×

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

সোহেল রানা

তাপদাহ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ অপরিহার্য

Icon

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে কিছু দিন ধরে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। তীব্র তাপদাহের কারণে জনজীবন হয়ে পড়েছে চরম দুর্বিষহ ও বিপর্যস্ত। আশঙ্কাজনক হারে এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণ হচ্ছে নগরায়ণ, শিল্পায়ন, দূষণ, কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ, ক্লোরা ফ্লোরো কার্বন নিঃসরণ ও অতিরিক্ত বননিধন। বর্তমানে মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা কমাতে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ। অন্যথায় পৃথিবীতে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই অতিরিক্ত নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও বননিধন বন্ধে পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে বৃক্ষ রোপণ করতে হবে। গাছ ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে নেয় এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে। ফলে উষ্ণায়নের গতি কিছুটা ধীর থাকে। একটি দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় মোট ভূখণ্ডের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ বনজ সম্পদ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বনভূমির প্রয়োজন মোট ভূমির ২৫ শতাংশ। সরকারি হিসেবে দেশে মোট বনভূমির পরিমাণ প্রায় ১৭ শতাংশ। জনপ্রতি বনভূমির পরিমাণ প্রায় ০.০২ হেক্টর মাত্র। আমাদের দেশে প্রয়োজনের তুলনায় বনভূমির পরিমাণ অনেক কম, যা প্রতিনিয়ত কমছেই। ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেশেও উষ্ণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার কারণে দেখা দিচ্ছে খরা, ঘূর্ণিঝড় ও প্রচণ্ড তাপদাহের মতো প্রাকৃতিক নানা দুর্যোগ। এসব দুর্যোগ থেকে বাঁচতে গাছ লাগানো ছাড়া বিকল্প নেই। বায়ুমণ্ডল থেকে ক্ষতিকর উপাদান শোষণ করতে প্রচুর পরিমাণে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। যত বেশি গাছ লাগানো হবে, তত বেশি পৃথিবী থেকে কার্বন শোষিত হবে। বাংলাদেশে প্রান্তিক এলাকার বাইরে এক বিশাল অংশজুড়ে রয়েছে শহর। এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ঢাকা শহরের প্রায় ৬০ শতাংশ জায়গায় কংক্রিটের কাঠামো রয়েছে, যা শহরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করছে। অধিক জনসংখ্যা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যানবাহন, জলাধার ও গাছপালা কমে যাওয়ার কারণে ঢাকার পরিবেশ দূষণ বিশ্বের অন্যান্য বড় শহরের তুলনায় অনেক বেশি। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকাকে বসবাসের উপযোগী করতে হলে গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি ঢাকা শহরের সব ছাদে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো যায়, তবে তাপমাত্রা প্রায় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমানো যেতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ছাদবাগান আছে এ রকম দালানের কক্ষের ভেতরের তাপমাত্রা গ্রীষ্মকালে ১ থেকে ১ দশমিক ২৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত কমায়। ছাদবাগান করার কারণে আশপাশের এলাকায় কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ প্রায় ৭০ পিপিএম পর্যন্ত কমে যায়। একদিকে যেমন ছাদের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলবে, তেমনি রক্ষা করবে পরিবেশের ভারসাম্য। প্রয়োজনবোধে একদিকে গাছ কেটে উপকার করা হলেও অন্যদিকে পর্যাপ্ত নতুন গাছ না লাগানোর কারণে পরিবেশ হয় মারাত্মক ক্ষতি। তাছাড়া রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিবর্গ ও প্রভাবশালী মহলের সুবিধার জন্য অপ্রয়োজনে অনেক গাছ কাটতে দেখা যায়। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি এবং বন্যার মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যর্থতার পেছনে এই বৃক্ষ নিধনযজ্ঞ গুরুত্বপূর্ণ কারণ। সম্প্রতি তীব্র তাপদাহের কারণে জনজীবন হয়ে পড়েছে চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি। বৃক্ষ নিধনযজ্ঞ বন্ধ করার পাশাপাশি রোপণ করতে হবে গাছ। অন্যথায় আমাদের মোকাবিলা করতে হবে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা বোঝানোর মাধ্যমে বৃক্ষ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে সর্বস্তরের জনগণকে। সোহলে রানা : লেখক, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। ংড়যবষৎধযধ৬৫@মসধরষ.পড়স

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App