×

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

আসুন ঘৃণা করি

Icon

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আসুন ঘৃণা করি
সড়কে-মহাসড়কে মানুষ হত্যার মিছিল চলছে। অ্যাক্সিডেন্ট নামক হত্যাযজ্ঞের মিছিলের হোতা হচ্ছে গাড়ির অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন গাড়িসহ আরো অনেক কারণ। সেই কারণগুলোর জন্য কারা দায়ী? প্রথমত সরকার, সরকারি দপ্তর, যারা চালকের লাইসেন্স দেয়। আর চালকের যদি লাইসেন্সই না থাকে, যদি সেই লাইসেন্স ছাড়াই কোনো ফিটনেসবিহীন গাড়ির মালিকের কাছ থেকে যানবাহন পায়, তাহলে তার দায় হচ্ছে গাড়ির মালিকের। চলাচলের অযোগ্য গাড়ি কী করে মালিকের গ্যারেজে পড়ে থাকে? সেগুলো কেন ময়লা-আবর্জনার মতো গাড়ির স্তূপে যায় না? কেন সেগুলো ভারী যান্ত্রিক হাতুড়ির নিচে ফেলে দুমড়ে-মুচড়ে ফেলা হয় না? সেগুলো কেন মালিকরা মজুত রাখে সড়কে আবারো চালু করার জন্য? এবং কোকিলের মতো চোখ বুজে কাকের বাসায় ডিম পেড়ে যাওয়ার মতো সরকারও চোখ বুজে থাকে? জানেন তো কোকিল মনে করে, সে চোখ বুজে থেকে ডিম পারলে কেউ দেখবে না, জানবেও না। কিন্তু যখন কাকের বাসা থেকে কোকিলের ছানা উড়ে যায়, তখন চেনা যায় যে ওটা কাক শিশু নয়, কোকিলের। সরকারের বাসায়ও ঠিক একইভাবে নষ্ট গাড়ির, মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ির ডিপো থাকে। সরকার চোখ বুজে থাকায় তা বুঝতে/চিনতে পারে না। রাস্তায় নামলেই বোঝা যায়, ওই গাড়ি, চালক সবই অবৈধ ও অযোগ্য সড়কে চলার জন্য। এবং ওই গাড়িগুলো যখন হত্যা চালাতে থাকে, তখন পুলিশ খোঁজে চালককে। গাড়ির মালিকের জন্য তাদের কোনো উৎসাহ নেই। আর যারা হত্যার শিকার হলো, তাদের ব্যাপারে আহা-উহু করার পর আর কোনো বাণী আসে না। আন্দোলন করে যারা ওই সব হত্যার দাবি জানায়, পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হতে পারে অভ্যাসবশে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর লাঠিচার্জ করে, গুলি করে হত্যায় তারা সিদ্ধহস্ত, কেন না তারা সরকারের নির্দেশের উচ্ছৃঙ্খল জনতার (মিছিলকারীরা উত্তেজিত থাকে, উচ্ছৃঙ্খল নয়) ওপর গুলিবর্ষণ করে, তারা না জানলেও, অর্ডারে তারা অভ্যস্ত। পুলিশ এ কাজে খুব পারদর্শী। সে জানে গুলি করে মানুষ হত্যা করলেও সরকারে তাদের পুরস্কৃত করা ছাড়া বিচার করবে না। কারণ সে তো সরকারের নির্দেশেই ওই হত্যার কাজ করেছে। তাহলে দায়টি কার কাঁধে গিয়ে পড়ল? সরকারের। সরকার ওইসব হত্যাযজ্ঞ চালাতে নিত্যই অভ্যস্ত। বিরোধীদের ওপর চড়াও হও। যেন প্রতিবাদী বিরোধীরা মানুষ নয়, জড়বস্তু। প্রতিবাদ করাটা অন্যায়। প্রতিবাদের কোনো অধিকারই নেই বিরোধীদের, যারা প্রতিবাদ করছে তারা সমাজবিরোধী, তারা মিসক্রিয়েন্টস। মিসক্রিয়েন্ট হত্যা করলে তার জন্য বিচার নেই। এই মনন ধারাই আমাদের রাজনৈতিক সরকারের চেতনাজুড়ে পদ্মা-গঙ্গার মতো বিপুল ধারায় বহমান। একটি রিপোর্টের খণ্ডাংশ পড়ে আসি, দেখা যাক, সেখানে কী পাওয়া যায়। