×

অর্থ শিল্প বাণিজ্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য

আমানতের সুদহার এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি

Icon

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 আমানতের সুদহার এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি

কাগজ ডেস্ক : চলতি বছরের এপ্রিলে অধিকাংশ ব্যাংক গ্রাহকের আমানতে প্রায় ১২ শতাংশের কাছাকাছি সুদহার অফার করেছে ব্যাংকগুলো, যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে এ রকম উচ্চ সুদ হারেও গ্রাহকের আমানত প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশে, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য থেকে এসব জানা গেছে। ব্যাংকারা বলছেন, ব্যাংকগুলোতে যখন আমানতের সুদহার বাড়ছে, তখন আমানতের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া খুবই আশঙ্কার বিষয়। অনেক ব্যাংক আমানতের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। এছাড়া মূল্যস্ফীতি এবং মার্জার ইস্যুতে গ্রাহকরা আতঙ্কে থাকায় ব্যাংকে আমানত কম রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের এপ্রিল শেষে ব্যাংকগুলোর আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৭৫ লাখ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। অথচ আগের মাস মার্চে আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ১০ শতাংশ; এর আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে ছিল প্রায় সাড়ে ১০ শতাংশ। চলতি বছরের এপ্রিলে আমানতের প্রবৃদ্ধি যে পরিমাণে কমেছে, এর আগে এমন কম প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২০২৩ সালের জুনে। সে সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৮ দশমিক ৪০ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৪ সালে বেশকিছু ব্যাংক গ্রাহকের আমানতের ওপর ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ সুদহার দিয়েছে। যদিও এরপর অমানতের সুদহার ওঠানামা করেছে, অধিকাংশ ব্যাংকে আমানতের সুদহার ছিল ১০ থেকে ১১ শতাংশের মধ্যে। তবে অধিক সংকটে থাকা দু-একটি ব্যাংকের সুদের হারে ছিল ভিন্ন চিত্র।

এ ব্যাপারে একটি বেসরকারি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ব্যাংক খাতে গত কয়েক মাসে ঋণের সুদের হার বাড়ছে, যার কারণে ব্যাংকগুলো আমানতের রেট বেশি দিলেও আগের তুলনায় আমানতে প্রবৃদ্ধি অনেক কম হয়েছে। এর পেছনে তিনি বেশি কিছু কারণ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গত আড়াই বছরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এখনো মূল্যস্ফীতি প্রায় ১০ শতাংশের মত। যার কারণে গ্রাহকরা ব্যাংকে আমানত না রেখে টাকা হাতে রাখছেন।

বর্তমানে যে পরিমাণে ব্যাংকগুলোতে আমানতের সুদহার বেড়েছে এমনটি হয়েছিল নব্বইয়ের দশকে। এছাড়া ২০০২-২০০৩ সালের দিকে আমানতের হার বেশি ছিল। ২০১৪ সালের দিকে বেশকিছু ব্যাংক প্রায় ১৩ শতাংশ সুদে আমানত নিয়ে ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ সুদে ঋণ দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান- আমানতের সুদহার বাড়ছে, অন্যদিকে প্রবৃদ্ধি কমছে, এর অর্থ ব্যাংকের গ্রাহকদের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। মার্জার ইস্যুতে বেশকিছু ব্যাংকের গ্রাহকের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এছাড়া পদ্মা, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক গ্রাহকের আমানত দিতে পারছে না, এমন কিছু নিউজ হওয়ায় গ্রাহকরা আস্থার সংকটে পড়েছেন। তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংকগুলো ১৫ শতাংশ সুদেও আমানত সংগ্রহ করছে। তারপরও তারা পর্যাপ্ত আমানত পাচ্ছে না।

বেশ কয়েকটি ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অন্তত দুটি বেসরকারি ব্যাংক এখন সাড়ে পাঁচ বছরে দ্বিগুণ টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রæতি দিয়ে আমানত নিচ্ছে। ব্যাংক দুটি এ ধরনের আমানতে সুদ দিচ্ছে ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে এক বছরের জন্যও স্থায়ী আমানত হিসাব খোলা যায়। সেখানে মাসে মাসে মুনাফা পাওয়ার সুবিধাও রয়েছে। সেখানে দেখা যায়, কিছু কিছু ব্যাংক এক বছরে আমানতের ওপর সুদ দিচ্ছে ১১ থেকে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে। এছাড়া বর্তমানে তারল্য সংকটে থাকা বেশকিছু শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকও সাড়ে পাঁচ বছরে আমানতের দ্বিগুণ ফেরত দেয়ার অফার করছে। সম্প্রতি ন্যাশনাল ব্যাংক ‘সেঞ্চুরি ডিপোজিট স্কিম’ নামে মাত্র ১০০ দিন মেয়াদি ডিপোজিট স্কিমে লোভনীয় সুদ অফার করছে। ব্যাংকটি ৫০ হাজার বা তার বেশি জমাকৃত পরিমাণের ওপর ৮০ ভাগ পর্যন্ত ঋণ সুবিধাও অফার করছে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের এপ্রিল শেষে মানুষের হাতের টাকা পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৬৪ লাখ কোটি। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মানুষের হাতে টাকা বেড়েছে ৩ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা। এছাড়া প্রতিবেদন বলছে, গত ৭ মাসে ব্যাংকের বাইরে মানুষের হাতে টাকার পরিমাণ বাড়ছে। গত ২০২৩ সালের অক্টোবরে এর পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৪৫ লাখ কোটি টাকা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App