×

অর্থ শিল্প বাণিজ্য

বাজেটে শিল্প টিকিয়ে রাখার নির্দেশনা নেই : বিসিআই

Icon

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, বর্তমান বাজেটে শিল্প টিকিয়ে রাখার নির্দেশনা দেখা যাচ্ছে না। দেশের শিল্প খাত বর্তমানে একটি চ্যালেঞ্জিং সময় অতিবাহিত করছে। দেশে শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহ ৬০-৭০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে, উচ্চ মূদ্রাস্ফীতির কারণে সব প্রতিষ্ঠানের সেলস ড্রপ করেছে, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে নিয়মিত কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন সেবা পাচ্ছে না শিল্পসমূহ।

সরকারের সংকোচন নীতির এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ড্রাই আপ পলিসির কারণে ব্যাংকসমূহ বন্ডে বিনিয়োগের দিকে উৎসাহিত হচ্ছে আবার সরকারও ব্যাংক থেকে টাকা নিচ্ছে। ব্যাংকের উচ্চ সুদহার এবং তা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে ব্যাংকে তারল্য সংকট দেখা দিচ্ছে। নতুন বিনিয়োগে ভাটা পড়েছে।

বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) বলেন, এবারের বাজেট প্রস্তাবের শিরোনাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘টেকসই উন্নয়নের পরিক্রমায় স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা’। সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার নিয়ে এবারের বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সরকারের ব্যায় বৃদ্ধি, কর জিডিপি অনুপাত না বাড়া ও রিজার্ভ ক্ষয় হওয়ার মতো অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারের জন্য বাজেট প্রণয়ন খুবই কঠিন একটা কাজ।

এ পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ যা বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং হবে। বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রধান লক্ষ্য বলা হলেও টানা ১৪ মাস ধরে ৯ শতাংশের ওপরে থাকা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পর্যাপ্ত পদক্ষেপ প্রস্তাবিত বাজেটে পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

বিসিআই সভাপতি বলেন, এ বছর প্রবৃদ্ধি মাত্র ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। নতুন করে প্রায় ১ লাখ বিশ হাজার বেকার হয়েছে। এর ফলে বর্তমান শিল্পসমূহ কস্ট অব ডুইং বিজনেস বেড়ে যাচ্ছে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না। দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে গেলে আমদানি বিকল্প শিল্প এবং কীভাবে কারখানাগুলোর সক্ষমতা টিকিয়ে রাখার দিকে লক্ষ রাখতে হবে। প্রস্তাবিত বাজেটে এর কোনো দিকনির্দেশনা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রধান লক্ষ্য বলা হলেও টানা ১৪ মাস ধরে ৯ শতাংশের ওপরে থাকা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পর্যাপ্ত পদক্ষেপ প্রস্তাবিত বাজেটে পরিলক্ষিত হচ্ছে না। বাংলাদেশ চেম্বারের মতে, এবারের বাজেটে এলইডি লাইটের উপর করা আরোপ করা হয়েছে। আবার দেশে উৎপাদিত এসি এবং ফ্রিজের উপর করারোপ করা হয়েছে এর ফলে ক্ষতির মুখে পড়বে এ খাত। সংগঠনটি জানায়, প্রস্তাবিত বাজেট নিঃসন্দেহে উচ্চাভিলাষী নয়। বাজেট ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা জিডিপির অনুপাতে ৪.৬ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে যা আশাব্যঞ্জক। তার পরেও ঘাটতির ১ লক্ষ ৬০ হাজার ৯০০ কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস হতে সংগ্রহ করা হবে। আমরা মনে করি- সরকারের ব্যয় কমিয়ে এবং বিদেশি উৎস হতে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে ঘাটতি মেটানোর দিকে জোর দেয়া উচিত।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App