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে এবার ঈদযাত্রা নিরাপদ হবে। কিন্তু রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাব অনুযায়ী, ঈদের আগে ও পরের ১৫ দিনে ৩৫৮টি দুর্ঘটনায় ৩৬৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ৫০০ আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে ত্রæটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত সোমবার চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কাছে জিয়ানগর এলাকায় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে একটি বাস ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেলে থাকা দুই শিক্ষার্থী মারা যান। তারা হলেন চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত সাহা ও একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের তৌফিক হোসাইন। এ দুর্ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন করেন। তাদের দাবির মধ্যে আছে ক্যাম্পাসের পাশের চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক চার লেন করা, নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে দুই কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ, বাসের চালক ও মালিককে গ্রেপ্তার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা। ইতোমধ্যে বাসের চালককে গ্রেপ্তার করা হলেও মালিক ধরাছোঁয়ার বাইরে। মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়া বাসটির ফিটনেস ছিল না। ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে চুয়েট কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে। এতে ছাত্ররা ক্ষুব্ধ হয়ে ক্যাম্পাসে থাকা শাহ আমানত পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার ১৩ শতাংশই শিক্ষার্থী। সংখ্যার হিসেবে ২২৫ জন। অর্থাৎ দিনে গড়ে দুজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে সড়কে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদীউজ্জামান বলেন, সড়কে কর্মক্ষম ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের চলাচল বেশি, তাই সড়ক অব্যবস্থাপনার শিকারও তারা বেশি হচ্ছে। উল্লেখ্য, নিরাপদ সড়কের দাবিতে ২০১৮ সালে ছাত্রদের দেশকাঁপানো আন্দোলনের মুখে সরকার সড়ক পরিবহন আইন পাস করে, যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু আইনটি বাস্তবায়ন করা যায়নি পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের আপত্তির কারণে। ফলে সড়কে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা আরো বেড়েছে। এই অংশটুকু পাঠ করে বোঝা গেল সরকার আইন পাস করলেও তা কার্যকর করে না বা করতে পারে না। ২০১৮ সালে সরকার সড়ক পরিবহন আইন পাস করলে সর্বমহলে প্রশংসিত হয়। ওই পর্যন্তই। এর চেয়ে বেশি কিছু করতে পারেনি সরকার। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের আপত্তির কারণে ওই আইন সরকার কায়েম বা প্রয়োগ করতে পারেনি। সরকার পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের হাতে বন্দি বোঝা যায়। যখন একটি সরকার সড়কের পরিবহন ব্যবসায়ী ও তাদের নিয়োগ দেয়া শ্রমিকদের আপত্তির মুখে জনগণের নিরাপত্তা, জানমালের নিরাপত্তা দিতে কসুর করে, যখন সামান্য কিছু পরিবহন মালিকের কাছে আত্মসমর্পণ করেন, কয়েক লাখ শ্রমিকের কাছে মাথা নত করে, তখন আমাদের মনে হয়, সরকার ওদের জন্যই, ১৭ কোটি মানুষের জন্য নয়। ১৭ কোটি মানুষ যেন এই দেশেরই মানুষ নয়, ১২/১৩ কোটি মানুষ যে দেশের ভোটার, মানে সাবালক, তারা সরকারের কাছে গণ্য নয়, তাদের ভোট তো আর লাগে না। তাই পরিবহন মালিক আর হত্যাকারী