×

অর্থ শিল্প বাণিজ্য

পুঁজিবাজার চিত্র

শেষ মুহূর্তের বিক্রয় চাপে পতন

Icon

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শেষ মুহূর্তের বিক্রয় চাপে পতন

কাগজ প্রতিবেদক : মূল্যসূচক তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে যাওয়ার পর গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস গত বৃহস্পতিবার দেশের পুঁজিবাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। তবে চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গতকাল রবিবার ফের দরপতন হয়েছে। মূলত লেনদেনের শেষ দিকে মাত্রাতিরিক্ত বিক্রির চাপে এ দরপতন হয়।

গতকাল প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে লেনদেন শুরু হয়। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। তবে লেনদেনের শেষ দিকে এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী বিক্রির চাপ বাড়ালে সবকটি মূল্যসূচকের পতন হয়। একই সঙ্গে বাজারে ক্রেতা সংকটও দেখা যায়। এতে লেনদেনের গতিও কমেছে।

এর আগে পুঁজিবাজারে অব্যাহত দরপতন হলে গত সপ্তাহের বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নামে। একই সঙ্গে দেখা দেয় লেনদেন খরা। ডিএসইতে চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেনের ঘটনা ঘটে। তবে বৃহস্পতিবার সূচক ও লেনদেন কিছুটা বাড়ে। অবশ্য লেনদেন ৩০০ কোটি টাকার ঘরেই আটকে থাকে।

এ পরিস্থিতিতে চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গতকাল রবিবার লেনদেনের শুরুতে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় ১০ মিনিটের মধ্যে ডিএসইর প্রধান সূচক ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে যায। লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ার ধারা অব্যাহত থাকে। কিন্তু দুপুর ১২টার পর থেকে পরিস্থিতি বদলে যেতে থাকে।

একদিকে ক্রেতা সংকট অন্যদিকে বিক্রির চাপ বাড়ায় দাম বাড়ার তালিকা থেকে একের পর এক প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকায় চলে আসে। লেনদেনের শেষ দিকে এ প্রবণতা আরো বাড়ে। ফলে সবকটি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়। একই সঙ্গে কমে লেনদেনের পরিমাণ।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১২৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২১৯টি প্রতিষ্ঠানের। আর ৪৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৩৩ পয়েন্টে নেমে গেছে।

অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৩৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৬৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৪৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩৭৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ২৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে টানা তিন কার্যদিবস ডিএসইতে ৪০০ কোটি টাকার কম লেনদেন হলো।

টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বিচ হ্যাচারির শেয়ার। কোম্পানিটির ১৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের ১২ কোটি ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ১১ কোটি ৮০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ওরিয়ন ফার্মা, ই-জেনারেশন, ওরিয়ন ইনফিউশন, গোল্ডেন সন, ফারইস্ট নিটিং, সেন্ট্রাল ফার্মা এবং রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৫২ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেয়া ২২৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১১৫টির এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৮৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

লেনদেনের শীর্ষে বিচ হ্যাচারি : সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গতকাল রবিবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। এদিন লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে বিচ হ্যাচারি লিমিটেড। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র অনুযায়ী, এদিন বিচ হ্যাচারির ১৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। তাতে লেনদেনের শীর্ষে জায়গা নিয়েছে কোম্পানিটি। লেনদেনের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা এশিয়াটিক ল্যাবের গতকাল ১২ কোটি ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আর ১১ কোটি ৮০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করায় তালিকার তৃতীয় স্থানে অবস্থান নিয়েছে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো- ওরিয়ন ফার্মা, ই-জেনারেশন, ওরিয়ন ইনফিউশন, গোল্ডেন সন, ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং, সেন্ট্রাল ফার্মা এবং রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড।

দরপতনের শীর্ষে হামি ইন্ডাস্ট্রিজ : সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গতকাল রবিবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে হামি ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, এদিন হামি ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর আগের কার্যদিবসের তুলনায় কমেছে ৫ টাকা ৪০ পয়সা বা ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। তাতে দরপতনের শীর্ষে জায়গা নিয়েছে কোম্পানিটি।

দর হারানোর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ারদর আগের দিনের তুলনায় ২ দশমিক ৯৯৮ শতাংশ কমেছে। আর শেয়ারদর ২ দশমিক ৯৯৫ শতাংশ কমে যাওয়ায় তালিকার তৃতীয় স্থানে অবস্থান নিয়েছে কোহিনূর কেমিক্যাল কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড।

দরপতনের তালিকায় উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলো হলো- খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, ওরিয়ন ইনফিউশন, প্রাইম ব্যাংক, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, হাক্কানি পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলস এবং এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App