×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

অর্থ শিল্প বাণিজ্য

অর্থবছরের ১১ মাস

রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি

Icon

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি

কাগজ প্রতিবেদক : চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশের বিভিন্ন পণ রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৫ হাজার ১৫৪ কোটি ২৭ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ কম। এ সময়ে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ২০০ কোটি ডলার।

ফলে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অর্থবছরের শেষ মাস জুনে আয় করতে হবে ১ হাজার ৪৫ কোটি ডলার, যা এর আগে কোনো একক মাসে সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়।

তথ্যমতে, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্প রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ কম আয় করেছে। ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত আয় করেছে ৪ হাজার ৩৮৫ কোটি ডলার অথচ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৭৪৭ কোটি ডলার। পুরো অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ২২৭ কোটি ২০ লাখ ডলার।

জানা গেছে, বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও নি¤œতম মজুরি বাড়ার কারণে পোশাকশিল্পের উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বাড়লেও দাম বাড়েনি, বরং কমেছে। পাশাপাশি আগের তুলনায় ক্রয়াদেশও কমেছে।

হোম টেক্সটাইল খাতে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০৯ কোটি ডলার। ১১ মাসে আয় হয়েছে ৭৭ দশমিক ৬ কোটি ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০ দশমিক ৪১ শতাংশ কম। তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে ১৪ দশমিক ১৭ শতাংশ। ১২২ কোটি ৬১ লাখ ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় করেছে ৯৬ কোটি ১৪ লাখ ডলার।

তবে প্রধান রপ্তানি খাতের মধ্যে বেশির ভাগই নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির মধ্যে থাকলেও কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের রপ্তানি আয় ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। জুলাই-মে মাসে কৃষিপণ্যের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। পুরো অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ৯৩ কোটি ৪৪ লাখ ডলারের বিপরীতে ১১ মাসেই আয় হয়েছে ৮৪ কোটি ৬৩ লাখ ডলার।

প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি থাকলেও লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে ১১ দশমিক ০১ শতাংশ। ১১ মাসে আয় হয়েছে ২২ কোটি ২২ লাখ ডলার। পূর্ণ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৭ কোটি ৫ লাখ ডলার।

পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয় নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। ১১ মাসে আয় হয়েছে ৭৮ কোটি ৪৬ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ কম।

নন লেদার জুতার আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি রয়েছে। জুলাই-মে মাসে আয় হয়েছে ৪৬ কোটি ৩৩ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি। তবে এটি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ কম। হিমায়িত ও জীবিত মৎস্য খাত থেকে রপ্তানি কমেছে ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। পুরো অর্থবছরের ৪৭ কোটি ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১১ মাসে আয় হয়েছে ৩৪ কোটি ৫ লাখ ডলার।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, কয়েকটি দেশে মূল্যস্ফীতির কারণে পোশাক পণ্যের চাহিদা কমেছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ক্রেতারা কার্যাদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে কিছুটা রক্ষণশীল মনোভাব দেখাচ্ছে। ফলে তৈরি পোশাকসহ সব পণ্যের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এদিকে ব্যবসায়ী নেতারা জানান, নতুন অর্থবছরে কীভাবে রপ্তানি আয় বাড়ানো যায়, সেদিকে নজর দিতে হবে। এ জন্য সরকারকে বাজেট পাস করার আগে রপ্তানিবান্ধব কিছু উদ্যোগ যুক্ত করা এবং কিছু প্রস্তাবিত কর প্রত্যাহার করতে হবে।

তারা জানান, বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং নতুন নতুন মার্কেট খুঁজে বের করতে প্রণোদনা দিতে হবে। সেই সঙ্গে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করতে হবে। তাছাড়া প্রতিযোগীদের সঙ্গে মূল্য সক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

এদিকে বিশ্বব্যাপী চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা কমার কারণে রপ্তানি আয়ে একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিবেশবান্ধব করার জন্য রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সাভারে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা চামড়াশিল্পকে সম্পূর্ণভাবে পরিবেশবান্ধব করতে পারিনি। পরিবেশ রক্ষায় যে নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়, তা পরিপালনে ব্যর্থতার কারণে বৈশ্বিক ক্রেতারা পণ্য নিতে আগ্রহী নন। কেউ আবার ভালো দাম দিতে চান না। ফলে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় নেতিবাচক।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App