চালক, শ্রমিকরাই তাদের রাজনৈতিক সহায়। এভাবেই একটি বা একাধিক গোষ্ঠীর হাতে বন্দি আমাদের রাজনৈতিক সরকার এবং তাদের ধুপদুরস্ত পোশাক পরিহিত নেতারা। তাদের চিন্তায় জনগণ নেই। তাদের চিন্তায় কেবল মারদাঙ্গা মানুষেরা, যাদের ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা যাবে। প্রতিদিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজেদের রাজনীতি ও উন্নয়নের ধারার বর্ণনা না দিয়ে প্রতিপক্ষ বিএনপির বিরুদ্ধে অকথ্য অঙ্গভঙ্গ করে চিবিয়ে চিবিয়ে কথা বলেন, তাতে মনে হয়, দেশের কোনো রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটই কোনো সমস্যা নয়, সমস্যা কেবল বিএনপি। বিএনপি নির্বাচনে নেই। উপজেলা নির্বাচনও তারা বর্জন করেছে। তারপরও তারাই সন্ত্রাসী কাজ করে সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী। ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা আওয়ামী লীগ সেই সময়ে যা যা করেছে, তারই বর্ণনা দেন ওবায়দুল কাদের বিএনপির নামে। অগ্নিসন্ত্রাসের কথা বলেন তিনি। কিন্তু সেই গানপাউডার আগুনের দায় যে বিহঙ্গ পরিবহনের মালিক দেবনাথের নির্দেশে করেছিল তারই লোকেরা, সেটা তো ভিডিও করে দেশবাসীকে জানিয়েছে দোষীরাই। তারপরও ওবায়দুল কাদের দোষ চাপান বিএনপির ওপর। নিজেরা করে দোষ চাপায় অন্যের ঘাড়ে- এই রাজনীতি পুরনো পাকিস্তানি রাজনীতির নগ্নতারই অপচ্ছায়া মাত্র। পাকিস্তানি শাসকরা তারা বিভিন্ন কারখানায় গোলমাল পাকিয়ে তুলে তার দায় ন্যাফ বা আওয়ামী লীগের কাঁধে চাপাতো। ইতিহাস সে সাক্ষী দেয়। এখন আওয়ামী নেতারা বলতে পারেন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সহীন চালক, অদক্ষ অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালকরা লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ি চালাচ্ছে, তারা বিএনপির লোক। ঈদের আগে ও পরের হত্যার পরিসংখ্যান দেখে আমাদের মনে হয়, ওই কাজে সরকারের এজেন্টরা মানুষ হত্যার জন্যই দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছিল। আর মালিকরা টু পাইস কামানোকে কয়েকশ কোটি টাকা হাতানোর পথ পেয়েছিল। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে গরিব শ্রমিকদের ওপর দোষ চাপিয়ে মালিকদের বাইরে রাখা হয়েছে। যদি ফিটনেসবিহীন গাড়ির মালিকদের বিনা বিচারে একযুগ কারাগারে রাখার বিধান করা হয়, তা হলে বোধহয়, মালিকদের টাকা কামানোর খায়েস কমবে। তার চেয়ে বড় কাজ হচ্ছে গোটা পরিবহন সেক্টরকে সন্ত্রাসী মুক্ত করা। রাজধানীসহ গোটা দেশের পরিবহনের অদক্ষ অযোগ্য ড্রাইভার/গাড়ি যদি বাতিল করে স্মাস করার কারখানায় পাঠানো হয়, তাহলেই কেবল সড়কে নতুন ও পরিবেশবান্ধব গাড়ি নামবে। অদক্ষ চালকের বিপরীতে দক্ষ যোগ্য চালকের চাকরি হবে। দক্ষ ও শিক্ষিত চালক ও শ্রমিকের কোনো বিকল্প নেই। সাংস্কৃতিকভাবে তাদের প্রশিক্ষিত করতে হবে। যেসব কারণে দুর্ঘটনা হচ্ছে, সেসব ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ানো। লাইসেন্সিং পয়েন্ট কেটে যাওয়ার ভয় এবং সারাজীবনেও আর সে লাইসেন্স পাবে না। পরিবহন সেক্টরের সার্ভারে যা যুক্ত থাকবে। চালকের এনআইডিসহ যাবতীয় তথ্য লিপিবদ্ধ থাকবে যেখানে, সেখানে প্রবেশ করলেই ভেসে উঠবে চালকের সব স্ট্যাটাস। ফলে তাকে কেউ পুনরায় লাইসেন্স দিতে পারবে না। পথে