×

অর্থ শিল্প বাণিজ্য

এডিবির প্রতিবেদন

আমদানি শুল্কের উচ্চহারে রপ্তানি খাত বৈচিত্র্যহীন

Icon

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ ডেস্ক : আমদানি শুল্কের উচ্চহারের কারণে তৈরি পোশাক খাত ছাড়া বাংলাদেশের বাকি রপ্তানিমুখী শিল্পগুলো বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশে তেমন উৎসাহ পায় না। সম্প্রতি প্রকাশিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুরক্ষামূলক এসব নীতির কারণে এসব শিল্প লাভের কথা বিবেচনা করে রপ্তানি বাজারের দিকে না গিয়ে অভ্যন্তরীণ বাজারে মনোযোগ দেয়। ‘এক্সপান্ডিং অ্যান্ড ডাইভারসিফাইং এক্সপোর্টস ইন বাংলাদেশ : চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড দ্য ওয়ে ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের নীতি রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল তুলনামূলকভাবে কম সমর্থনপুষ্ট শিল্পসমূহকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। এ পরিস্থিতিকে ‘নীতি-প্ররোচিত রপ্তানিবিরোধী বৈষম্য’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়েছে। এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ পক্ষপাতের ফলে স্থানীয় রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রবৃদ্ধি সীমিত হয়েছে। ফলে এসব শিল্প দক্ষতা ও উদ্ভাবনে পিছিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশে আমদানি শুল্ক ছাড়াও আমদানির ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ও মূল্য সংযোজন করের মতো অতিরিক্ত কর বসানো হয়। এতে স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষা বাড়লেও রপ্তানিতে নিরুৎসাহ সৃষ্টি হয়। দেশে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর মোট ট্যারিফ ইনসিডেন্স গড়ে ৫২ শতাংশ বলে ধারণা করা হয়। এ রপ্তানিবিরোধী বৈষম্য অন্যান্য শিল্প এবং স্থানীয় বাজারে ব্যবসা করা বস্ত্র ও পোশাক শিল্পকে প্রভাবিত করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানি খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া অভ্যন্তরীণ খাতকে লক্ষ্য করে প্রণোদিত অত্যধিক সুরক্ষানীতি রপ্তানি খাতের প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করে। বৈদেশিক প্রতিযোগিতার বাইরে থাকা শিল্পে সম্পদ ও বিনিয়োগের অসম পরিচালনের দরুন এমনটা ঘটে। ফলে প্রতিযোগিতামূলক চাপের অভাবে এসব শিল্প দক্ষতা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মূলত পোশাক রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি কম বৈচিত্র্যময়। অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের আমদানি শুল্কও বেশি। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ভালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করায় শুল্ক আরো কমাতে চাপের পরিমাণ সামান্যই দেখা গেছে। এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাদুকা শিল্পে একজন বিনিয়োগকারী স্থানীয় বাজারে আমদানি-প্রতিদ্ব›দ্বীর বিপরীতে ৫০ ডলার মূল্যের জুতার জন্য ৯ হাজার ৫৬২ টাকা পাবেন, যেখানে একই বিনিয়োগকারী সে জুতা রপ্তানি করলে ছয় হাজার ২৫০ টাকা পাবেন। তার সঙ্গে ১৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা সুবিধা এবং ১০ শতাংশ অন্যান্য নীতি সহায়তাও থাকবে। বৃহৎ ও দ্রুতবর্ধনশীল অভ্যন্তরীণ বাজারের পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের নীতি-প্ররোচিত বৈষম্য উচ্চমানের পণ্য তৈরির মাধ্যমে বিশ্ববাজারে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করতে উৎসাহিত করার বদলে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকে শক্তিশালী প্রণোদনা প্রদান করে। বর্তমানে এ বৈষম্যে ভারসাম্য আনার জন্য রপ্তানি নীতিতে কোনো তুলনামূলক সমর্থন নেই। এছাড়া যখন ব্যবসার খরচ বেশি হয়, তখন রপ্তানি খাতে জড়িত হওয়ার অনুপ্রেরণা আরো কমে যায়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা বলেন- আমরা দীর্ঘদিন ধরে পোশাক খাতের মতো সরকারি নীতি সহায়তার কথা বলে আসছি। এ ধরনের সহায়তার মাধ্যমে আমরা আমাদের রপ্তানিকে বৈচিত্র্যময় করতে এবং নতুন বাজারে প্রবেশ করতে পারব। এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সাফল্যের জন্য কয়েকটি স্বতন্ত্র কারণকে কৃতিত্ব দেয়া যেতে পারে। বৈশ্বিক মাল্টি-ফাইবার ব্যবস্থা টেক্সটাইল এবং পোশাক উৎপাদন বাংলাদেশে স্থানান্তর করতে সহায়ক ছিল। ফলে পোশাক খাতে প্রবৃদ্ধির জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকার পোশাক খাতের জন্য বিশেষভাবে নগদ প্রণোদনা, ডিউটি ড্রব্যাক ও বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট সহায়তা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের সহজলভ্য শ্রম।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App