×

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

বজ্রপাতে প্রাণহানি

পরিকল্পিত উদ্যোগ জরুরি

Icon

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 পরিকল্পিত উদ্যোগ জরুরি
বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি বেড়েই চলেছে। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গত বৃহস্পতিবার ভোর থেকে স্বস্তির বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা কমার মধ্যেই এসেছে বজ্রপাতে প্রাণহানির খবর। বৃহস্পতিবার বজ্রপাতে কুমিল্লায় ৪ জন ও রাঙ্গামাটিতে ৩ জনসহ বিভিন্ন জেলায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এমন মর্মান্তিক ঘটনা প্রায়ই গণমাধ্যমে আমরা দেখছি। যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে হতাহতের এ হার ভয়াবহ। বজ্রপাত একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও বর্তমানে বজ্রপাতজনিত মৃত্যুর সংখ্যা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, বিষয়টি সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে। অস্বাভাবিক খরা, বন্যা, সামুদ্রিক জলোচ্ছ¡াস ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো বজ্রপাত বৃদ্ধির জন্যও ভূমণ্ডলের উষ্ণায়ন ও জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রবণতাকে দায়ী করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলেই বজ্রপাত ও এতে মৃত্যুর হার বেশি। গ্রামেগঞ্জে আজকাল তাল, নারিকেল, সুপারি, বট প্রভৃতির মতো বড় বড় গাছের অভাব, বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা না থাকা, কৃষি যন্ত্রপাতিতে ধাতব যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণেও বজ্রপাতের হার বাড়ছে। আবার আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, নদ-নদী শুকিয়ে যাওয়া, জলাভূমি ভরাট হওয়া আর গাছপালা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণে দেশে অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা এক থেকে দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গেছে। বিশেষ করে বর্ষা আসার আগে মে মাসে তাপমাত্রা বেশি হারে বাড়ছে। এতে বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। অতঃপর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থেকে ভেসে আসা আর্দ্র বায়ু আর উত্তরে হিমালয় থেকে আসা শুষ্ক বায়ুর মিলনে বজ্রমেঘ, বজ্রঝড় ও বজ্রপাতের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে বজ্রপাত বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা পরিসংখ্যান বা পত্রিকায় প্রকাশিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি বলেই ধরে নেয়া যায়। আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বে বজ্রপাতজনিত মৃত্যুর এক-চতুর্থাংশই ঘটে বাংলাদেশে। এখানে মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত বজ্রপাতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বজ্রপাত সবচেয়ে বেশি হয়। বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটার এলাকায় গড়ে প্রায় ৪০টি বজ্রপাত হয়ে থাকে। বর্ষার সময়ে বেশি বজ্রপাত হয় সুনামগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ, বরিশাল এবং উত্তরবঙ্গের রংপুর, পঞ্চগড় ও কুড়িগ্রামে। বর্ষাপরবর্তী অর্থাৎ অক্টোবর-নভেম্বরে পার্বত্য চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও কক্সবাজারে বজ্রপাত সবচেয়ে বেশি হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, মে মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টি হলেও তাপমাত্রা একটু বেশি থাকতে পারে। তবে তা এপ্রিলের মতো এত দীর্ঘ সময় ধরে থাকবে না। মে মাসে ৩ থেকে ৫ দিন হালকা ধরনের কালবৈশাখী হতে পারে। ২ থেকে ৩ দিন হতে পারে বজ্র ও শিলাবৃষ্টিসহ মাঝারি এবং তীব্র কালবৈশাখী। এ সময়ে সতর্কতা জরুরি। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে বজ্রপাতে ক্ষতির ঝুঁকি অনেক বেশি। এতে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বজ্রপাত সম্পর্কে সচেতন হলে এ দুর্যোগ থেকে অনেকাংশেই রক্ষা পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে গবেষণা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। বিশেষ করে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জনসাধারণকে সচেতন ও সজাগ করে তোলা প্রয়োজন, যাতে বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনা এড়ানো যায়। বজ্রপাত নিয়ে গবেষণার বিষয়টিকে সরকারের পক্ষ থেকেও গুরুত্ব দেয়া দরকার।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App