পথে লাইসেন্স যাচাই করার মেশিনের সাহায্যে যাচাই করা যাবে, ট্রাফিক পুলিশ যাচাই করবে ওই লাইসেন্স আপ টু ডেট আছে কিনা, এক্সপায়ার হয়ে গেছে কিনা, তাও যাচাই করে ঘুষ না খেয়ে তাকে আটক করাই হবে পুলিশের দায়িত্ব। এসবই সরকারের সততা, পুলিশের সততা, পরিবহন মালিকের সততা, চালক ও শ্রমিকের সততার ওপরই কেবল নির্ভর করে না, পরিবহন ব্যবহারকারীদের ওপরও অনেকটাই নির্ভরশীল। সরকার একা কোনো কিছু কায়েম ও প্রয়োগ করতে পারে না। সংশ্লিষ্ট সব মহলই তাকে সাহায্য করতে হয়। আমরা তো সে সবই চাই। যাতে কোনো হত্যাযজ্ঞ আর না হয়। আরেকটি অংশ পাঠ করি, যাতে আছে আরো কিছু বিষয়। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, এবার ঈদে দুর্ঘটনায় যে মানবসম্পদের ক্ষতি হয়েছে, তার আর্থিক মূল্য ১ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা। আমরা এও জানি, মানুষের জীবনের যে ক্ষতি, তা অর্থ দিয়ে পূরণ করা যায় না। তারপরও চুয়েট শিক্ষার্থীরা নিহত দুই সহপাঠীর পরিবারকে যে দুই কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছেন, তা দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি। এর আগেও আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিবহন মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সেটি উপেক্ষিত হয়েছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ও যাত্রী কল্যাণ সমিতি ঈদের ছুটিতে দুর্ঘটনার যে হিসাব দিয়েছে, তা পূর্ণাঙ্গ নয়। সাধারণত সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ওপর নির্ভর করেই তারা এই হিসাব দিয়ে থাকে। অনেক মৃত্যুর খবর সংবাদমাধ্যমে আসে না, থানায়ও রেকর্ড করা হয় না। এই যে ঈদের ছুটিতে সাড়ে ৩ শতাধিক মানুষ প্রাণ হারালেন, এজন্য পরিবহন মালিক ও চালকদের পাশাপাশি তদারকি সংস্থাও দায় এড়াতে পারে না। ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়কে নামার পরও বিআরটিএ কিংবা হাইওয়ে পুলিশ ব্যবস্থা নিল না কেন? ২০১৮ সালে ঢাকায় রমিজউদ্দিন স্কুল ও কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর ছাত্র-তরুণরা রাস্তায় নেমেছিল। সাড়ে ৫ বছর পর চুয়েটের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর আবার শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। এর শেষ কোথায়? সড়কে আর কত মানুষ মারা গেলে পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও বিআরটিএর ঘুম ভাঙবে? রিপোর্টের এই অংশ কি আমাদের বোধে কোনো কিছুর ধাক্কা পাই না। আপনার যে ভাই, ছেলে, বোন বা বন্ধু-বান্ধব বা পাড়া প্রতিবেশী বিআরটিএ ও হাইওয়ে পুলিশে কাজ করেন, তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করেন। তারা ঘুষের বিনিময়ে লাইসেন্স দেয় অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরকে, অদক্ষ চালককে। আর তাদের সহায়ক হচ্ছেন সড়কের ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ের পুলিশ। এরা ঘুষের বিনিময়ে হত্যাযজ্ঞ চালাতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করে। আসুন, আমরা এদের ঘৃণা করি। এদের সামাজিক কোনো অনুষ্ঠানে দাওয়াত না করি। এবং তাদের মুখের ওপর ঘুষখোর অমানুষ হিসেবে চিহ্নিত করি। ড. মাহবুব হাসান : সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App