×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

অর্থ শিল্প বাণিজ্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য

সঞ্চয়পত্র বিক্রি আরো কমেছে

Icon

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ ডেস্ক : চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দশ মাসে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি নেগেটিভ (নেতিবাচক) ১৪ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য থেকে এসব জানা গেছে।

মূলত- ব্যাংক আমানতের সুদহার বেড়ে যাওয়া এবং সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে নানা রকম বিধিনিষেধের কারণে গ্রাহকরা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। সরকারের সঞ্চয়পত্রের নিট ঋণ ২০২২-২৩ অর্থবছরের (জুলাই-এপ্রিল) শেষে ছিল নেগেটিভ ৩ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা।

সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও ব্যাংকারদের দেয়া তথ্যমতে, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে নানা রকম বিধিনিষেধের কারণে এ স্কিমে গ্রাহকদের আগ্রহ কমেছে। এছাড়া বিনিয়োগের সুদহার কমছে। তারা জানিয়েছেন, মধ্যম আয়ের লোকজন এ খাতে বেশি বিনিয়োগ করত। গত দেড় বছরে টানা মূল্যস্ফীতির কারণে এসব গ্রাহকদের বিনিয়োগ কমে গেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সরকারের সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ হাজার কোটি টাকা। যদিও সংশোধিত বাজেটে সরকার ঋণের লক্ষ্যমাত্রা পুনর্নির্ধারণ করেছে নেগেটিভ ৭ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সরকার ঘাটতি বাজেট মেটাতে সরকার এ খাত থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা নিট ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে।

২০২৪ সালের এপ্রিল মাসের শেষে সঞ্চয়পত্রে সরকারের মোট বকেয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৫২ লাখ কোটি টাকা। যদিও ২০২৩-২৪ এর শুরুতে জুনে এর পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৬০ লাখ কোটি টাকা।

এ ব্যাপারে জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, সঞ্চয়পত্র ঋণ কমে যাওয়ার কারণে সরকার এ অর্থবছরের ঋণের লক্ষ্যমাত্রা অনেকটা কমিয়ে দেয়ায় ঋণও কম নিয়েছে। এ সময়ে যাদের বিনিয়োগের মেয়াদ শেষে হয়েছে তাদের আসল ও সুদসহ ফিরিয়ে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের আরো বেশ কিছু কারণও রয়েছে। ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদহার অনেক বেড়েছে, এছাড়া গ্রাহকরা সরাসরি ট্রেজারি বিল বন্ডেও বিনিয়োগ করতে পারছে।

সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তরের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, সঞ্চয়পত্রে আগের মতো গ্রাহকরা পেনশনের পুরোটা বিনিয়োগ করতে পাড়ছে না। এছাড়া আগে নামে-বেনামে গ্রাহকদের বিনিয়োগ ছিল। এখন সব বিনিয়োগ করতে টিআইএন সার্টিফিকেট (ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) দিতে হচ্ছে যার কারণে বিনিয়োগ অনেকটা কমে গেছে।

তিনি আরো বলেন, ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে এনআইডি ও টিআইএন জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা শুরু হয়। ফলে যারা আগে সঞ্চয়পত্র কিনেছিলেন, তাদের অনেকেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে নতুন করে আর এতে বিনিয়োগ করেননি।

এছাড়াও উৎসে কর কর্তন বৃদ্ধি, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার হ্রাস, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং ব্যাংক আমানতের ওপর সুদের হার বৃদ্ধি এ খাতে গ্রাহকদের অনীহা বাড়িয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ঋণ শর্তের মধ্যে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সরকারের ঋণবিষয়ক শর্তও রয়েছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সঞ্চয়পত্রকে সরকারের মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের এক-চতুর্থাংশের মধ্যে রাখতে হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App