×

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

ড্যান্স অব ডেমোক্র্যাসি : ১৮তম লোকসভা নির্বাচন

Icon

প্রফেসর ড. অরুণ কুমার গোস্বামী

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ড্যান্স অব ডেমোক্র্যাসি : ১৮তম লোকসভা নির্বাচন
ভারতের নির্বাচন বিশাল, রঙিন এবং জটিল। এই নির্বাচনকে ‘গণতন্ত্রের নৃত্য’ বা ‘ড্যান্স অব ডেমোক্র্যাসি’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং এর সঙ্গে জোটবদ্ধ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) এই নির্বাচনে পুনরায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে যাচ্ছে, এই মর্মে একটি সাধারণ ধারণা ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিজেপি আশা করছে, ৫৪৩ আসনবিশিষ্ট লোকসভায় জোটবদ্ধভাবে তারা এবার ৪০০-র বেশি আসনে জয়লাভ করবে। তাদের সেøাগানও সেভাবে তৈরি করা হয়েছে, ‘এইবার, ৪০০ পার’। গত ১৯ এপ্রিল ২০২৪ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে ভারতের ১৮তম লোকসভা নির্বাচন। এই দিন ছিল প্রথম ধাপের নির্বাচন। এভাবে আরো ছয় ধাপে অর্থাৎ মোট সাত ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের লোকসভা নির্বাচনে ভোটারের মোট সংখ্যা প্রায় ৯৬ কোটি ৯০ লাখ। এর মধ্যে সাড়ে ৪৯ কোটির কিছু বেশি পুরুষ এবং ৪৭ কোটির কিছু বেশি নারী। ২০১৯ সালের শেষ নির্বাচনের পর থেকে ভারতে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ১৮ বছর বয়সে পরিণত হয়েছে এবং এখন তারা প্রথমবার ভোট দেয়ার যোগ্য হবে। আসমুদ্র হিমাচলব্যাপী এই নির্বাচন! বিশ্বের সব গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে থাকে। ‘গণতন্ত্রের উৎসব’ শব্দবন্ধের সীমানা ছাড়িয়ে ভারতের লোকসভা নির্বাচনকে এখন ‘গণতন্ত্রের নৃত্য’ বা ‘ড্যান্স অব ডেমোক্রেসি’ নামে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। যেহেতু ভারতের ‘গণতন্ত্রের নৃত্য’ সেহেতু বাংলাদেশের ভারতবিরোধী শক্তি এই নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখবে কী? সাইড লাইনের এসব ছোট ছোট মন্তব্য ছাড়াও শব্দগত ব্যবহার সম্পর্কিত একটি কথা এখানে উল্লেখযোগ্য। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন পিএইচডি গবেষক অভিমন্যু চন্দ্র ‘গণতন্ত্রের নৃত্য’ শব্দবন্ধকে ‘একটি মেয়াদোত্তীর্ণ এবং অতিরিক্ত রোমান্টিক শব্দ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে যুক্তি প্রদর্শন করেছেন। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের এ সম্পর্কিত একটি ব্লগে ক্রিস্টোফার ফিনিগান (২০১৯) অভিমন্যুর এই যুক্তি উল্লেখ করার পরও ভারতের সাধারণ নির্বাচনকে ‘গণতন্ত্রের নৃত্য’ নামেই অভিহিত করেছেন। উত্তরে হিমালয় থেকে দক্ষিণে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত, পূর্বের পাহাড় থেকে পশ্চিমে মরুভূমি পর্যন্ত এবং কংক্রিটের জঙ্গলে যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় শহর থেকে ক্ষুদ্রতম গ্রাম পর্যন্ত, ভারতীয় ভোটাররা এবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। তারা সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় ৫৪৩ জন রাজনীতিবিদকে নির্বাচন করবে। বিশ্বের খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যমে ভারতের এবারের লোকসভা নির্বাচনের সাতটি অতুলনীয় দিক তুলে ধরা হয়েছে। ৮২ দিন, সাত পর্ব ১৬ মার্চ ২০২৪ তারিখ শনিবার থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি ৪ জুন ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ৮২ দিন চলবে। