×

অর্থ শিল্প বাণিজ্য

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন

কমবে সার-স্বর্ণের দাম বাড়বে তেল-তুলার

Icon

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ ডেস্ক : বিশ্ববাজারে বর্তমানে প্রতি টন সয়াবিনের দাম এক হাজার ১৩০ ডলার, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়াবে এক হাজার ১৫০ ডলারে। একইভাবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে অন্যান্য নিত্যপণ্যগুলোর দাম কেমন যাবে, তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় ওয়াশিংটন থেকে সম্প্রতি ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ নামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ১০০টি নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এতে মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের দাম কমলেও কিছু পণ্যের দাম বাড়বে। আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেল, জ্বালানি তেল ও তুলার মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। ফলে বাংলাদেশের বাজারে এসব পণ্যে দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়বে। তবে ইউরিয়া সার ও এলএনজির দাম নিয়ে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্বস্তির খবর দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। চলতি বছর বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম সার্বিকভাবে ৩ শতাংশ কমবে। আর ২০২৫ সালে পণ্যের দাম কমবে ৪ শতাংশ। তথ্য মতে- বিশ্ববাজারে মুরগি ও গরুর মাংসের দাম আরো বাড়বে। বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ৫ দশমিক ২০ ডলার, ২০২৫ সালে দাম বেড়ে দাঁড়াবে ৫ দশমিক ৩০ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে গরুর মাংসের দাম ২০ সেন্ট বাড়বে। মুরগির মাংসের দামও প্রতি কেজিতে ৩ সেন্ট বেড়ে ২০২৫ সালে হবে ১ দশমিক ৫৩ ডলার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় ১০০টি অতি প্রয়োজনীয় ও নিত্যব্যবহার্য পণ্যের দাম আগামী দুই বছরে কতটা বাড়তে পারে বা কতটা কমতে পারে, সেই পূর্বাভাসও দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা পণ্যের তালিকা ধরে বাংলাদেশ যে ১০টি নিত্যপণ্য তুলনামূলকভাবে বেশি আমদানি করে, তা পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন প্রসঙ্গে সংস্থাটির বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট আমি দেখেছি। এটি ভবিষ্যদ্বাণী। ওভারঅল ৩ শতাংশ নিত্যপণ্যের দাম কমবে বলে এমন একটি পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। যেসব পণ্যের দাম কমবে তার মধ্যে গ্যাস ও অপরিশোধিত তেল রয়েছে। আমরা সাধারণত পরিশোধিত তেল বেশি আমদানি করি। অপরিশোধিত তেলের দাম কমলে পরিশোধিত তেলের দামও কমার কথা। এটি ভোক্তা পর্যায়ে কতটুকু প্রভাব ফেলবে পলিসিরও ব্যাপার আছে। বিপিসি যদি বলে তারা পলিসি পরিবর্তন করবে না তবে ভোক্তারা লাভবান না হয়ে বিপিসি লাভবান হবে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায় এর প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যে। ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবে যথেষ্ট ঊর্ধ্বমুখী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য। চলতি বছরের এপ্রিলের গোড়ার দিকে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৯১ ডলার হয়েছিল। স্বর্ণের দামের ক্ষেত্রেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কয়লার দাম ব্যাপক কমতে পারে। ২০২৩ সালে প্রতি টন কয়লার গড় দাম ছিল প্রায় ১৭৩ ডলার। চলতি অর্থবছর এর গড় দাম হতে পারে ১২৫ ডলার, ২০২৫ সালে আরো কমে দাঁড়াবে ১১০ ডলারে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সারের দামে সুখবর মিলবে ২০২৫ সালে। ইউরিয়া সারের দাম বর্তমানে টনপ্রতি ৩৫৮ ডলার থেকে কমে ৩৫০ ডলার হতে পারে। ২০২৫ সালে টনপ্রতি আরো কমে ৩২৫ ডলার হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য বলছে, গত অর্থবছর প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকার সার আমদানি হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বলছে, কয়লার দাম ব্যাপক কমতে পারে। অন্যদিকে প্রতি বিএমএমটিইউ এলএনজির দাম ১৪ ডলার থেকে কমে সাড়ে ১২ ডলার হতে পারে। কমতে পারে কফি, চিনি, গম ও ভুট্টার দাম। বিশ্বব্যাংক বলছে, ২০২৩ সালে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের গড় দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি সাড়ে ৮২ ডলার। চলতি বছর তা বেড়ে ৮৪ ডলার হতে পারে। তবে আগামী বছর তা কমে ৭৯ ডলার হতে পারে। জ্বালানি তেল আমদানিতেই সরকার সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হিসাবে ৪৮ হাজার ৯০০ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছিল। দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ আমদানি পণ্য তুলা। এটি বস্ত্র খাতের মূল কাঁচামাল। বিশ্বব্যাংক বলছে, আগামী দুই বছর তুলার দাম বাড়বে। এ বছর প্রতি কেজি তুলার দাম উঠতে পারে ২ দশমিক ১৫ ডলারে। আগামী বছর তা আরো ৫ সেন্ট বাড়তে পারে। গত অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের তুলা আমদানি হয়েছে। একইভাবে এলএনজি এবং কয়লার দামও কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে সুখবর মিলেছে স্বর্ণের দামে। ২০২৪ সালে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম এখন গড়ে ২ হাজার ১০০ ডলার, ২০২৫ সালে কমে দাঁড়াবে ২ হাজার ৫০ ডলারে। ফলে বছরের ব্যবধানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমবে ৫০ ডলার। চলতি বছরের থেকে ২০২৫ সালে সুখবর মিলবে রড তৈরির উপকরণ আকরিক লোহার দামে। প্রতি ড্রাই টন আকরিক লোহার দাম এখন ১১০ ডলার, ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়াবে ১০৫ ডলারে। বাড়বে টিনের দাম। এদিকে বিশ্ববাজারে দাম কমলেও ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমে না বলে দাবি অর্থনীতিবিদদের। তবে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) দাবি বাংলাদেশ বিশ্বের বাইরে নয়। সুতরাং বিশ্ববাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে দেশে যেমন এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, বিশ্ববাজারে দাম কমলে দেশেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App