×

অর্থ শিল্প বাণিজ্য

চামড়া খাতের ব্যবসায়ীদের ঋণে ব্যাংকের আগ্রহ কম!

Icon

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : আর কয়েকদিন পরই ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ। এ সময় চামড়া খাতের ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋণের আশায় থাকেন। তবে বিশেষ সুবিধায় ব্যবসায়ীদের মাত্র ২৭০ কোটি টাকা ঋণ দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে ব্যাংকগুলো। সাধারণত প্রতি বছর দুই শতাংশ রেওয়াতি সুবিধার মাধ্যমে চামড়া খাতে ঋণের জন্য ব্যাংকগুলোকে বিশেষ নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে দেয়া ব্যাংকগুলোর এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা। শেষ পর্যন্ত প্রক্রিয়াগত জটিলতায় এবার চামড়া খাতের ঋণ বিতরণ নাও হতে পারে। আর বিশেষ সুবিধায় ঋণ বিতরণ না হলে চামড়া সংগ্রহে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, ২০২১ সালে চামড়া খাতের জন্য মাত্র দুই শতাংশ এককালীন পরিশোধের মাধ্যমে ঋণ পুনঃতফসিল করে ১০ বছরের জন্য ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দেয়া হয়। গত বছর সেই সুযোগে ব্যাংকের ঋণ বরাদ্দ ছিল ২৫৯ কোটি টাকা, ২০২২ সালে ছিল ৪৪৩ কোটি। আর ২০২১ সালে ছিল ৬১০ কোটি, ২০২০ সালে ৭৩৫ কোটি এবং ২০১৯ সালে এক হাজার ৮০০ কোটি টাকা। চামড়া খাতে সবমিলিয়ে বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি বর্তমানে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। আর এ খাতের খেলাপি ঋণ প্রায় এক হাজার ৭০০ কোটি টাকা। খেলাপির প্রায় ৯০ শতাংশই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর।

ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোর অনাগ্রহের ব্যাপারে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহায় চামড়া ব্যবসায়ীদের ব্যাংকগুলো ২৭০ কোটি ঋণ দিতে আগ্রহী, যা মোটও যথেষ্ট নয়। এজন্য গ্রাহক-ব্যাংকে সম্পর্কের বিশেষ ছাড়ে ঋণের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ চলমান। এখনো ঈদের সময় রয়েছে, আমরাও চেষ্টা করছি। নগদ ঋণ সহায়তা না হলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে ব্যাংকগুলোর অনাগ্রহের কয়েকটি কারণ হতে পারে। তার মধ্যে একটি হতে পারে ব্যবসায়ীরা ঋণ নেয়ার পর যথাসময়ে পেমেন্ট দিতে পারেননি হয়তো। তাছাড়া ব্যাংকের তারল্য সংকটও একটা কারণ হতে পারে।

বিটিএ চেয়ারম্যান বলেন, চামড়া পচনশীল পণ্য হওয়ায় দ্রুত সংগ্রহ করতে হয়, আবার দ্রুত সময়ের মধ্যে সেটি সংরক্ষণও করতে হয়। দেশের বিভিন্ন আড়তের মাধ্যমে সংগৃহীত চামড়া কিনতে নগদ অর্থের প্রয়োজন হয়। তাছাড়া ঈদ মৌসুমে খণ্ডকালীন চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করেন আড়তদাররা। ট্যানারি মালিক নিজস্ব মূলধন দিয়ে সারাবছর ব্যবসা করে থাকেন। তবে কোরবানির সময় বেশি চামড়া কিনতে বাড়তি নগদ অর্থের জন্য বিশেষ ঋণ প্রয়োজন হয়।

ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্র জানায়, ট্যানারি মালিক ও রপ্তানিকারক মিলিয়ে বিটিএর সদস্য প্রায় ৮০০ এর কাছাকাছি। সারাদেশে বৃহৎ ও মাঝারি আড়ত রয়েছে এক হাজার ৮৬৬টি। এর বাইরেও অসংখ্য ছোট আড়ত রয়েছে, যারা মৌসুমি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে ঈদুল আজহার সময় চামড়া সংগ্রহ করে থাকে।

এক আড়তদার ব্যবসায়ী জানান, কাঁচা চামড়ার সিংহভাগ সংগৃহীত হয় ঈদুল আজহায়। তবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রতি বছর ৩০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। তারপরও গত বছরে এ খাত থেকে প্রায় এক দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে।

তথ্য মতে, চামড়া ব্যবসায়ীদের দেয়া খেলাপি ঋণের প্রায় ৯০ শতাংশই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর। এসব ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি জনতার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ট্যানারি ব্যবসায়ীদের একটা অংশ ঋণ পরিশোধ করেন না। আবার তারা দুই শতাংশ দিয়ে ঋণ নবায়নও করতে চান না। এসব কারণে ঋণের জন্য অর্থ বরাদ্দ হলেও বিতরণ করা সম্ভব হয় না।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App