×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

অর্থ শিল্প বাণিজ্য

ছয় শতাংশ হারে ঋণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন

Icon

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : এসএমই ফাউন্ডেশনের ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় রিভলভিং ফান্ড থেকে তৃতীয় দফায় ৪৫০ কোটি টাকা ঋণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন। অর্থ বিভাগের নতুন পরামর্শ অনুযায়ী, এই ঋণের সুদের হার হবে মাত্র ৬ শতাংশ।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) ফাউন্ডেশনের ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় রিভলভিং ফান্ড হতে তৃতীয় দফায় ঋণ বিতরণের উদ্দেশ্যে গত মঙ্গলবার রাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এসএমই ফাউন্ডেশনের চুক্তি স্বাক্ষর হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা।

এসএমই ফাউন্ডেশনের ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় রিভলভিং ফান্ড হতে তৃতীয় দফায় ৪৫০ কোটি টাকা ঋণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন। একজন উদ্যোক্তা সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। তবে মূলধনি যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা। অর্থ বিভাগের নতুন পরামর্শ অনুযায়ী, এই ঋণের সুদের হার হবে মাত্র ৬ শতাংশ। এজন্য ২৩টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ঢাকা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, দি প্রিমিয়ার ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স ও ইউনাইটেড ফাইন্যান্স।

এ সময় সিনিয়র সচিব বলেন, আগামীর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবসহ এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের এখন থেকে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। রপ্তানি আয় বৃদ্ধিসহ বিশ্ববাজারে আমাদের পণ্যের প্রচার-প্রসারের জন্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পেটেন্ট ও মান নিশ্চিতকরণ জরুরি। এ বিবেচনায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও), পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) এবং বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের (বিএবি) দায়িত্বশীল ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের শিল্পবান্ধব নীতিকাঠামো ও যথাযথ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে টেকসই শিল্পায়নের পথে দেশ ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ১১২ দশমিক ২৪ শতাংশ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। বিগত ৬৩ বছরের মধ্যে এ বছর সর্বোচ্চ ২৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৩০ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। তাছাড়া এ বছর প্রায় একর প্রতি ১৭ মেট্রিক টনের স্থলে ৮২ মেট্রিক টন পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে আখ উৎপাদন হওয়ায় প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি বেশি উৎপাদন হয়েছে এবং চামড়া শিল্পে ১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার রপ্তানি আয় অর্জিত হয়েছে। বিগত ২০০৯-২০২৩ সময়ে এ মন্ত্রণালয় হতে ১৭টি আইন, ২৩টি নীতিমালা, ১২টি বিধিমালা ও ৬টি গাইডলাইন প্রণয়ন ও হালনাগাদ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সিনিয়র সচিব আরো বলেন, বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে বাইরে রেখে সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। পুরুষের পাশাপাশি মূলধারার অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে নারী উদ্যোক্তাদের অবস্থান আরো শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এসএমই ফাউন্ডেশনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে। মুক্তবাজার অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, সময়োপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর টেকসই উন্নয়ন, জেন্ডার গ্যাপ নিরসন তথা নারীর অর্থনৈতিক সামর্থ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগের কার্যক্রম বিন্যস্ত করা হয়েছে।

এসএমই ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আবদুর রহমান খান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাহউদ্দিন মাহমুদ। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন এবং সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আফজাল করিম।

এ সময় বিশেষ অতিথি বলেন, ‘ক্রেডিট হোলসেলিং’-এর মতো একটি বিশেষায়িত কর্মসূচির মাধ্যমে এসএমই ফাউন্ডেশন ২০০৯ সাল হতে সিএমএসএমইদের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে জামানতবিহীন ঋণ দিয়ে আসছে। সিএসএমই খাতের আর্থিক সংকটাপন্ন উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পুনর্জীবনে সরকারের দেয়া প্রণোদনা প্যাকেজের ৩০০ কোটি টাকা বিতরণ সম্পন্ন হলে সেই অর্থ থেকে একটি রিভলভিং ফান্ড গঠন করা হয়। যেখানে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ বিতরণের হার ২৫ শতাংশ এবং ম্যানুফেকচারিং ও সার্ভিস খাতে ঋণ বিতরণ ৭৫ শতাংশ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App