×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

অর্থ শিল্প বাণিজ্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন

সুতা আমদানি বেড়েছে ১৩ শতাংশ

তীব্র গ্যাস সংকটে ব্যাহত হচ্ছে সুতা উৎপাদন

Icon

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সুতা আমদানি বেড়েছে ১৩ শতাংশ

কাগজ ডেস্ক : দেশের টেক্সটাইল এবং স্পিনিং মিলগুলো দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকটের কারণে সুতা উৎপাদন করতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে ফেব্রিক এবং পোশাক প্রস্তুতকারীরা চাহিদা মেটাতে বিকল্প উৎসের দিকে ঝোঁকায় সুতা আমদানি প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল মেয়াদে পোশাক শিল্প ২ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সুতা আমদানি করেছে, যার পরিমাণ তার আগের ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার।

পোশাক রপ্তানিকারকরা বলছেন, পোশাকশিল্প দ্বিমুখী ধাক্কার সম্মুখীন হচ্ছে। বিদ্যমান ডলার সংকট সত্ত্বেও আমদানি বাড়াতে বাধ্য হয়েছে স্থানীয় টেক্সটাইল মিল ও পোশাক উৎপাদনকারীরা। সরকারি প্রণোদনায় সাম্প্রতিক কাটছাঁট এ আমদানিকে আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিদেশি সুতার ওপর এ নির্ভরতা তৈরি পোশাক খাতের মূল্য সংযোজনে ক্ষতি করতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে গ্যাস সরবরাহ সংকটও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হয়ে উঠেছে। সাধারণত গার্মেন্টস এবং টেক্সটাইল মিলগুলো সম্পূর্ণ সক্ষমতায় চালানোর জন্য প্রায় ৮-১০ পিএসআই (পাউন্ড পার স্কোয়ার ইঞ্চি) গ্যাসের চাপ প্রয়োজন।

তবে কারখানাগুলোতে দিনের বেলায় গ্যাসের চাপ ১-২ পিএসআই-এ নেমে আসে। এটি উৎপাদনকে তীব্রভাবে প্রভাবিত করছে। প্রধান শিল্প অঞ্চলগুলোতে রাত পর্যন্তও গ্যাসের পরিস্থিতি এমন থাকে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। গ্যাসের স্বল্প চাপের কারণে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কারখানা উপায়ন্তর না দেখে কেবল ৪০ শতাংশ সক্ষমতায় কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিল্প মালিকরা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন- টঙ্গী, জয়দেবপুর, শ্রীপুর, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, পলাশ, মাধবদী, মদনপুর, সাভার এবং আশুলিয়ার মতো এলাকায় গ্যাস সংকট বিশেষভাবে তীব্র।

পোশাক রপ্তানিকারকরাও টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিলগুলোর এসব চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, গ্যাস এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘœতা পোশাক কারখানাগুলোতেও উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, নারায়ণগঞ্জ এলাকায় কুরবানির ঈদের আগে গ্যাসের চাপ শূন্যের কোঠায় থাকলেও এখন তা কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩-৪ পিএসআই-এ। তারপরও এ চাপ সব মেশিন পরিচালনার জন্য অপর্যাপ্ত। এতে তাদের লিড টাইমেও চাপ পড়ছে। ফলে বেশির ভাগ ডাইং কারখানা ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় কাজ করছে।

এদিকে গত ৩০ জুন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা একটি সার্কুলার অনুসারে, স্থানীয় রপ্তানিমুখী টেক্সটাইল মিলগুলোর জন্য নগদ প্রণোদনা ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে দেড় শতাংশ করা হয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে এ প্রণোদনার হার ছিল ৪ শতাংশ।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এ নগদ প্রণোদনার কার্যকর হার হবে ১ দশমিক ২ শতাংশ। কারণ এটি এফওবি-ভিত্তিক (ফ্রি অন বোর্ড) মূল্যের ৮০ শতাংশে গণনা করা হয়। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, পোশাক রপ্তানিকারকদের মাধ্যমে স্পিন মিল মালিকরা এ প্রণোদনা পান। যখন আমরা (গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা) স্থানীয় সুতা ক্রয় করি, তখন মিল মালিকরা টাকা নেয়ার সময় নগদ প্রণোদনার হিসাব করে নেন। কিন্তু পোশাক রপ্তানিকারকরা তাদের প্রণোদনা এক থেকে দেড় বছর পরে পেয়ে থাকেন।

এছাড়া এ প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। অর্থাৎ পোশাক রপ্তানিকারকদের কম প্রণোদনাপ্রাপ্ত স্থানীয় সুতার চেয়ে আমদানি করা সুতা বেছে নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মোহাম্মদ হাতেম আরো বলেন, স্থানীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা-সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সরকারি নীতিগুলো সংশোধন করা না হলে তৈরি পোশাকশিল্প একটি ‘আমদানিনির্ভর রপ্তানি শিল্প’ হয়ে উঠতে পারে।

জায়ান্ট গ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আমরা সাধারণত সবচেয়ে ভালো সুতা আমদানি করি, যার দাম স্থানীয় সুতার তুলনায় প্রতি কিলোগ্রামে ৪০-৪২ সেন্ট কম। তবে ভবিষ্যতে স্থানীয় সুতার সঙ্গে খরচের পার্থক্য কমে ২০-২৫ সেন্টে নেমে এলেও আমরা সুতা আমদানি করব।

সাধারণত নিটওয়্যার তৈরিতে ব্যবহৃত একটি ৩০/১ কাউন্টের সুতার দাম এক মাস আগে প্রতি কেজি ৩ দশমিক ৭০ ডলার ছিল। কিন্তু এখন তা ৩ দশমিক ২০ থেকে ৩ দশমিক ২৫ ডলারে নেমে এসেছে। এদিকে ভারতীয় মিল মালিকরা একই সুতা আরো কম দামে ২ দশমিক ৯০ দশমিক ২ দশমিক ৯৫ ডলারে দিচ্ছেন। পোশাক রপ্তানিকারকরা কস্ট-বেনিফিট বিবেচনা করে অবশ্যই সুতা আমদানির দিকে যাবেন বলেও উল্লেখ করেন এ ব্যবসায়ী।

তবে বিটিএমএর কর্মকর্তারা জানান, উৎপাদন খরচ ও তুলা আমদানি ব্যয় বিবেচনায় স্থানীয়ভাবে তৈরি সুতার দাম কম। সরবরাহ সমস্যা বহাল থাকায় গ্যাসের পুরনো দাম চায় বিটিএমএ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App