×

অর্থ শিল্প বাণিজ্য

বিজিএমইএ-ইআরএফ মতবিনিময়

রপ্তানি বাজারে হিমশিম খাচ্ছে তৈরি পোশাক খাত

Icon

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 রপ্তানি বাজারে হিমশিম খাচ্ছে তৈরি পোশাক খাত

কাগজ প্রতিবেদক : চলমান ডলার সংকট, ব্যাংক ঋণের সুদহার বাড়ার সঙ্গে বছরজুড়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হয়রানি, এসব কারণে তৈরি পোশাক খাত বৈশ্বিক রপ্তানি বাজারে হিমশিম খাচ্ছে বলে জানিয়েছেন এ খাতসংশ্লিষ্ট মালিকরা।

বৈদেশিক মুদ্রা সংকট কাটিয়ে দেশের রিজার্ভ বৃদ্ধির যে কয়টি উপায় রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার রপ্তানি আয়। আর বছরের পর বছর এ রপ্তানি আয়ের ৮০ ভাগের বেশি জোগান দিচ্ছে তৈরি পোশাক খাত। তাই রপ্তানির বিপরীতে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে আগের মতো শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ সভাপতি এস এম মান্নান কচি। এ সুবিধা আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত কার্যকর রাখলে শিল্পটি বর্তমান সংকটকালীনও স্বস্তিতে থাকবে বলে জানান এ ব্যবসায়ী নেতা। গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে বিজিএমইএ পর্ষদের মতবিনিময় সভায় এসব দাবি জানান তিনি।

এ সময় এস এম মান্নান কচি বলেন, আমরা ২০৩০ সাল নাগাদ পোশাকশিল্প হতে ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য নিয়েছি। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারের নীতি সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজন। সহায়তা না পেলে লক্ষ্যে পৌঁছানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সরকার অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে অর্থনীতিকে পরিচালনা করছে- যার প্রশংসা আন্তর্জাতিকভাবে আমরা পাচ্ছি।

আমাদের প্রত্যাশা সরকার শিল্পের জন্য সব সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন। কারণ সহযোগিতা বন্ধ হলে আমরা প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারাব, বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে আমাদের সরাসরি রপ্তানিকারি কারখানার সংখ্যা পাঁচ হাজার থেকে দুই হাজার ২০০-তে নেমে এসেছে। আমরা যদি কারখানাগুলো টিকিয়ে রাখতে পারতাম, তাহলে রপ্তানি আরো বাড়ত এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো।

তবে সর্ববৃহৎ কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাত হিসেবে পোশাকশিল্পের সম্ভাবনা ও সক্ষমতা রয়েছে ঘুরে দাঁড়ানোর এবং আরো কর্মসংস্থান তৈরি করার। বিশ্ববাজারে আমাদের শেয়ার মাত্র ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ। অর্থাৎ আমাদের সামনে সুযোগ অপরিসীম। সহযোগিতা পেলে পোশাক খাত দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, পোশাকশিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতা ধরে রাখার জন্য আসন্ন বাজেটে সরকারের কাছে আমরা কিছু নীতি সহায়তা চেয়েছি। রপ্তানির বিপরীতে প্রযোজ্য উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে পূর্বের ন্যয় দশমিক ৫০ শতাংশ করে আগামী ৫ বছর পর্যন্ত কার্যকর করতে হবে। প্রনোদনার জন্য প্রদানকৃত নগদ সহায়তার ওপর আয়কর কর্তনের হার ১০ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ৫ শতাংশ করতে হবে। ২০২৯ সাল পর্যন্ত ইনসেনটিভ অব্যাহত রাখতে হবে। পোশাক খাতের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য ও সেবা ভ্যাটমুক্ত রাখতে হবে। অগ্নি ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম আমদানির ওপর কর রেয়াত অব্যাহত রাখতে হবে।

এ পণ্যগুলো বিকল বা নষ্ট হলে প্রতিস্থাপনের জন্য রেয়াতি হারে আমদানির সুযোগ প্রদান করা যুক্তিযুক্ত। শ্রমিকদের জন্য ফুড রেশনিং বাবদ বিশেষ তহবিল বরাদ্দ রাখতে হবে। নন-কটন পোশাক রপ্তানি ও বিনিয়োগে সহায়তা প্রদান করতে হবে। ইআরকিউর ওপর আয়কর ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ করতে হবে।

পোশাক খাতের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে আমাদের পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ, যেখানে আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২২-২৩ এর জুলাই-এপ্রিল সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ। একই সময়ে আমরা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ পিছিয়ে পড়েছি। আমেরিকা ও ইউরোপের বৈশ্বিক আমদানি কমেছে ৭ শতাংশ ও ১৩ শতাংশ। রাশিয়া-ইউক্রেন ও ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, এর প্রভাবে খুচরা বিক্রয় কমছে।

তিনি আরো বলেন, একই সময়ে ব্যাংক সুদ ১৫ শতাংশ হয়ে গেছে। মজুরি বেড়েছে ৫৬ শতাংশ। গত ৫ বছরে গড়ে উৎপাদন খরচ বেড়েছে ৫০ শতাংশ। গ্যাস-বিদ্যুৎসহ পরিবহন খরচসহ সার্বিক উৎপাদন খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে গত ৮ মাসে আমাদের প্রধান পণ্যগুলোর দরপতন হয়েছে ৮ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত। এসব কারণে পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা হিমশিম খাচ্ছে। এমন প্রেক্ষিতে পোশাক খাতের রপ্তানি অব্যাহত রাখতে আমাদের নানা ধরনের নীতি সহায়তা প্রয়োজন।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মূর্শেদী, বর্তমান বোর্ডের সিনিয়র সহসভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম, সহসভাপতি আরশাদ জামাল (দীপু), সহসভাপতি (অর্থ) মো. নাসির উদ্দিন, সহসভাপতি মিরান আলী, আব্দুল্লাহ হিল রাকিব, রকিবুল আলম চৌধুরী, পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল সাদাত, আশিকুর রহমান (তুহিন), আনোয়ার হোসেন (মানিক), মেসবাহ উদ্দিন খান, শামস মাহমুদ, রাজীব চৌধুরী, মো. শাহাদাত হোসেন, নুসরাত বারী আশা, মো. মহিউদ্দিন রুবেল, সাইফুদ্দিন সিদ্দিকী সাগর, মো. রেজাউল আলম (মিরু) এবং গাজী মো. শহীদুল্লাহ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App