×

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

ফিলিস্তিনে লঙ্ঘিত হচ্ছে মানবাধিকার

Icon

শেখ সালাহ্উদ্দিন আহমেদ

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ফিলিস্তিনে লঙ্ঘিত হচ্ছে মানবাধিকার
ফিলিস্তিন এখন এক রক্তাক্ত জনপদ। পরিস্থিতি এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, ফিলিস্তিনিরা বিপন্ন হয়ে পড়েছে। ইসরায়েলিদের নিষ্ঠুর নির্মম ও বর্বর হামলায় শিশুসহ হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হয়েছে। আল-আকসা মসজিদে অবস্থানরত জেরুজালেমের পূর্ব অংশের দাবিদার কেবলমাত্র ফিলিস্তিন। অথচ এই শহরকে পুরোপুরি নিজেদের করায়ত্তে করেছে ইহুদিরা। এ নিয়ে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুগের পর যুগ ধরে চলছে দ্ব›দ্ব-সংঘাত সহিংসতা। ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমে ইহুদি বসতি গড়তে শুরু করে। ১৯৮০ সালে জেরুজালেমকে রাজধানী ঘোষণা করে ইসরায়েল। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তখন তাদের সমর্থন দেয়নি। পশ্চিম তীর ও গাজায় ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনে প্রথম গণঅভ্যুত্থান বা ইন্তিফাদার সূচনা হয়েছিল ১৯৮৭ সালে। ১৯৯৩ সালে দুদেশের মধ্যে শান্তি চুক্তির মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটে। ওই শান্তি চুক্তি অনুযায়ী ফিলিস্তিনও চায় পূর্ণ জেরুজালেম তাদের রাজধানী হবে। কিন্তু সংকটের সমাধান হয়নি। আমেরিকা জোর গলায় মানবাধিকারের কথা বলে, অথচ তাদের ইন্ধন ও প্রশ্রয়ে সারাবিশ্বে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। এটা কথিত সভ্য দেশগুলোর ললাটে কলঙ্কের চিহ্ন হয়ে আছে। এই চিহ্ন মুছতে হলে তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় স্বীকার করে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। ইসরায়েল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মদতে গাজায় ধারাবাহিকভাবে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। এই হামলার প্রধান উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে দিয়ে ইসরায়েল কর্তৃক ফিলিস্তিনিদের সম্পূর্ণ আবাসভূমি দখল করে নেয়া। এই ইসরায়েলকে আবার মদত দেয়ার উদ্দেশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েল সফরে গিয়ে পূর্বের সব ইতিহাসের মধ্যে নিকৃষ্টতম উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী মদদের কারণে ইসরায়েল হামলা থামাচ্ছে না, যুদ্ধবিরতিও মানছে না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন, সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে বাংলাদেশের অকুণ্ঠ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আমরা সারা বিশ্বে সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশিরাও অবিলম্বে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের দাবির পাশাপাশি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী নির্যাতিত মানুষের পক্ষে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই আজ অবস্থান নিয়েছি। আমরা স্বাধীন, সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি সংহতি জানাই। পৃথিবীর সব মানুষের মতো ফিলিস্তিনিদেরও অধিকার আছে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ার। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত- গাজায় গণহত্যা বন্ধ এবং একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্তোনিও তাজানি উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এড়াতে আমরা সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই। ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এড়াতে উভয় পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। আমরা বিশ্বনেতাদের অভিমতের সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করি এবং আশা করতে চাই বিশ্বশান্তি শুধু নয়, নিজেদের স্বার্থেই দুই পক্ষ সংযম দেখাবে। শান্তির জন্য তার বিকল্প নেই। লেখক : সভাপতি, সাউথ এশিয়ান ল’ ইয়ার্স ফোরাম। ধফাংযবরশযংধষধযঁফফরহধযসবফ@মসধরষ.পড়স

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App