×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

অর্থ শিল্প বাণিজ্য

পাহাড় এখন মৌসুমি ফলের দেশ

Icon

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পাহাড় এখন মৌসুমি ফলের দেশ

কাগজ প্রতিবেদক, রাঙ্গামাটি : চলতি বছর পাহাড়ে মৌসুমি ফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে সমৃদ্ধ হচ্ছে গোটা অঞ্চলের অর্থনীতি। টসটসে রসালো, দেখতে আকর্ষণীয়, খেতেও মজাদার- এমন সব মিশ্র ফলের উৎপাদন হয়েছে পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়গুলোতে। তাই সহজেই পাওয়া যাচ্ছে দেশি-বিদেশি আম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, লটকন, ড্রাগন, রামবুটান, জাম, গাবসহ বিভিন্ন প্রজাতির মৌসুমি ফল।

এসব ফল শুধু রাঙ্গামাটির হাটবাজারে নয়, মিলছে অপর দুই পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে। মিশ্র ফলের রসালো গন্ধ সুবাস ছড়াচ্ছে পাহাড়ি জনপদে। এখন কাঁচা-পাকা ফলে ভরপুর পাহাড়ের হাটবাজার। আম, কাঁঠাল, লিচু আর আনারসের সয়লাব পাহাড়জুড়ে। প্রতিদিন বসছে এসব মৌসুমি ফলের হাট।

এতে ক্রোতাদের আকর্ষণ যেমন বেশি, তেমনি লাভবান হচ্ছেন বিক্রেতারা। দামও সাধ্যের মধ্যে। পার্বত্যাঞ্চলের গণ্ডি পেরিয়ে এসব বাহারি ফল বাজারজাত হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। রপ্তানির সঙ্গে আয়ও বাড়ছে কৃষকদের। শুধু হাটবাজারে নয়, অনলাইনেও ব্যবসা জমে উঠেছে এসব মৌসুমি ফলের। রাঙ্গামাটি জেলা কৃষি তথ্য সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য সূত্রে জানা গেছে, উপযুক্ত আবহাওয়ার কারণে দেশের পার্বত্যাঞ্চল অর্থাৎ তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের আম, কাঁঠাল, আনারস, লিচুর প্রচুর ফলন এসেছে। তার মধ্যে রাঙ্গামাটি জেলা সদর, নানিয়ারচর, বিলাইছড়ি, কাপ্তাই, কাউখালী, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু, বাঘাইছড়ি, রাজস্থলী উপজেলাসহ বিভিন্ন জায়গায় এসব মিশ্র ফলের বাগান রয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যান মতে, রাঙ্গামাটি জেলায় মিশ্র ফলের আবাদ হয়েছে ৩০ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। তার মধ্যে আমের বাগান রয়েছে হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৬২০ হেক্টর। এসব বাগানে এবার প্রায় ৯ দশমিক ৮ টন আমের উৎপাদন হয়েছে। তার মধ্যে রেগুয়াই ও আম্রপালির বাম্পার ফলন হয়েছে। এছাড়া পাহাড়ে ফলন ভালো হওয়ায় দেশি জাতের পরিবর্তে এখন অধিক চাষাবাদ হচ্ছে চায়না-২, চায়না-৩ জাতের লিচুর। বোম্বে লিচুর ফলনও হচ্ছে উচ্চমাত্রায়।

শুধু রাঙ্গামাটি জেলায় লিচুর বাগান রয়েছে ৯ হাজার ৯০০ হেক্টর। চলতি বছর লিচুর উৎপাদন হয়েছে ৯ দশমিক ৫০ টন। একই সঙ্গে আনারস ১১ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে। আর কাঁঠাল আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টন।

এ ব্যাপারে রাঙ্গামাটির স্থানীয় মৌসুমি ফলচাষি ও ব্যবসায়ী সুশান্ত তঞ্চঙ্গ্যা ভোরের কাগজকে বলেন, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সোনা রাম কাউরি পাড়া এলাকায় প্রায় ১৫ একর হেক্টর জমিতে মিশ্র ফলের বাগান করেছেন তিনি। ফলও হয়েছে বাম্পার। তবে কৃষকদের চাহিদামতো মিলছে দাম। অধিক লাভের আশায় কম দামে ফল কিনতে চান বেপারিরা।

রাঙ্গামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন মৌসুমি ফলের ব্যাপক চাষাবাদ হচ্ছে। ফলনও হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রার অধিক। বিশেষ করে উন্নত চাষাবাদের কারণে পাহাড়ে সব মৌসুমে যে কোনো মৌসুমি ফল পাওয়া যায় এ পার্বত্যাঞ্চলে। এজন্য পাহাড়কে এখন মৌসুমি ফলের রাজধানী বলা হচ্ছে। কৃষকরা যদি আরো একটু সচেতন হয়, তাহলে এসব ফল উৎপাদন ধরে রাখা সম্ভব হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মো. মোশারফ হোসেন খাঁন বলেন, এ সম্ভাবনাময় কৃষি খাতকে উন্নয়নশীল করতে পার্বত্যাঞ্চলে মৌসুমি ফল সংরক্ষণ ও কৃষকদের স্বার্থে হিমাগার স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App