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে একটি আদর্শ আচরণবিধিও চালু হয়- প্রচারের নিয়ম এখন প্রযোজ্য এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার অনুমিত নয় ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে এমন নতুন নীতি ঘোষণা করতে। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার বলেছেন, ১৯ এপ্রিল থেকে ১ জুন পর্যন্ত সাতটি ধাপে ভোট চলবে। ভোট গণনা ৪ জুন অনুষ্ঠিত হবে। অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, উড়িষ্যা এবং সিকিম রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনও জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। ১৯ এপ্রিলের পরে, দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৬ এপ্রিল, তৃতীয় ধাপে ৭ মে, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে, পঞ্চম ধাপে ২০ মে, ষষ্ঠ ধাপে ২৫ মে এবং সপ্তম ধাপে ১ জুন ২০২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট ভারতের আইনসভার নিম্নকক্ষ লোকসভার মোট সদস্য সংখ্যা ৫৪৩। মোট ৩৩টি অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে বিভক্ত ৫৪৩টি আসনে চলবে এই ভোটগ্রহণ পর্ব। সে অনুযায়ী শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) প্রথম দফায় দেশটির ১৭টি রাজ্য ও চারটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ১০২টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া অরুণাচল প্রদেশের ৬০টি ও সিকিমের বিধানসভার ৩২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে, যে দিনগুলোতে ভোট প্রসারিত হয়েছে তার সংখ্যা অনেক পরিবর্তিত হয়েছে- ১৯৮০ সালে সবচেয়ে কম চার দিন থেকে ২০১৯ নির্বাচনে ৩৯ দিন, ২০২৪ সালে ৪৪ দিন। ভারতের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এন গোপাল স্বামীর মতে, বহুমুখী নির্বাচনের প্রাথমিক কারণ হলো ভোট-সম্পর্কিত সহিংসতা বা কারচুপির প্রচেষ্টা থেকে সবকিছু পরীক্ষা করার জন্য বিশাল ফেডারেল নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা। তবুও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো নিশ্চয়তা নয়, কারণ দীর্ঘ প্রচারণা দিনের ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে, বলেছেন এন ভাস্করা রাও, নয়াদিল্লিভিত্তিক সেন্টার ফর মিডিয়া স্টাডিজের চেয়ারম্যান এবং ভারতে নির্বাচনী গবেষণায় অগ্রগামী। রাও যুক্তি দিয়েছিলেন, প্রক্রিয়াটি সংক্ষিপ্ত করা উচিত। প্রক্রিয়া যত দীর্ঘ হবে, ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে প্রচারে সরকারি অবকাঠামো ব্যবহার করার সুযোগ তত বেশি হবে। ৯৬ কোটি ৯০ লাখ ভোটার ভারতের নির্বাচকমণ্ডলীর আয়তন ইউরোপের সব দেশের মিলিত জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। তারা ১০ লাখ ৫০ হাজার ভোটকেন্দ্রে ৫ লাখ ৫০ হাজার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভারতীয় ভোটাররা ভোট দেবেন, যার মধ্যে কিছু হিমালয়ের তুষার-ঢাকা পর্বত, রাজস্থানের মরুভূমি এবং ভারত মহাসাগরের বিরল জনবহুল দ্বীপে অবস্থিত। নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ভোটকর্মী এবং নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করবে। তারা হিমবাহ ও মরুভূমি পেরিয়ে, হাতি ও উটে চড়ে এবং নৌকা ও হেলিকপ্টারে করে ভ্রমণ করবে, যাতে প্রত্যেক ভোটার তাদের ভোট