×

অর্থ শিল্প বাণিজ্য

পুঁজিবাজার চিত্র

সূচক ৪২ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন

Icon

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সূচক ৪২ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন

কাগজ প্রতিবেদক : ভয়াবহ দরপতনের মধ্যে পড়েছে দেশের পুঁজিবাজার। গত কয়েক কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবারও বড় দরপতন হয়েছে। প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি কমেছে সবকটি মূল্যসূচক। এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ৪২ মাস বা সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বনি¤œ অবস্থানে নেমে গেছে।

আগে থেকেই পতনের মধ্যে থাকা পুঁজিবাজারে পতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট। পুঁজিবাজারে ক্যাপিটাল গেইনের ওপর ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবের পর এখনো পর্যন্ত লেনদেন হওয়া তিন কার্যদিবসেই দরপতন হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিত্রে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স প্রত্যারের দাবি জানিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

সংগঠনটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেছেন, চার বছর ধরে শেয়ারবাজারের অবস্থা খারাপ। আমরা চার বছর ধরে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় পাচ্ছি না। এ পরিস্থিতিতে বাজারে সাপোর্ট দেয়ার কথা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের। তবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা রুগ্ন হয়ে পড়েছেন।

তিনি বলেন, ২০১০ সাল থেকেই আমরা সমস্যার মধ্যদিয়ে যাচ্ছি। ১৪ বছরে বাজার স্থিতিশীল করতে পারিনি। একটি প্রজন্ম বাজারবিমুখ হয়ে পড়ছে। যে হারে বাজারে পতন হচ্ছে এর কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে। বিনিয়োগকারীদের ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ডিবিএ সভাপতি বলেন, পুঁজিবাজারের মূল সমস্যা ভালো পণ্যের অভাব। গত ১৫ বছর ধরে ১-২টা ছাড়া আমাদের বাজারে ভালো কোনো কোম্পানি আসেনি।

এদিকে গতকালের বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার মাধ্যমে। এতে লেনদেনের শুরুতেই সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। তবে মাঝে কিছু সময়ের জন্য সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। অবশ্য তা খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি বরং লেনদেনের শেষদিকে পতনের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। এতে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে মাত্র ৫১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৩০৮টি প্রতিষ্ঠানের। আর ৩৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৫ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৭০ পয়েন্টে নেমে গেছে। এর মাধ্যমে ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বরের পর সূচকটি এখন সর্বনি¤œ অবস্থা বিরাজ করছে। ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর ডিএসইর প্রধান সূচক পাঁচ হাজার ৬৯ পয়েন্ট ছিল।

সূচক ৪২ মাসের মধ্যে সর্বনি¤œ অবস্থানে চলে গেলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৩১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩১৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ১১২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বিকন ফার্মার শেয়ার। কোম্পানিটির ৭২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১০৭ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেয়া ২১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৬৩টির এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১০৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

আগের কর্যদিবসে লেনদেন হয় ২৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App