতে তাকায় সবাই। বাংলাদেশে ১০ টাকার তেল, ৫ টাকার গুঁড়া দুধ কিংবা পরিমাণমতো শাকসবজি, মসলা কেনা যায় বহু আগে থেকেই; কিন্তু পরিমাণমতো গরু-মহিষের মাংস কিংবা মাছ কেনা যায় না। কেউ ৫০০ গ্রাম মাংস চাইলে তার দিকে করুণার দৃষ্টিতে তাকানো হয় এবং বহু দোকানি ১ কেজির কমে বিক্রি করেন না বলে কাস্টমারকে তাড়িয়ে দেন। পরিমাণমতো কেনার বিষয়টার সঙ্গে শুধু দারিদ্র্যই জড়িত নয়, অপচয় রোধের জন্যও পরিমাণমতো কেনার সুযোগ থাকা জরুরি। সব পরিবার বড় নয় এবং বহু পরিবারে ফ্রিজ নেই। ফলে ২-৩ জনের পরিবার অথবা ফ্রিজ না থাকা পরিবারের জন্য পরিমাণমতো কেনা এবং কেনার সুযোগ থাকা জরুরি। ৩ জনের পরিবার অথবা ব্যাচেলর নাগরিকদের জন্য পরিমাণমতো কেনা অত্যাবশ্যক। বাংলাদেশের মতো গরিব দেশেও খাদ্যপণ্যে ‘ফুটানি’ ভাব প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাওয়ার কারণে পরিমাণমতো বিক্রি হয় না বহু খাদ্যপণ্য। অনেকেই কিনতে চায় না এবং অনেকে কিনতে চেয়েও কিনতে পারে না। অথচ বাংলাদেশে যে পরিমাণ খাদ্য অপচয় হয়, তা রোধের জন্য পরিমাণমতো হিসাব করে পণ্য কেনাবেচার রীতি চালু হওয়া জরুরি। অসংখ্য পণ্য পরিমাণে ক্রয়-বিক্রয় হয়, এখন প্রয়োজন মাংস, মাছ ও ফল পরিমাণমতো কেনার সুযোগ তৈরি করা এবং ভারতসহ অন্যান্য দেশের মতো এই পরিমাণমতো ক্রয়-বিক্রয়কে স্বাভাবিকভাবে দেখা, যাতে করে কাউকে বিব্রত হতে না হয়। এ ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতার আন্তরিকতা জরুরি, বিশেষ করে দরিদ্র শ্রেণির ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে বিক্রেতারা পরিমাণমতো বিক্রির রেওয়াজ চালু করলে সব শ্রেণির মানুষের স্বাভাবিক চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি খাদ্যপণ্য অপচয় রোধ করা কঠিন কাজ হবে না। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও এ বিষয়ে ক্যাম্পেইন করে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উৎসাহিত করতে পারে। শিক্ষার্থী, ডিপ্লোমা ইন জার্নালিজম বিজেম, কাঁটাবন, ঢাকা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App