×

অর্থ শিল্প বাণিজ্য

প্রান্তিক মানুষের দিকে বিশেষ নজর

Icon

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

প্রান্তিক মানুষের দিকে বিশেষ নজর

আরিফ কাদরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইউসিবি পিএলসি

১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)। সে হিসেবে ব্যাংকটির বয়স ৪১ বছর। গত ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন আরিফ কাদরী। এর আগে তিনি একই ব্যাংকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা, আগামীর নানা পদক্ষেপসহ বিভিন্ন ব্যাপারে তিনি কথা বলেছেন ভোরের কাগজের অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

মরিয়ম সেঁজুতির সঙ্গে

আরিফ কাদরী জানান- ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরুর প্রথমদিকে বেশির ভাগ ঋণ ছিল করপোরেট খাতে। তবে এখন ব্যাংকটি সেখান থেকে ফিরে এসেছে। কারণ করপোরেটে ঋণ দিলে খুব বেশি মানুষের কাছে যাওয়া যায় না। তাই আরো বেশি মানুষকে ব্যাংকিং জোনে আনার জন্য ইউসিবি ব্যাংক এখন এসএমই খাতে বেশি ঋণ দিচ্ছে। তিনি বলেন- আমরা ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা মানুষকে সেবা দিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছি। কারণ ছোট প্রতিষ্ঠানে ঋণ দিলে উৎপাদন বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এতে ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে অর্থনীতিতে বিনিয়োগ হবে। এভাবে টাকা যত বেশি হাতবদল হবে, অর্থনীতি তত বেশি শক্তিশালী হবে।

অন্যান্য ব্যাংকগুলোর চেয়ে ইউসিবি পিএলসির সেবার মান উন্নত জানিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন- গ্রাহকের চাহিদা মতো সেবা দিচ্ছে ব্যাংকের কর্মীরা। ইউসিবি একটি করপোরেট ব্যাংক হলেও প্রান্তিক মানুষকেও সেবা দিচ্ছে। করপোরেট ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি নতুন নতুন সেবার সংযোজন করা, গ্রাহক সেবার মান উন্নয়ন, নিরাপদ ও নির্ভুল সেবার নিশ্চয়তার বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এছাড়া এটি এখন তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক ব্যাংকে রূপান্তরিত হয়েছে; এখানে গ্রিন ব্যাংকিং এবং ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান- আমাদের গ্রাহকরা কার্ড দিয়ে দেশজুড়ে এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারেন। ইউসিবি ব্যাংকে সর্বোচ্চ তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অনেক ব্যাংক এখনো পারেনি। প্রায় ৮৬ হাজার গ্রাহক ইউসিবির কার্ড ব্যবহার করছেন। এছাড়া প্রান্তিক ও নি¤œ আয়ের মানুষকে সেবার আওতায় আনতে চালু রয়েছে ২২৯টি শাখা, ১৫২ উপশাখা ৭০৩টি এটিএম বুথ ও সিআরএম এবং ৯২৭ এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা। সামনে সেবা বাড়ানোর জন্য শাখা, উপশাখা ও এটিএম বুথ এবং এজেন্ট আরো বাড়ানো হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে আরিফ কাদরী বলেন- ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ গত এপ্রিল পর্যন্ত ছিল প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা। ঋণ বিতরণের পরিমাণ সাড়ে ৫৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রিটেইল খাতে ২ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকা, এসএমইতে খাতে ১১ হাজার ২৮১ কোটি টাকা ও করপোরেট খাতে ৩৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং তাকওয়া ইসলামিক খাতে ১ হাজার ৩৩ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৬ শতাংশের কাছাকাছি।

এছাড়া ব্যাংকের আমদানি ৩ হাজার ৮৩২ কোটি ও রপ্তানির পরিমাণ ৩২ হাজার ৪৮ কোটি টাকা। সামনে আমদানি ও রপ্তানির পরিমাণ আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে রপ্তানিমুখী পণ্যে বিনিয়োগে আগ্রহ বেশি।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এমন খাতে ব্যাংকের বিশেষ নজর রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন- মূলত যেখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, অর্থনৈতিক অবদান আছে এবং কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি। আমাদের বিতরণকৃত ঋণের সিংহভাগই শিল্প খাতে। ইউসিবি সব সময় রিটেইল এবং এসএমই ঋণের প্রতি আগ্রহ ছিল। এখন তা আরো বাড়ানো হয়েছে। আগে ঋণের ৩৫ শতাংশ ঋণ দেয়া হতো রিটেইল এবং এসএমই খাতে। এখন সেটাকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে। সারাদেশে ৬০ হাজারেরও বেশি কৃষককে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষি খাতে ঋণ দিচ্ছে ইউসিবি ব্যাংক।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কৃষিতে বেশি ঋণ বিতরণের কথা জানিয়ে তিনি বলেন- ২০২২-২৩ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৭৬ কোটি টাকা, বিতরণ হয়েছে ৮৬০ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ১৯ কোটি টাকা। এ পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ৯৫৯ কোটি টাকা। আশা করছি বাকি সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

দেশে চলমান ডলার সংকটের মধ্যেও ইউসিবি ব্যাংকে ডলার নিয়ে কোনো ঝামেলা হয়নি জানিয়ে আরিফ কাদরী বলেন- ব্যাংকের আমদানি ৩ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা। রপ্তানির পরিমাণ ৩২ হাজার ৪৮ কোটি টাকা। ২০২৩ সালে রেমিট্যান্স এসেছে ৫০১ মিলিয়ন ডলার। চলতি বছর এখন পর্যন্ত এসেছে ১২৫ মিলিয়ন ডলার তাই ডলার নিয়ে তেমন সংকটে পড়তে হয়নি। রপ্তানি ও রেমিটেন্সের আয়ের অর্থ দিয়েই ডলার ব্যায়ের চাহিদার যোগান দিতে পেরেছি। প্রযোজন অনুযায়ী এলসি খুলতেও তেমন কোন সমস্যা হয়নি।

ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন- খেলাপি ঋণ কমানোর পাশাপাশি গ্রাহকের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে চায়। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাংকের অবদান আরো ত্বরান্বিত করা হবে।

এছাড়া ঋণ পুনঃরুদ্ধার নিশ্চিত করতে ঋণ হিসাব পর্যবেক্ষণ পদ্ধতিকে জোরালো করা; ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত এবং বিধি সহজতর করার জন্য সঠিক এবং সময়োপযোগী তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (এমআইএস) নিশ্চিত করা; বড় খেলাপি ঋণ সম্পূর্ণ সমন্বয়ের জন্য অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা; ঋণ পুনঃরুদ্ধারের সম্ভাবনাকে আরো বৃদ্ধি করার জন্য উপযুক্ত ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপের ব্যবস্থা চালু করা হবে। এছাড়া রিটেইল, এসএমই এবং কার্ড বিভাগ বেশি গুরুত্ব পাবে। বর্তমানি ব্যাংকিং খাতে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে জানিয়ে আরিফ কাদরী বলেন- আমানত সংগ্রহের পাশাপাশি মুনাফা অর্জন ও খেলাপি ঋণ আদায় করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি আদায়ে বেশ কিছু পলিসি দিয়েছে। এটা কাজে লাগবে। আশা করছি- সামনে খেলাপি ঋণ অনেক কমে যাবে এবং দেশের সার্বিক অথনৈতিক অবস্থা উন্নত হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App