×

অর্থ শিল্প বাণিজ্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার

পোশাক শিল্পে সংকট বাড়বে

Icon

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : বর্তমানে তীব্র ভূরাজনৈতিক সংকট এবং এর প্রভাবে বৈশ্বিক বাণিজ্যে সৃষ্ট অস্থিরতার প্রভাবে পোশাক শিল্প এমনিতে এক সন্ধিক্ষণে রয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে নতুন প্রজ্ঞাপন দুটি পোশাক শিল্পের সংকটকে আরো তীব্রতর করবে, শিল্পের প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করবে। উদ্যোক্তারা নতুন কারখানা গড়ে তুলতে নিরুৎসাহিত হবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা। তারা আরো বলেন, বর্তমানে নির্ধারিত অর্থনৈতিক অঞ্চল বা সরকার নির্ধারিত অঞ্চলের বাইরে প্রতিষ্ঠিত পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকগুলোরই সম্প্রসারণ কাজ চলছে, আবার নতুন শিল্প কারখানা স্থাপনের কাজও চলমান রয়েছে। তাই পোশাক শিল্পে এ মুহূর্তে সার্কুলার দুটি কার্যকর করা হলে বিদ্যমান শিল্প কারখানার সম্প্রসারণ/নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠার চলমান কার্যক্রমগুলো ব্যাহত হবে। তৈরি পোশাক শিল্পের সমসাময়িক ইস্যুগুলো নিয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ও এফবিসিসিআই নেতরা এক বৈঠক করেছেন। বুধবার ঢাকার উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএ সভাপতি এস এম মান্নান (কচি)। আলোচনায় অংশ নেন বিকেএমইএ এর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএ এর সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন, এফবিসিসিআই এর সহসভাপতি মুনির হোসেন, বিজিএমইএ এর সহসভাপতি (অর্থ) মো. নাসির উদ্দিন এবং বিজিএমইএ এর পরিচালকরা, মো. ইমরানুর রহমান, মোহাম্মদ সোহেল সাদাত, শামস মাহমুদ, রাজিব চৌধুরী, মো. জাকির হোসেন ও মো. রেজাউল আলম (মিরু)। বৈঠকে পোশাক শিল্পের বিভিন্ন বিষয়গুলো, বিশেষ করে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারিকৃত ইকোনোমিক জোন বা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শিল্প এলাকা ছাড়া অন্য কোনো স্থানে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হলে বিদ্যুৎ সংযোগ ও গ্যাস সরবরাহ না দেয়া এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ছাড়া নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ঋণ না দেয়া সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন দুটি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় নেতরা বলেন, বর্তমান সরকার বৈদেশিক মুদ্রার সংকট মোকাবিলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে। তাই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান খাত পোশাক শিল্পকে বাধাগ্রস্ত করা কোনোমতেই কাম্য নয়। আলোচিত সার্কুলার দুটি থেকে পোশাক শিল্পকে অন্তত ৫ বছরের জন্য অব্যাহতি দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়। শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবারাহের দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও বৈঠকে পোশাক শিল্পে শুল্ক, ভ্যাট, আয়করসংক্রান্ত সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শিল্পকে টেকসই করতে ও রপ্তানির প্রবৃদ্ধির গতি অব্যাহত রাখতে ও ২০৩০ সালে পোশাক খাত থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য এনবিআর ও কাস্টমস বন্ডসংক্রান্ত ব্যবসায়িক প্রক্রিয়াগুলোকে আরো দ্রুততর, সহজতর ও হয়রানিমুক্ত করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে শিল্পোদ্যোক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যায়ে সৃষ্ট বিভিন্ন কারণে পোশাক শিল্পের ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে পোশাক শিল্পে প্রযোজ্য উৎসে কর ১% থেকে হ্রাস করে ০ দশমিক ৫% নির্ধারণসহ পোশাক শিল্পের জন্য সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলোতে ব্যয় কমানো হলে শিল্প প্রতিযোগী সক্ষমতা বজায় রাখতে সমর্থ হবে। তারা আশা করেন আসন্ন বাজেটে এসবের প্রতিফলন ঘটবে। নেতারা এলডিসি-পরবর্তী সময়ে পোশাক খাতের সক্ষমতা ধরে রাখার জন্য শিল্পের প্রস্তুতি ও করণীয় বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা করেছেন। তারা বলেন, ২০২৬ সালের পর থেকে বিভিন্ন বাণিজ্য সুবিধা আর থাকবে না। তাই অন্তত ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে বিভিন্ন নীতি সহায়তার মাধ্যমে সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানো হলে জাতি ও অর্থনীতি উপকৃত হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App