×

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

জন্মদিনে রক্ত দিন

Icon

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জন্মদিনে রক্ত দিন
নিজ শরীরের এক ব্যাগ রক্ত অসহায় মুমূর্ষু রোগীকে দান করার মধ্য দিয়ে জন্মদিন উদযাপন নিঃসন্দেহে একটি অনুপ্রেরণাময় কাজ। বিশেষ করে ১৯তম জন্মদিনে একজন তরুণ যখন এমন একটি মহৎ কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করে তখন মনে হয় এ দেশের মানুষের মানবিকতায় কোনোকালেই কমতি ছিল না কিংবা হারিয়েও যায়নি কখনো। ধারা পরম্পরায় এ দেশের মানুষ এমন মানবিকতাকে বুকের ভেতর পুষে রাখে এবং যথাসময়ে মানব কল্যাণে সেটি ব্যবহারও করে। এমন উদাহরণ অসংখ্য। গত ৩০ এপ্রিল ছিল রাজধানীর বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র গালিব বিন তৌহিদের ১৯তম জন্মদিন। এই বয়সের একজন তরুণ ছাত্র তথাকথিত প্রেমরোগে আক্রান্ত না হয়ে, কোনো নেশা বা ভার্চুয়াল ভাইরাসে বুঁদ না হয়ে যখন জন্মদিনে জীবনে প্রথমবার রক্তদানের মতো মানবিক কাজে জড়ায়, তখন ‘এ দেশ রসাতলে গিয়েছে, এ দেশ দিয়ে কিচ্ছু হবে না’ টাইপের নেতিবাচক সংলাপগুলোকে বুড়ো আঙুলই দেখানো হয়! ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে আশাবাদ আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দেশের মাটিতে বেঁচে থাকার নতুন উদ্দীপনা জাগে। গর্ব অনুভূত হয়। আমাদের দেশের স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের সংগঠন কোয়ান্টামের একটি সেøাগান- ‘১৯তম জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখুন প্রথমবার রক্তদানের মাধ্যমে।’ এমনই এক সেøাগানে উদ্বুদ্ধ হয়ে গালিবও অপেক্ষা করতে থাকে ১৯তম জন্মদিনের। এপ্রিলের শুরুতেই বাবাকে জানিয়ে রাখে তার ইচ্ছার কথা। বাবাও ছেলের এমন প্রস্তাবে মনে মনে ভীষণ খুশি হন। কাক্সিক্ষত দিনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে তরুণ। এবং যথাসময়ে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে স্মরণীয় করে রাখে নিজের ১৯তম জন্মদিন। জীবনের নতুন এক উপলব্ধি! অচেনা কোনো মুমূর্ষু রোগীর শরীরে বইবে নিজ শরীরের রক্ত। এ এক অপার আনন্দ! এ আনন্দ প্রকৃতিতে কোথাও জমা থাকবে। এটি হয়তো অন্য কোনো ফরমেটে ফিরে আসবে তরুণের জীবনে। ঘটনাটি ছোট। আর লেনদেনের বিষয়ও এটি নয়। একজন রক্তদাতা রক্ত দেবেন এটাই স্বাভাবিক। এটি নিয়ে কেন এত বিস্তারিত কথা! উত্তর একটাই। রাত দুপুরে এখনো একজন থ্যালাসেমিয়া রোগী এক ব্যাগ রক্তের জন্য অধীর অপেক্ষায় বসে থাকে। প্রতি সপ্তাহে ব্যাগের পর ব্যাগ রক্ত সংগ্রহের চেষ্টারত থাকেন অসংখ্য ডায়ালাইসিস রোগী। হুটহাট অপারেশন, আগুনে পোড়া কিংবা ডেঙ্গু রোগের প্লাটিলেটের প্রয়োজন যাদের হয়, তারাই জানেন রক্তের মর্ম এবং দেশে রক্তের চাহিদা কতখানি। কেউ না কেউ তো দিচ্ছেনই- এমন ভাবনায় সামর্থ্যবান অসংখ্য মানুষ রক্ত দিচ্ছেন না। জীবনে একবারও রক্ত দান না করা মানুষের সংখ্যাটাও নেহাত কম নয়। এর কারণ শুধু সম্মিলিত চিত্রটি সবার সামনে স্পষ্ট নয় বলে। সামগ্রিক সচেতনতাও সবাই উপলব্ধি করছেন না বলে। আসলে আমাদের দেশের ১৮-৬০ বছর বয়সি জনগোষ্ঠীর মাত্র কয়েক শতাংশ যদি শুধু তাদের জন্মদিনে রক্ত দেন, তাহলেই আমরা আমাদের প্রয়োজনের পুরোটাই মেটানো সম্ভব স্বেচ্ছা রক্ত দিয়ে। তাই জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখার এই আহ্বান এতটা জরুরি। যেহেতু রক্তের কোনো বিকল্প নেই। আর পর্যাপ্ত রক্তও যেহেতু আমাদের রয়েছে তাই সামর্থ্যবান প্রত্যেকেই নিজ জন্মদিনে রক্ত দান করলে সেবার আনন্দ যেমনি পাবেন তেমনি তার মনও তৃপ্তিতে ভরে উঠবে দেশের অগণিত রক্তগ্রহীতার জন্য। বিশেষ করে ১৯তম জন্মদিনে পা রাখা হে তরুণ! জন্মদিনে রক্ত দিন বাঁচান লাখো প্রাণ। তরুণরাই দেশের সংকটময় মুহূর্তে সবার আগে ঝাঁপিয়ে পড়েছে সবসময়। আর রক্তচাহিদা হঠাৎ আবির্ভূত কোনো বিষয় নয়, শুধু অসচেতনতা বা খেয়াল না করার কারণে গুরুত্বটা অনুভূত হচ্ছে না সেভাবে। তাই ভাবনার সুযোগ রয়েছে এখানে। সুচের সামান্য খোঁচা আর কয়েক মিনিটের মধ্যেই রক্ত চাহিদার মেটানোর বিষয়টি সহজ করে ভাববার সময়ও এসে গেছে। ১৮ বছর পূর্তি অর্থাৎ ১৯তম জন্মদিনকে প্রথমবার রক্তদানের মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখার পাশাপাশি রক্তদানের মতো একটি মহান-মানবিক কাজে তরুণ-তরুণীদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই অজেয় ১৯ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কোয়ান্টামের মতো রক্তদান কার্যক্রম সংগঠন। এতে প্রতিনিয়ত অংশ নিচ্ছে গালিবের মতো মানবিক তরুণ। আর সুস্থ সবল সামর্থ্যবান ব্যক্তি শুধু জন্মদিনে রক্ত দানের অভ্যাস করলেই অসংখ্য মুমূর্ষু কিংবা থ্যালাসেমিয়া রোগীর মুখে ফুটে উঠতে পারে নতুন জীবনের হাসি। জন্মদিনে রক্তদানের আহ্বানে সবাইকে শুভেচ্ছা। মোস্তাক আহমেদ : সাংবাদিক ও মোটিভেটর।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App