×

অর্থ শিল্প বাণিজ্য

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য

বছরে লাখ ডলারের পানি আমদানি

Icon

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বছরে লাখ ডলারের পানি আমদানি

কাগজ প্রতিবেদক : দেশে বছরে গড়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ লিটার বিদেশি বোতলজাত পানি আমদানি হয়। যদিও গত বছর পানি আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমেছে। ২০২৩ সালে বোতলজাত পানি আমদানি হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার লিটার। গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পানি আমদানি হয়েছে ২০১৯ সালে ৫ লাখ ১৪ হাজার লিটার। মূলত বাংলাদেশে ফ্রান্স, ফিজি ও ইতালির পানিই বেশি আমদানি হয়। এর বেশির ভাগ আমদানি হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্য থেকে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গত ৫ বছরের পানি আমদানির তথ্য থেকে এসব জানা গেছে।

এদিকে পানি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য মতে- দেশে বোতলজাত পানির বাজার ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। এ বাজার নিয়মিত বড় হচ্ছে। তবে আমদানি পানির বাজার তেমন বড় নয়। এনবিআরের তথ্য মতে- ২০২৩ সালে পানি আমদানিতে ১ লাখ ১৫ হাজার ডলার ব্যয় হয়। শুল্কায়ন মূল্য ছিল ২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। সরকার রাজস্ব পেয়েছে ২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

গত পাঁচ বছরের হিসাবে, গড়ে প্রতিবছর সাড়ে তিন লাখ লিটার বিদেশি বোতলজাত পানি ব্যবহার হচ্ছে দেশে। আমদানি করা বোতলজাত পানির পরিমাণভেদে গড় দাম কমবেশি হয়। যেমন- ৫০০ মিলিলিটারের পানি বিক্রি হচ্ছে ২১৫ টাকায়। দেড় লিটারের পানি বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকায়। সব মিলিয়ে বছরে প্রায় ১৬ কোটি টাকার বাজার রয়েছে বিদেশি পানির।

এ ব্যাপারে আমদানিকারকরা জানান- বাংলাদেশে পানি আমদানি শুরু হয় প্রায় ২৫ বছর আগে। শুরুতে বিদেশি বোতলজাত পানির ব্যবহার ছিল খুবই কম। তবে ধীরে ধীরে আমদানি করা পানির ব্যবহার বাড়তে থাকে। ২-১টি কোম্পানি শুরু করলেও বর্তমানে প্রায় ২০-২২টি প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে পানি আমদানি করছে।

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয় ফ্রান্সের এভিয়ান ব্র্যান্ডের বোতলজাত পানি। ফ্রান্সের আল্পস পর্বতের ঝরনার পানি প্রাকৃতিকভাবে পরিশোধন করে বোতলজাত করে এভিয়ান কোম্পানি। বিশ্বখ্যাত এ ব্র্যান্ডের প্রাকৃতিক পানির কদর সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ফিজি, একুয়া পান্নাসহ নানা ব্র্যান্ডের বোতলজাত পানিও আমদানি হচ্ছে। মূলত ৩৩০ মিলিলিটার, ৫০০ মিলিলিটার ও দেড় হাজার মিলিলিটারের বোতলে পানি আমদানি হয়। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা যখন বাড়ে, তখন স্বাস্থ্যসচেতন পণ্য ব্যবহারের ঝোঁকও বেড়ে যায়। এজন্যই বর্তমানে আমদানি করা বিদেশি পানির বাজার বড় হচ্ছে। গত বছর আমদানি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা জানান- ডলার সংকটের কারণে আগের মতো এলসি খোলা যাচ্ছে না। তাই আমদানি কমেছে।

রাজধানীর এক পাঁচ তারকা হোটেলের কর্মকর্তা জানান- তারকা হোটেলে যেসব বিদেশি অতিথিরা থাকেন, তারা বিদেশি পানি পান করেন। এছাড়া কিছু প্রবাসী বাংলাদেশিও দেশে এলে বিদেশি পানি পান করেন। এসব গ্রাহকের চাহিদার কারণে তারকামানের হোটেলগুলোতে আমদানি করা পানি রাখতে হয়। এ চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের তথ্য মতে- ২০২২ সালে বিশ্বে পানি রপ্তানির বাজারের আকার ছিল ৪৩৩ কোটি ডলার। বিশ্বের সব দেশেই বোতলজাত পানির অভ্যন্তরীণ বাজার অনেক বড়। প্রতিটি দেশেই পানির স্থানীয় ব্র্যান্ড রয়েছে। তাই বৈশ্বিক পানি আমদানি-রপ্তানির বাজার খুব বেশি বড় নয়।

জানা গেছে- বিশ্বে পানি রপ্তানিতে শীর্ষ দেশ ফ্রান্স। মূলত প্রাকৃতিক খনিজ পানিই রপ্তানি করে তারা। এছাড়া চীন, ইতালি, বেলজিয়াম ও ফিজিও বড় রপ্তানিকারক দেশ। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পানি আমদানিকারক দেশ যুক্তরাষ্ট্র। ২০২২ সালে দেশটি ১০২ কোটি ডলারের পানি আমদানি করে। এছাড়া হংকং, বেলজিয়াম, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডসও বড় আমদানিকারক দেশ। এদিকে দামি পানি আমদানি হলেও বাংলাদেশ থেকে বিশুদ্ধ খাবারজাত পানি রপ্তানি হচ্ছে। আসছে বৈদেশিক মুদ্রাও।

এনবিআরের তথ্য মতে- ২০০৮ সাল থেকে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ বোতলজাত পানি রপ্তানি করে আসছে। তবে পরিমাণে কম। জাহাজ ভাড়া কমে যাওয়ার পর করোনাকালে রপ্তানি বেড়েছে গ্রুপটির। আর চলতি বছর পানি রপ্তানির তালিকায় যুক্ত হয়েছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড বা এমজিআই।

প্রাণ গ্রুপ মাউন্ট ফ্রেশ ও ইউরো ফ্রেশ ব্র্যান্ড নামে বোতলজাত পানি রপ্তানি করছে। গ্রুপটি মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডে, পাপুয়া নিউগিনি, দক্ষিণ আফ্রিকায় পানি রপ্তানি করছে। এমজিআই এ বছর দুটি চালান যুক্তরাজ্যে রপ্তানি করেছে। গ্রুপটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেঘনা বেভারেজ লিমিটেড এ পানি রপ্তানি করে। সরাসরি রপ্তানি ছাড়াও বন্দরে আসা বিদেশি জাহাজের রসদ সরবরাহের মাধ্যমেও পানি রপ্তানি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জাহাজের রসদ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাজার থেকে বোতলজাত পানি নিয়ে তা জাহাজের নাবিকদের সরবরাহ করছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App