×

অর্থ শিল্প বাণিজ্য

সরবরাহও স্বাভাবিক

চালের বৈশ্বিক দামে স্থিতি ফিরছে

Icon

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ ডেস্ক : চালের আন্তর্জাতিক বাজার গত বছর পড়েছিল বড় ধরনের অস্থিরতার মুখে। রপ্তানিতে বিধিনিষেধ, উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা ও সরবরাহ সংকটে ওই সময় প্রায় ১৫ বছরের সর্বোচ্চে উঠে আসে শস্যটির বাজারদর। তবে চলতি বছর সরবরাহের পাশাপাশি দামেও স্থিতি ফিরতে শুরু করেছে। যদিও এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়ায় এ বছরও শস্যটির বাজার নাজুক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের এক পর্যবেক্ষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ভারত বিশ্বের শীর্ষ চাল রপ্তানিকারক। দেশটি গত বছর শস্যটি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হতে দেখা যায় পণ্যটি। তবে এশিয়ার প্রধান প্রধান রপ্তানিকারক দেশে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় চালের দাম কমে এসেছে। কমোডিটি মার্সেন্ট লুইস ড্রেফাসের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেনস মার্কাস বলেন, ‘আমরা অনেক বেশি সংকোচনমুখী একটি পরিস্থিতির মধ্যে ছিলাম বলেই মনে হচ্ছে। একদিকে ভারতের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ছিল। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ায় হু হু করে বাড়ছিল চালের চাহিদা। এ দুটি বিষয়ের কারণে বাজারকে নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছিল। ফলে লাফিয়ে দাম বেড়েছে। তবে এখন মনে হচ্ছে চালের দাম ও সরবরাহ দুটোতেই স্থিতি ফিরতে শুরু করেছে। মার্কাস বলেন, বৈরী আবহাওয়ায় চালের সরবরাহ নিয়ে এখনো শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে আমরা কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারি না। তাছাড়া এল নিনো ও তুলনামূলক উষ্ণ আবহাওয়ার আশঙ্কা তো রয়েছেই। বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত খাদ্যশস্য চাল। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শস্যটির বাজার ছিল স্থিতিশীল। কিন্তু ভারত এটির রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে এ ধারায় ভাটা পড়ে। বাড়তে শুরু করে দাম। ঘনীভূত হতে থাকে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা। বিশেষজ্ঞরা জানান, এল নিনোর কারণে এশিয়ার দেশগুলোয় তুলনামূলক বেশি উষ্ণ আবহাওয়া বিরাজ করবে। ফলে ভারত, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডসহ প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোয় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাজার পর্যবেক্ষকরা আগামী মাসগুলোয় উৎপাদন পরিস্থিতি কেমন হবে, তার ওপর নজর রাখছেন। ভারত গত বছরের মাঝামাঝি পণ্যটির রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করতে শুরু করে। ওই সময় বাসমতী ছাড়া সব ধরনের সাদা চাল রপ্তানিতে দেয়া হয় নিষেধাজ্ঞা। স্থানীয় সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতেই এ রপ্তানি নীতি গ্রহণ করে নয়াদিল্লি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে শস্যটির সরবরাহ সংকট দেখা দেয়। তবে পর্যাপ্ত সরবরাহ ও নি¤œমুখী চাহিদায় গত সপ্তাহে ভারতীয় চালের রপ্তানি মূল্য কমে তিন মাসের সর্বনি¤œ পর্যায়ে নেমে যায়। ওই সময় ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে শস্যটির দাম স্থিতিশীল ছিল বলে জানান খাতসংশ্লিষ্টরা। ভারত গত সপ্তাহে ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ চাল টনপ্রতি ৫২৮-৫৩৬ ডলারে রপ্তানি করে। এর আগের সপ্তাহে দাম ছিল ৫৩৮-৫৪৬ ডলার।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App