×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

অর্থ শিল্প বাণিজ্য

সংবাদ সম্মেলন

লুব্রিক্যান্টের বেশি শুল্কায়নে ডলার পাচারের শঙ্কা

Icon

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের চেয়ে লুব্রিক্যান্ট আমদানি শুল্কায়ন মূল্য বেশি নির্ধারণ করায় বছরে ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা পাচার হওয়ার আশঙ্কা করছে লুব্রিক্যান্টস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। তাই আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিটন লুব্রিক্যান্টের আমদানি শুল্কায়নমুল্য ২ হাজার ডলার নির্ধারণের দাবি জানান তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ জমসের আলী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. আসলাম পারভেজ, মো. আবুল কাশেম জামাল, মো. জাকির হোসেন, খোরশেদ আলম হাওলাদার, মো. মামুন মুন্সী, মো. মোকছেদুর রহমান ও আনাস মাহমুদ আসলাম প্রমুখ।

ব্যাবসায়ীরা বলেন, আরব আমিরাত, মালয়েশিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে প্রতি বছর ১ লাখ ৭০ হাজার টন বিভিন্ন ধরনের লুব্রিক্যান্ট আমদানি করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব লুব্রিক্যান্টের দাম প্রতি টন ১ হাজার ৭০০ ডলার থেকে ২ হাজার ডলার পর্যন্ত। অথচ চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে শুল্কয়ন মূল্য ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ ডলার দেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়ায় সুযোগ রয়েছে। প্রস্তাবিত শুল্কায়ন মূল্য বহাল থাকলে প্রতি বছর ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বা ৩৪ কোটি ডলার পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ফিনিশড লুব্রিক্যান্টস আমদানিকারকদের এ সংগঠন জানায়, দেশে বার্ষিক প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টন লুব্রিক্যান্টের চাহিদার রয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ ফিনিশড লুব্রিক্যান্টস যোগান দেয় আমদানিকারকরা। এ সেক্টর থেকে প্রতি বছর সরকার প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে।

লিখিত বক্তবে সংগঠনের সভাপতি মো. জমসের আলী বলেন, সরকার ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিটন ফিনিশড লুব্রিক্যান্টের ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য নিধারণ করেছে মিনারেলের ক্ষেত্রে ৩ হাজার ডলার ও সিনথেটিক লুব্রিক্যান্টস অয়েলের ক্ষেত্রে ৫ হাজার ডলার। এ ফিনিশড এবং সিনথেটিক লুব্রিক্যান্টসের প্রকৃত বাজার মূল্য ১ হাজার ৭০০ এবং ২ হাজার ডলার, সে হিসেবে ফিনিশড লুব্রিক্যান্টসের শুল্কায়ন মূল্য ৭০ শতাংশ এবং সিনথেটিক লুব্রিক্যান্টস শুল্কায়নমূল্য ১৫০ শতাংশ বেশি ধরা হয়েছে। বাজার মূল্য থেকে শুল্কায়ন মূল্য বেশি হওয়ায় প্রতি টনে ১ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ডলার পাচার করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এতে সরকারি সুবিধায় ওভার ইনভয়েসের সুযোগ থাকায় ডলার পাচার নিশ্চিতভাবে বাড়বে বলে আশঙ্কা করেন জামসের।

তিনি আরো বলেন, লুব্রিক্যান্টসের অতিরিক্ত শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণের কারণে পরিবহন, বিদ্যুৎ, কৃষি উৎপাদন ও গার্মেন্টস শিল্পে খরচ বৃদ্ধি পাবে। পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেলে এর প্রভাব পড়বে সব নিত্যপণ্য সামগ্রীতে। এতে উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পাবে, ফলে পণ্যের মূল্যও বাড়বে। সরকারের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ব্যর্থ হবে। অর্থ পাচার রোধ, বাজার মূল্যর সঙ্গে সামঞ্জস্যতা রক্ষা, পরিবহন, কৃষি, বিদ্যুৎ খাতে মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ন্যায্যতার জন্য ফিনিশড লুব্রিক্যান্ট অয়েলের প্রস্তাবিত বাজেটে বাজার মূল্যের অতিরিক্ত শুল্কায়ন পরিবর্তন করে প্রকৃত শুল্কায়ন মূল্য ২ হাজার ডলার নির্ধারণ করার দাবি জানান তিনি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App