×

অর্থ শিল্প বাণিজ্য

ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি

স্থিতিশীল অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপন হবে

Icon

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

স্থিতিশীল অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপন হবে

কাগজ প্রতিবেদক : প্রস্তাবিত বাজেট দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে ব্যবসার বৃদ্ধির জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই)। এছাড়া মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস এবং বাজারের সরবরাহের দিকে নজর দেয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এ বাজেট অর্থনীতি স্থিতিশীল করার জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করবে। অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মোহাম্মদ আলী ঘোষিত ২০২৪-২৫ সালের প্রস্তাবিত বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

চেম্বার মনে করে- বাজেটে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনীতি স্থিতিশীল করার জন্য বেশ কয়েকটি ব্যবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে সুদের হার ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে কঠোর মুদ্রানীতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) হার যথাক্রমে ১০ শতাংশ এবং ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে; যাতে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং সঞ্চয়কে উৎসাহিত করা যায়। এছাড়া প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনশীলতা ২০ শতাংশ এবং শিল্প উৎপাদন ১৫ শতাংশ বাড়ানোর জন্য উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করা হয়েছে। এটি চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষা করবে এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করবে।

তবে প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের লক্ষে আরো কিছু ব্যাপারে দৃষ্টি দেয়া উচিত। বাজেটের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য- প্রগতিশীল ব্যবসাবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি, যা ভোক্তাদের জন্য খরচ কমানোর উপর ফোকাস করে। কর ব্যবস্থার প্রবর্তন দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণ করেছে, যা ব্যবসায় সঠিক কর পরিকল্পনা করতে সক্ষম হবে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির করপোরেট করহার নগদ লেনদেনের শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ হতে আড়াই শতাংশ কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে; যাকে আমরা সাধুবাধ জানাই। কর হার হ্রাসের প্রস্তাব বেসরকারি বিনোয়োগ উৎসাহিত করবে আশা করা যায়।

প্রস্তাবিত বাজেটটি কর সংস্কারের উপর ফোকাস করে; যা কর ব্যবস্থাকে সরল এবং স্পষ্ট করে তোলেছে। এর মধ্যে করের আওতা ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি, ইলেকট্রনিক ফিস্কাল ডিভাইস প্রবর্তন এবং কর সংগ্রহকে সহজতর করতে এবং খরচ কমাতে ই-পেমেন্ট সিস্টেম প্রচার করা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। করদাতাদের সংখ্যা ২ মিলিয়ন থেকে ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন বাড়ানোর আশা করা হচ্ছে, যা একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করবে এবং কর ব্যবস্থার পূর্বানুমানযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। সরাসরি কর বৃদ্ধি এবং ইলেকট্রনিক ট্যাক্স ডিডাকশন অ্যাট সোর্স (ই-টিডিএস) সিস্টেম প্রয়োগের মাধ্যমে প্রস্তাবিত বাজেট কর প্রতিপালন এবং কর ফাঁকি হ্রাস করার লক্ষ্য রাখে।

তবে প্রস্তাবিত বাজেটে কর, ভ্যাট এবং কাস্টমস প্রশাসনের অটোমেশনের জন্য কোনও বরাদ্দ বা নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেয় হয়নি। এ ধরনের সংস্কারের অভাবে ভ্যাট ক্রেডিট সম্পর্কিত জটিলতা এবং ব্যবসার উপর সম্ভাব্য আর্থিক চাপ অব্যাহত থাকবে। ভ্যাট প্রক্রিয়াগুলি সরল করতে এবং ব্যবসায়সমূহের উপর প্রশাসনিক বোঝা কমাতে ধারাবাহিক সংস্কার প্রয়োজন।

আমরা প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের অগ্রগতির বিষয়সমূহকে সাধুবাদ জানাই, আমরা বিশ্বাস করি যে স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় উচ্চতর বরাদ্দ সরকারের মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রতিশ্রæতিকে আরো সুদৃঢ় করবে। স্বাস্থ্য খাতে মোট বাজেটের ৮ শতাংশ এবং শিক্ষা খাতে মোট বাজেটের ১২ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছে। এটি স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষাগত সুযোগসমূহকে বর্ধিত করবে, যার ফলে দেশে একটি দক্ষ ও স্বাস্থ্যবান জনগোষ্ঠী তৈরি হবে। যা দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য বলে আমরা মনে করি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, স্বাস্থ্য খাতে ১০ শতাংশ এবং শিক্ষা খাতে ১৫ শতাংশ বরাদ্দ করা হলে বর্তমান সময়ের চাহিদাসমূহ মেটাতে এবং মানসম্পন্ন পরিষেবা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে। তাছাড়া কর প্রশাসনের দক্ষতা এবং স্বচ্ছতা বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ডিজিটালাইজেশনের জন্য সম্পদ বরাদ্দ অপরিহার্য। এ উদ্দেশে ৫০০ মিলিয়ন টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে উন্নত তথ্য বিশ্লেষণ, ইলেকট্রনিক কর ফাইলিং সিস্টেম এবং করদাতাদের জন্য উন্নত ডিজিটাল ইন্টারফেস বাস্তবায়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই ডিজিটাল রূপান্তর বাজেটের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সমর্থন করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী সময়ে তিন বছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত বর্তমান ৮ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App