×

অর্থ শিল্প বাণিজ্য

আইওএমের প্রতিবেদন

বিশ্বে রেমিট্যান্সপ্রাপ্তিতে শীর্ষে ভারত, বাংলাদেশ অষ্টম

Icon

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 বিশ্বে রেমিট্যান্সপ্রাপ্তিতে শীর্ষে  ভারত, বাংলাদেশ অষ্টম
কাগজ ডেস্ক : ২০২২ সালে ১১১ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে ভারত। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১০০ বিলিয়ন ও ১১১ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে ভারত। রেমিট্যান্সপ্রাপ্তির দিক থেকেও ভারতের অবস্থান বিশ্বে প্রথম। রেমিট্যান্সপ্রাপ্তিতে ৮ম অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। রেমিট্যান্স প্রবাহে দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশ আছে শীর্ষ দশে। ইন্টারন্যাশনাল অরগনাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইওএম) সম্প্রতি প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড মাইগ্রেশন রিপোর্ট বলছে, ২০২২ সালে রেমিট্যান্স পাওয়ার দিক থেকে শীর্ষ ৫ দেশ ছিল ভারত, মেক্সিকো, চীন, ফিলিপাইন ও ফ্রান্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১১১ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়ে বাকিদের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে ভারত। প্রথম দেশ হিসেবে ১০০ বিলিয়ন ও ১১১ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অর্জন করেছে দেশটি। ২০২২ সালে ৬১ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়ে এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো। ২০২১ সালেও দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল দেশটি। রেমিট্যান্স গ্রহণে দীর্ঘদিন দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছিল চীন। কিন্তু ২০২১ সালে চীনকে পেছনে ঠেলে দিয়ে দুইয়ে উঠে আসে মেক্সিকো। প্রতিবেদনের তথ্যমতে- ২০১০, ২০১৫ ও ২০২০ সালে যথাক্রমে ৫৩ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার, ৬৮ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার ও ৮৩ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার পেয়ে রেমিট্যান্সপ্রাপ্তিতে প্রথম অবস্থানে ছিল ভারত। ২০২২ সালে রেমিট্যান্স গ্রহণে প্রথম ১০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করে দেশটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়া থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবাসীকর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করতে যায়। তাদের সুবাদে এ অঞ্চল বৈশ্বিক রেমিট্যান্সের উল্লেখযোগ্য অংশ পেয়ে থাকে। দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশ- ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ রেমিট্যান্সপ্রাপ্তিতে শীর্ষ দশ দেশের তালিকায় রয়েছে। ২০২২ সালে রেমিট্যান্সপ্রাপ্তিতে যথাক্রমে ৬ষ্ঠ ও ৮ম অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। এ বছর পাকিস্তান প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার ও বাংলাদেশ ২১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে। এর আগে ২০২০ সালেও বাংলাদেশ ২১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়ে এ তালিকায় একই অবস্থানে ছিল। আইওএমের প্রতিবেদনে অনুযায়ী, ২০১০ বাংলাদেশ ১০ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার ও ২০১৫ সালে ১৫ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছিল। সেই হিসাবে ১২ বছরে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ১০ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। ২০২২ সালে রেমিট্যান্স গ্রহণে তৃতীয় অবস্থানে থাকা চীন ৫১ বিলিয়ন ডলার, চতুর্থ অবস্থানে থাকা ফিলিপাইন ৩৮ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার এবং পঞ্চম অবস্থানে থাকা ফ্রান্স ৩০ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে। এছাড়া ২০২২ সালে রেমিট্যান্স প্রবাহে ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা পাকিস্তান ২৯ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার, সপ্তম অবস্থানে মিসর ২৮ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, অষ্টম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ ২১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, নবম অবস্থানে থাকা নাইজেরিয়া ২০ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার এবং দশম অবস্থানে থাকা জার্মানি ১৯ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে। অন্যদিকে ২০২২ সালে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বছর দেশটি ৭৯ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে বিভিন্ন দেশে। রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে সৌদি আরব (৩৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার), তৃতীয় অবস্থানে সুইজারল্যান্ড (৩১ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার), চতুর্থ অবস্থানে জার্মানি (২৫ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার) ও পঞ্চম অবস্থানে আছে চীন (১৮ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার)। রেমিট্যান্সপ্রাপ্তিতে অষ্টম অবস্থানে থাকলেও অভিবাসী পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ষষ্ঠ। অভিবাসী পাঠানোর ক্ষেত্রে শীর্ষ পাঁচ দেশ হচ্ছে- ভারত, মেক্সিকো, রাশিয়া, চীন ও সিরিয়া। আইওএমের প্রতিবেদনে বলা হয়, রেমিট্যান্স বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় বহু মানুষের লাইফলাইন হলেও এসব দেশ থেকে যাওয়া অভিবাসীকর্মীরা অনেক ঝুঁঁকির মধ্যে কাজ করেন, আর্থিক শোষণের শিকার হন, অভিবাসন খরচের কারণে অতিরিক্ত আর্থিক দেনায় ডুবে যান। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে নিপীড়নের শিকার হওয়ার পাশাপাশি তারা ‘জেনোফোবিয়া’রও (বিদেশিদের প্রতি ঘৃণার মনোভাব) শিকার হন। প্রতিবেদনে উল্লেখিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের অবস্থা সম্পর্কে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও আইএলও পরামর্শক আসিফ মুনির বলেন, আমরা মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনসহ অভিবাসন-সংক্রান্ত অনেক আইন ও বিধি প্রণয়ন করেছি কিন্তু যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় খুব বেশি পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি না। তিনি আরো বলেন, অভিবাসনের খরচ যে বেশি তা আমরা জানি কিন্তু কোনো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। আমরা গন্তব্য রাষ্ট্রগুলোকে কোনো ধরনের আইনের আওতায় আনতে পারিনি বলেই মূলত অভিবাসী শ্রমিকরা বিদেশে কর্মক্ষেত্রে নিপীড়নসহ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন। এ বিশেষজ্ঞ জানান- সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শ্রমিক পাঠানোর ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক চুক্তি না করে শুধু সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। উদাহরণস্বরূপ, মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শুধু নথিতে স্বাক্ষর করে কিন্তু শর্তাবলি ঠিক করে গন্তব্য দেশ। তবে আমরা যাদের পাঠিয়েছি তারা আরো দক্ষ হলে রেমিট্যান্স বাড়ত। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী- বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পাঠানোতেও বড় অবদান রাখছে এশিয়ার দেশগুলো। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পাঠানোর তালিকায় শীর্ষে আছে চীন, দ্বিতীয় অবস্থানে ভারত। ২০২১ সালে চীন ও ভারত থেকে যথাক্রমে ১০ লাখ ও ৫ লাখ ৮ হাজার শিক্ষার্থী বাইরের দেশে পড়তে গেছেন। এসব শিক্ষার্থীদের গন্তব্য হিসেবে পছন্দের শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র (৮ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি)।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App