দিতে পারে। ৯ হাজার ৪৪০ কোটি রুপি নির্বাচনী ব্যয় এটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভোটারদের আকৃষ্ট করার জন্য রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের খরচ করার জন্য সম্ভবত ৯ হাজার ৪৪০ কোটি রুপি খরচ হবে। ভারতে ২০১৯ সালের নির্বাচনে খরচ হয়েছিল ৭ হাজার ২০০ কোটি রুপি, এবারের খরচ তার তুলনায় অনেক বেশি। ২০২০ সালে মার্কিন রাষ্ট্রপতি এবং কংগ্রেসের প্রতিযোগিতায় মোট ব্যয়ও ছিল ১৪৪০ কোটি রুপি। ভারতের নির্বাচনী ব্যয়ের অধিকাংশই প্রকাশ করা হয় না। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে প্রার্থীরা হিসাবহীন অর্থ ব্যয় করছেন। নগদ লেনদেন শনাক্ত করার ক্ষেত্রে নির্বাচনী স্ক্রুটিনি মেশিন দুর্বল। প্রার্থীরা সরাসরি ভোটারদের অর্থ বা অন্যান্য প্রলোভনে ঘুষ দেয়ার চেষ্টা করে। উপহার হিসেবে মদ থেকে পরিধেয় বস্ত্র পর্যন্ত দেয়া হয়। ১৫ হাজার ২৫৬ ফুট উঁচুতে পোলিং বুথ আয়তনের ভিত্তিতে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম দেশে নির্বাচন করা একটি জটিল কাজ। ২০১৯ সালে নির্বাচনী কর্মীরা চীনের সীমান্তবর্তী উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশে একজন ভোটারের ভোট গ্রহণার্থে- একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপনের জন্য চার দিন ধরে ৩০০ মাইল (৪৮২ কিলোমিটার) পথ পাড়ি দিয়ে পাহাড়ি রাস্তা এবং নদী উপত্যকা পেরিয়েছেন। ভারত-চীন সীমান্তবর্তী এই স্থানে নির্বাচন নিশ্চিত করা নয়াদিল্লির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনী কর্মকর্তারা হিমাচল প্রদেশের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যের একটি গ্রামে ১৫ হাজার ২৫৬ ফুট (৪ হাজার ৬৫০ মিটার) উপরে একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করেছেন। এটিকে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভোটকেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হয়। ভারতের পূর্ব উপকূলের অদূরে, প্রত্যন্ত আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে, ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য কুমির-আক্রান্ত ম্যানগ্রোভ জলাভূমি এবং ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে ভোটকর্মীদের ভ্রমণ করতে হয়। উড়িষ্যার মালকানগিরি জেলায়, যেখানে বামপন্থি মাওবাদী যোদ্ধাদের উপস্থিতি রয়েছে, ভোটদান কর্মীরা ভোট দেয়ার পর বিদ্রোহীদের হাত থেকে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন রক্ষা করতে বন ও পাহাড়ের মধ্য দিয়ে ১৫ কিলোমিটার (৯ মাইল) হেঁটেছেন। গাড়ি ব্যবহার করলে সন্ত্রাসীদের সহজ টার্গেট হতে পারার আশঙ্কার ব্যাপারে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সতর্কতার কারণে ভোটকর্মীদের এভাবে পায়ে হেঁটে দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হয়। ২ হাজার ৬৬০টি দল একটি বহুদলীয় গণতন্ত্র, ভারতে প্রায় ২ হাজার ৬৬০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে। নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতাকারী দলগুলো প্রতিটি প্রতীক পায়; যেমন ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির পদ্ম, বিরোধী কংগ্রেস দলের হাত এবং অন্যান্য। একটি হাতি থেকে একটি সাইকেল এবং একটি তীর থেকে একটি চিরুনি। