×

অর্থ শিল্প বাণিজ্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন

বেড়েছে এলসি খোলা ও নিষ্পত্তির হার

Icon

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 বেড়েছে এলসি খোলা ও নিষ্পত্তির হার
কাগজ ডেস্ক : ব্যাংক খাতে ডলারের তারল্য পরিস্থিতি উন্নত হওয়ায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির চেয়ে মার্চে ইম্পোর্ট লেটার অব ক্রেডিট বা আমদানি এলসি খোলা এবং সেটেলমেন্ট বা নিষ্পত্তি উভয়ই বেড়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে- মার্চ মাসে ব্যাংকগুলো ৬ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারের আমদানি এলসি খুলেছে, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি। গত ফেব্রুয়ারিতে খোলা হয়েছিল ৫ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলারের আমদানি এলসি। এদিকে, ২০২৩ সালের মার্চে আমদানি এলসি খোলা হয়েছিল ৬ বিলিয়ন ডলারের কম। গত এক বছরের মধ্যে মাত্র ৩ বার আমদানি এলসি খোলা হয়েছে ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এ ব্যাপারে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ডলারের সংকট এখনো কাটেনি। তবে গত কয়েক মাস ধরে প্রতি মাসে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি হচ্ছে। রেমিট্যান্স ইনফ্লোও ভালো। এসব কারণে ব্যাংকগুলোর হাতে ডলারের তারল্য ভালো। ফলে আগে যেসব পণ্যের আমদানি এলসি আমরা খুলতাম না, এখন সেগুলোও খোলার চেষ্টা করছি। হাতে ডলার থাকায় সাইট এলসি খোলা আগের তুলনায় বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত ২-৩ মাস আগেও আমাদের খোলা এলসির ২৫ শতাংশ ছিল সাইট, বাকিটা ছিল ডেফার্ড। মার্চ মাসে যেসব এলসি খোলা হয়েছে, তার ৫০ শতাংশের বেশি সাইট এলসি। সাইট এলসির ক্ষেত্রে অবশ্যই এক সপ্তাহের মধ্যে পেমেন্ট করতে হয়। ব্যাংকগুলোতে যখন ডলারের তারল্য অবস্থা ভালো থাকে, তখন এ ধরনের এলসি খোলা হয়। অন্যদিকে, ডেফার্ড বা বিলম্বিত এলসি পেমেন্টের জন্য ৯০ থেকে ১৮০ দিনের সময় থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো আমদানি লেনদেনের জন্য ডেফার্ড এলসি খুলতেই পছন্দ করে। অন্য কথায়, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে হওয়া আমদানি লেনদেনের জন্য যেসব এলসি খোলা হয়েছিল, সেগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশের অর্থ প্রদান করা হয়েছে মার্চ মাসে। ব্যবসায়ীরা এখন সাইট এলসি বেশি খুলতে চাচ্ছেন মন্তব্য করে আরেক ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সামনের দিনগুলোতে ডলারের দাম কেমন থাকবে, এটি নিশ্চিত হওয়া কঠিন। ডলারের দাম বেড়ে গেলে ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষতির শিকার হতে হয়। এসব কারণে ব্যবসায়ীরা সাইট এলসি খোলায় বেশি আগ্রহী। এপ্রিলে এলসি খোলার পরিমাণ কমবে মন্তব্য করে এ ব্যাংকার আরো বলেন, ঈদের কারণে বেশ অনেকদিন ফ্যাক্টরি ও ব্যাংক বন্ধ ছিল। ফলে এপ্রিলে এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি দুটোই কমবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে- চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ভোগ্যপণ্যের আমদানি এলসি খোলা কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ। এছাড়া, ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানি এলসি খোলা কমেছে ১৯ শতাংশ, মধ্যবর্তী পণ্য কমেছে ১৭ শতাংশ এবং শিল্পের কাঁচামাল কমেছে ৪ শতাংশ। এদিকে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আরএফ হুসেইন বলেন, ডলার পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক স্থিতিশীল হয়েছে। ডলারের দামও কমেছে। ব্যাংকগুলোর হাতে এখন ভালো পরিমাণে ডলার রয়েছে। অর্থনীতি ধীরে ধীরে রিকভার করলে, ভোক্তার চাহিদাও বাড়বে। তবে এতে কিছুটা সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশ বাংকের তথ্য বলছে, গত মার্চ মাসে আমদানি এলসি নিষ্পত্তি করা হয়েছে ৫ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার। ফেব্রুয়ারির তুলনায় এটি ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। ফেব্রুয়ারি মাসে নিষ্পত্তি হয়েছিল ৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে নিষ্পত্তি কমেছে প্রায় ১৪ শতাংশ। এদিকে ব্যাংকগুলো এলসি খুলতে পারছে জানালেও ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা পর্যাপ্ত এলসি খুলতে পারছেন না। এছাড়া এলসি নিষ্পত্তিতে ডলারের দাম বেশি দিতে হচ্ছে। ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, এলসি নিষ্পত্তিতে ডলারের দাম রাখা হচ্ছে ১১৪ থেকে ১১৫ টাকা। ভোগ্যপণ্যের বড় আমদানিকারক একটি গ্রুপের কর্মকর্তা বলেন, এখনো চাহিদামতো এলসি খুলতে পারছি না। এছাড়া এলসি খোলার জন্য আমাদের মার্জিন রাখতে হচ্ছে। এতে আমাদের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। এর ওপর এলসি নিষ্পত্তিতে ব্যাংকগুলো আমাদের কাছে ১১১৮ থেকে ১১৯ করে রাখছে। এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের জন্য ‘সিঙ্গেল পার্টি বোরোয়ার লিমিট’ বাড়ানোর প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন। সূত্রে জানা গেছে- ব্যাংকগুলো এখন কী পরিমাণ পেমেন্ট ভবিষ্যতে করতে হবে সেটি আগে থেকেই হিসাব করে রাখছে। সে অনুযায়ী নতুন এলসি খুলছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে এখন ডেফার্ড এলসি পেমেন্টের চাপ কম।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App