×

অর্থ শিল্প বাণিজ্য

আরো তেল-সার কিনছে সরকার

পদ্মা নদী শাসনে ব্যয় আরো বাড়ছে

Icon

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : সরকার ৩০ হাজার টন ইউরিয়া সার ও ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য ৩ কোটি ৩০ লাখ লিটার তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সার কেনা হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগেøাব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের কাছ থেকে আর স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে কেনা হবে তেল। অন্যদিকে পদ্মা বহুমুখী সেতুর নদী শাসনে নতুন করে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ২৪৯ কোটি ৪২ লাখ ৫২ হাজার ৩৪৯ টাকা।

গতকাল শনিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান এ তথ্য জানান। তিনি জানান, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ৬টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি, সেতু বিভাগের একটি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে দুটি এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি। সবগুলো প্রস্তাব মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন দিয়েছে।

সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান জানান, রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগেøাব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের কাছ থেকে ৩০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে। এ সার আমদানিতে ব্যয় হবে ১১৪ কোটি ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রতি টন সারের দাম পড়বে ৩২২ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার- যা আগে ছিল ২৭১ দশিক ৫০ মার্কিন ডলার।

টিসিবির জন্য ৪৯৩ কোটি ১৪ লাখ ১০ হাজার টাকার সয়াবিন তেল ও রাইস ব্রান অয়েল কেনার বিষয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে ৩৩১ কোটি ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার সয়াবিন তেল এবং ১৬২ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার রাইস ব্রান অয়েল রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এ তেল কেনা হবে। ২ কোটি ২০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনা হবে। প্রতি লিডার সয়াবিন তেলের দাম ধরা হয়েছে ১৫০ টাকা ৪৮ পয়সা। এতে ২ কোটি ২০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কিনতে খরচ হবে ৩৩১ কোটি ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ১ কোটি ১০ লাখ লিটার রাইস ব্রান তেল কেনা হবে। প্রতি লিটার ১৪৭ টাকা ৩৫ পয়সা হিসাবে এ রাইস ব্রান তেল কিনতে খরচ হবে ১৬২ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এই বৈঠকে পদ্মা বহুমুখী সেতুর নদী শাসনে ব্যয় আরো একদফা বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে এ খাতে ব্যয় ২৪৯ কোটি ৪২ লাখ ৫২ হাজার ৩৪৯ টাকা বাড়ানো হয়। এতে পদ্মা সেতুর নদী শাসনের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৮৩৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪৫ হাজার ৩৪৯ টাকা।

পদ্মা সেতুসংলগ্ন নদী শাসন কাজের উদ্দেশ্যে চূড়ান্ত দরপত্র গ্রহণ করা হয় ২০১৪ সালের ১৯ জুন। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশে ওই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের নদী শাসন কাজের জন্য চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো করপোরেশনকে নিয়োগ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি অনুমোদন দেয়া হয়।

এরপর সিনোহাইড্রো করপোরেশনের সঙ্গে ২০১৪ সালের ১০ নভেম্বর ৪৮ মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্যে চুক্তি সই হয়। যার চুক্তিমূল্য ৮ হাজার ৭০৭ কোটি ৮১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৬ টাকা। পরে কয়েক দফায় সময় বাড়ানো হয়। এ কাজ তদারকির জন্য কন্সট্রাকশন সুপারভিশন কনসালটেন্ট হিসেবে কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস নিয়োজিত আছে।

পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ার পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে পদ্মা বহুমুখী সেতুর নদী শাসনের ব্যয় ৮৭৭ কোটি ৫৩ লাখ ৫১ হাজার ৫৫৩ টাকা বাড়ানো হয়। এতে ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ পদ্মা সেতুর নদী শাসনের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৯ হাজার ৫৮৫ কোটি ৩৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। এখন দ্বিতীয় দফায় পদ্মা সেতুর নদী শাসনের ব্যয় ২৪৯ কোটি ৪২ লাখ ৫২ হাজার ৩৪৯ টাকা বাড়ানো হলো। এতে মোট ব্যয় বেড়ে দাঁড়ালো ৯ হাজার ৮৩৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪৫ হাজার ৩৪৯ টাকা। সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৪ শেষ হচ্ছে। তার মানে আজ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। নদী শাসনের কাজ করছে চীনের সিনোহাইড্রো করপোরেশন। তাদের কাজ সমাপ্তির তারিখ ছিল ৩০ জুন ২০২৩। ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড এক বছর। তার মানে তাদের কাজ শেষ হবে আজ।

তিনি বলেন, এ সময়ে ঠিকাদারকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়েছে। একটা হলো প্রকল্পের জাজিরা প্রান্তে নদী শাসন কাজের সীমানায় অবস্থিত কাঁঠালাবাড়ি ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট এবং আশপাশের প্রায় এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে নৌযোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করার জন্য বিআইডব্লিউটিএ থেকে জায়গা পেতে বিলম্ব হয়েছে। এতে তিন বছরের বেশি সময় বিলম্ব হয়েছে। আরেকটি কারণ হলো কাজ করতে যাওয়ার সময় ডিজাইন চূড়ান্ত হওয়ার পর মাওয়া প্রান্তে মূল সেতুর ওজনে নদী শাসন কাজের সীমানা বরাবর ২০১২ সালে নদীর প্রচণ্ড স্রোতে নদীভাঙন হয়ে ঠিকাদারের কাজের কিছু অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ফলে ডিজাইন পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে ডিজাইন তৈরিতে বিলম্ব হয়। এ কারণে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব দাখিল করেছে, জানান সচিব মাহমুদুল হোসাইন খান।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App