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়া ফুল। এগুলো ভোটারদের সহজেই প্রার্থীদের শনাক্ত করতে সাহায্য করে, এমন একটি দেশে যেখানে প্রায় এক-চতুর্থাংশ জনসংখ্যা শিক্ষিত নয়। ২০১৯ সালে সাতটি জাতীয় দল, ৪৩টি রাষ্ট্রীয় দল এবং ৬২৩টি অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। রাষ্ট্রীয় আইনসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদচিহ্ন রয়েছে এমন দলগুলো রাষ্ট্রীয় দল হিসেবে স্বীকৃত। একাধিক রাজ্যে যাদের অর্থবহ উপস্থিতি রয়েছে, তারা জাতীয় দলের ট্যাগ পান। ৫২-এর বিপরীতে ৩০৩ ২০২৪ সালের যুদ্ধের প্রধান নায়ক হলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং তার বিজেপি, যারা তিন ডজনেরও বেশি দলের জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন; এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতৃত্বে প্রায় দুই ডজন দলের জোট। ২০১৯ সালে বিজেপি ৩০৩ আসন নিয়ে বিজয় অর্জন করেছে। এর জোটের মোট আসন ছিল ৩৫৩টি। কংগ্রেস দল জিতেছে ৫২টি আসন এবং ৯১টি শরিকদের। বর্তমানে বিজেপি সাম্প্রতিক রাজ্য বিজয়ের পরে মেরু অবস্থানে রয়েছে এবং জনমত জরিপ অনুসারে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের আশা করা হচ্ছে। বিজেপি একাই ভারতের ২৮টি রাজ্যের ১২টি নিয়ন্ত্রণ করছে, যখন কংগ্রেস তিনটি রাজ্যে শাসন করছে। তবুও ভারতীয় রাজনৈতিক ইতিহাসে দলগুলো প্রধান রাজ্যের নির্বাচনে জয়লাভ করার দৃষ্টান্তে ভরা আছে শুধু জাতীয় ভোটে হেরে যাওয়ার জন্য। বিজেপি সবচেয়ে ভালো জানে : ২০০৪ সালে তার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ী কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের কাছে লোকসভা ভোটে হেরে যাওয়ার আগে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়ের গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য নির্বাচনে জয়লাভ করার পর আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়েছিলেন। ৩৭০ বা ৪০৪ মোদি বিজেপির জন্য ৩৭০টি আসনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, ২০১৯ সালের তুলনায় ৬৭টি বেশি এবং তার জোটের জন্য ৪০০ আসন অতিক্রম করে। তিনি তৃতীয় মেয়াদে পদ পেতে চাইছেন। শেষবার ১৯৮৪ সালের নির্বাচনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী হত্যার পর কংগ্রেস পার্টি ৪১৪টি আসন জিতেছিল। মোদি যদি জয়ী হন এবং পাঁচ বছর পূর্ণ করেন, তাহলে তিনি হবেন ভারতের ইতিহাসে তৃতীয় দীর্ঘতম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু প্রায় ১৬ বছর ৯ মাস একটানা শাসন করেছিলেন, যখন তার কন্যা ইন্দিরা গান্ধী মোট প্রায় ১৫ বছর ১১ মাস শাসন করেছিলেন। শুধু ভারত বর্ষের সাধারণ নির্বাচনকে বোঝানোর জন্য ‘গণতন্ত্রের উৎসব’ পরিবর্তিত (ট্রান্সফরম) হয়ে ‘গণতন্ত্রের নৃত্যে’ পরিণত হওয়ার বিষয়টি ‘প্যারাডাইম শিফট’ লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ সংসদীয় নির্বাচনের বিশালত্বের পাশাপাশি ভারতের প্রাকৃতিক ও বহুধাবিভক্ত নাগরিক সমাজের বৈচিত্র্য এবং প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণেই মূলত ‘উৎসব’ শব্দের পাশাপাশি ‘নৃত্য’ শব্দ ব্যবহৃত হচ্ছে। এভাবে ভারতের ‘গণতন্ত্রের নৃত্যের’ শৈল্পিক রূপ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রফেসর ড. অরুণ কুমার গোস্বামী : পরিচালক, সেন্টার ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ, ঢাকা; সাবেক চেয়ারম্যান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। ফৎমড়ংধিসর৬১@ুধযড়ড়.পড়স

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App