×

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

নিষিদ্ধ পণ্য পলিথিনে বাজার সয়লাব

Icon

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 নিষিদ্ধ পণ্য পলিথিনে বাজার সয়লাব
পলিথিন যে এ দেশে অবৈধ কিংবা নিষিদ্ধ আজকাল সেটি বোঝার কোনো উপায় নেই। প্রতিদিনকার বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাতে হাতে পরিবেশ ও মানুষের জন্য ক্ষতিকর এ ব্যাগটি ব্যবহার করা হচ্ছে খুব সাধারণভাবে। এমনকি পাইকারি ও খুচরা দোকানগুলোতেও দেখতে পাওয়া যায় প্রকাশ্যেই। পলিথিনের শপিং ব্যাগ বা অন্য যে কোনো সামগ্রী যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, সেসব উৎপাদন, আমদানি, বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শন, মজুত, পরিবহন ইত্যাদি নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর ভিত্তিতে ২০০২ সালে আইন করা হয়। নিষিদ্ধ ঘোষণার ২২ বছর পরও বাজারে বা কোনো দোকানে গেলে পলিথিন নিষিদ্ধ হওয়ার আগের ও পরের সময়ে কোনো পার্থক্য বোঝা যায় না। আইন করে নিষিদ্ধ করার পরও বিষয়টি মারাত্মকভাবে গুরুত্ব হারিয়েছে বর্তমানে। প্রায় ৩ হাজার কারখানায় দিনে ১ কোটি ৪০ লাখ পলিথিন ব্যাগ উৎপাদিত হচ্ছে আজো। যা নানা কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাছাড়া এসবের কারখানাও গোপন না। ফলে যত্রতত্র পলিব্যাগের ব্যবহার বন্ধ হয়নি এমনকি উৎপাদন, সরবরাহও কমেনি। দেশে পলিথিন ও পলিথিনজাত দ্রব্যসামগ্রীর ব্যাপক ব্যবহারে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পলিথিন অপচনশীল বলে দীর্ঘদিন প্রকৃতিতে অবিকৃত অবস্থায় থেকে মাটিতে সূর্যালোক, পানি এবং অন্যান্য উপাদান প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে, যা পরিবেশ ও মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। পলিথিনের বহুবিধ ব্যবহারের কারণে মানবদেহে বাসা বাঁধছে ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগ; কিন্তু তার পরও পলিথিনের ব্যবহার কমছে না বরং দিন দিন বেড়েই চলছে। পাড়া-মহল্লার মুদি দোকান থেকে অভিজাত বিপণিবিতান সর্বত্রই পলিথিনের যথেচ্ছাচার। পলিথিনের ব্যবহার সাম্প্রতিক আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কোনো কার্যকর তৎপরতা এবং মনিটরিং না থাকায় নিষিদ্ধ পলিথিনে বাজার সয়লাব। পলিথিন ব্যবহারে নিষিদ্ধ আইন আছে, আইনে শাস্তির বিধানও রয়েছে; কিন্তু কেউ এসব আইন পরোয়া করছে না। এসব আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি হতে পারে এমন চিন্তাও কেউ করে না আজকাল। অথচ জনগুরুত্বপূর্ণ ও পরিবেশের ক্ষতিকর বিবেচনায় এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এ আইন সম্পর্কে দেশের মানুষের ব্যাপক সমর্থনও রয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে উদাসীন থাকার কারণে আইন সম্পর্কে জনগণ যেমন সচেতন নয় তেমনি এই আইন মানার প্রবণতাও কারো মধ্যে নেই। এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা এবং আন্তরিকতার বহু অভাব রয়েছে। মুনযরি আকলাম : কোরপাই, বুড়িচং, কুমিল্লা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App