×

অর্থ শিল্প বাণিজ্য

বিসিকের তথ্য

রেকর্ড লবণ উৎপাদনেও পূরণ হয়নি লক্ষ্যমাত্রা

Icon

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ ডেস্ক : গত ২৫ মে শেষ হয়েছে ২০২৩-২৪ সালের লবণ উৎপাদন মৌসুম। এ সময় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে মোট ২৪ লাখ ৩৭ হাজার ৮৯০ টন লবণ উৎপাদন হয়েছে, যা গত ৬৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২২-২৩ মৌসুমে দেশে প্রায় ২২ লাখ ৩৩ হাজার টন লবণ উৎপাদন হয়েছিল।

তবে উৎপাদনে রেকর্ড করলেও সম্প্রতি শেষ হওয়া মৌসুমে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেননি কৃষকরা। ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে মাঠ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মৌসুমের শেষ দিকে উৎপাদন থেকে সরে গেছেন তারা। ২০২৩-২৪ মৌসুমে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৫ লাখ ২৮ হাজার টন। এ হিসেবে সম্প্রতি শেষ হওয়া মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ লাখ ৪ হাজার ৮৯০ টন কম লবণ উৎপাদন করেছেন দেশের কৃষকরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) জানায়, মৌসুমের শুরু ও শেষার্ধে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সম্ভাবনা থাকলেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। তবে দেশে প্রতি বছর ঊষ্ণতা বাড়ার কারণে ধারাবাহিকভাবে উৎপাদনের হার বাড়ছে। লবণ খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতার জন্য এটা আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন চাষি ও খাত সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে লবণ শিল্প উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রধান ও বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া বলেন, গত ২৫ মে পর্যন্ত ২৪ লাখ ৩৮ হাজার টনের মতো লবণ উৎপাদন হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে টানা তিনটি ঘূর্ণিঝড় এবং শেষ সময়ে বৃষ্টিপাত ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সুযোগ থাকলেও বাড়তি লবণ উৎপাদন করা যায়নি। তবে যে পরিমাণ উৎপাদন হয়েছে, তাতে দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

দেশে ২০২৩-২৪ লবণ মৌসুমে আবাদযোগ্য জমি এবং কুষকের সংখ্যাও বেড়েছে। বিসিকের দেয়া তথ্যানুযায়ী, গত বছর দেশে মোট ৬৬ হাজার ৪২০ একর জমিতে লবণ চাষ হয়েছিল। চলতি বছর যার পরিমাণ ছিল ৬৮ হাজার ৩৫৭ একর (বিসিকের নিবন্ধিত)। এ হিসেবে চাষের জমি বেড়েছে ২ হাজার ৮১ একর। এছাড়া চলতি বছর আবাদযোগ্য জমিতে মোট ৪০ হাজার ৬৯৫ জন কৃষক লবণ চাষ করছেন, যা গত বছরের চেয়ে ১ হাজার ২২৮ জন বেশি।

গত বছর মৌসুমের শেষেও মণপ্রতি লবণ ৩৮০-৪০০ টাকার মধ্যে লেনদেন হয়েছিল। এ বছর মৌসুমের শেষার্ধে এসে লবণের মণপ্রতি দাম কমে ২৯০-৩০০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে। তবে ২০২৩-২৪ মৌসুমে চাষের সময় কম পাওয়া গেছে বলে সরবরাহ সংকট থেকে বাঁচতে বিশ্ববাজার থেকে এক লাখ টন লবণ আমদানির অনুমতি দিয়েছে বিসিক।

এদিকে দেশে ভোগ্য লবণের পাশাপাশি টেক্সটাইল ও শিল্প খাতে লবণের চাহিদা প্রতি বছরই বাড়ছে। এর আগে দেশীয় উৎপাদনের সঙ্গে চাহিদার অসঙ্গতির কারণে আমদানি নির্ভরতা থাকলেও গত কয়েক বছর ধরে দেশে লবণ আমদানি প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি মো. নুরুল কবির গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ কৃষিজ পণ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও লবণের জন্য আশীর্বাদ। সারা বিশ্বে ও বাংলাদেশে প্রতি বছর উষ্ণতা যে হারে বাড়ছে, তাতে লবণ চাষ আগামীতে বেড়ে দেশি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে। এক্ষেত্রে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, মাঠ থেকে ভালো মানের লবণ উৎপাদনের ওপর জোর দেয়া উচিত। দেশে সবচেয়ে বেশি লবণ উৎপাদন হয় কক্সবাজার জেলায়। কক্সবাজারের উখিয়া ছাড়া বাকি সাতটি উপজেলায় লবণ উৎপাদন করে থাকেন চাষিরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লবণ উৎপাদন হয় মহেশখালী উপজেলায়। এ উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নে প্রায় ২০ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়ে থাকে, যা অন্যান্য জেলা থেকে বেশি। কিন্তু সরকারিভাবে মাতারবাড়ীতে ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে লবণ চাষ সীমিত হয়ে আসায় বিকল্প খুঁজছে বিসিক। কয়েক বছর আগে চট্টগ্রামের স›দ্বীপ উপজেলায় ২৫ হাজার একর জমিতে লবণ শিল্পপার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে বিসিকের উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়ন না হলেও দ্বিতীয় উপজেলা হিসেবে চট্টগ্রামের (চট্টগ্রামের বাঁশখালীতেও লবণ উৎপাদন হয়) আনোয়ারায় ব্যক্তি উদ্যোগে লবণ চাষ শুরু হয়েছে। কয়েক বছর ধরে স্থানীয় চাষিরা লবণ উৎপাদন শুরু করলেও সেটি এখনো বিসিকের হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App