×

অর্থ শিল্প বাণিজ্য

দরপতন ঠেকাতে চায়ের নিলামেও ফ্লোরপ্রাইস!

Icon

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : দেশে রেকর্ড চা উৎপাদন হলেও নিলামে টানা কয়েক বছর ধরেই কমছে দাম। এ কারণে লোকসানের মুখে আছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা। পণ্যটির অব্যাহত দরপতন ঠেকাতে এবার নতুন নিয়ম চালু করেছে বাংলাদেশ চা বোর্ড। নিলামে চায়ের ন্যূনতম দাম বা ফ্লোরপ্রাইস বেঁধে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে নিলাম গ্রেড অনুযায়ী ফ্লোরপ্রাইস চূড়ান্ত করেছে বোর্ড। নতুন নিলাম মৌসুম থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্লোরপ্রাইস মেনে নিলামে চা লেনদেন করবে চা উৎপাদক, ব্রোকার্স প্রতিষ্ঠান ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। চলতি বছরের ৬ মার্চ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে চা শিল্পের সার্বিক পরিস্থিতি ও সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, বাড়তি চা উৎপাদনের পরও শ্রমিকদের মজুরি বাড়ার পাশাপাশি বার্ষিক গড় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। এতে বাগান মালিকরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতেই চায়ের মূল্য নির্ধারণ, চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সমতলে চা বাগান সম্প্রসারণে উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত ১ এপ্রিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চায়ের বাজারদর উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে নির্দেশনা দেয়। ১৮ এপ্রিল বাগান মালিক, ব্রোকার্স প্রতিষ্ঠান ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে বৈঠকে বসে বাংলাদেশ চা বোর্ড। ওই বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি চা বোর্ডের দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছয়টি ক্যাটাগরিতে চায়ের প্রস্তাবিত ন্যূনতম নিলাম মূল্যসহ বেশ কিছু সুপারিশ উত্থাপন করা হয়। বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম এসব সুপারিশের অনুমোদন দিয়েছেন। অনুমোদনের পর চা খাতের অংশীজনদের বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থাটি। ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রামে চায়ের প্রথম নিলাম থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ১০টি, শ্রীমলে পাঁচটি ও পঞ্চগড়ের পাঁচটি নিলাম এ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। সূত্রমতে, ফ্লোরপ্রাইস নির্ধারণের জন্য চায়ের ছয়টি বিশেষ গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে। বাগান মালিকরা গ্রেড অনুযায়ী চা সরবরাহের পর ব্রোকার্স প্রতিষ্ঠানগুলো চায়ের লিকার রেটিং করবেন। এ পদ্ধতিতে চায়ের মান-৫ এর মধ্যে ৪ প্লাস বা ৪ রেটিংয়ের ফ্লোরপ্রাইস নির্ধারণ হয়েছে কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা। এছাড়া ৩ প্লাস গ্রেডের জন্য কেজিপ্রতি দাম ২৭০ টাকা, ৩ প্লাস ও ৩ রেটিংয়ের দাম ২৪৫, ৩ মাইনাসের ফ্লোরপ্রাইস ২২৭ এবং ২ প্লাস লিকার রেটিংয়ের চায়ের ফ্লোরপ্রাইস ২১০ টাকা ধরা হয়েছে। এছাড়া চায়ের মান ৫ ধরে লিকার রেটিংয়ে ২ পাওয়া চায়ের ফ্লোরপ্রাইস নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬০ টাকা। চায়ের উৎপাদন খরচ ও নিলাম মূল্যের সামঞ্জস্যতা আনয়নবিষয়ক কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ চা বোর্ডের সদস্য (অর্থ ও বাণিজ্য) মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরী বলেন, চা খাতের সব পক্ষই যাতে বাজারে টিকে থাকতে পারে, সেজন্য চায়ের উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম নির্ধারণ জরুরি হয়ে পড়েছিল। সবচেয়ে কম গ্রেডের চায়ের ন্যূনতম নিলাম মূল্য কেজিপ্রতি ১৬০ ও সর্বোচ্চ মানের চায়ের দাম ধরা হয়েছে কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা। নতুন নিলাম বর্ষের সর্বমোট ২০টি নিলামে পরীক্ষামূলকভাবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে। বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দেশে পর্যাপ্ত চা উৎপাদন হলেও নিলামে চায়ের ন্যায্য বাজারমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। নিলাম পদ্ধতিতে উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে চা বিক্রি করতে হচ্ছে বাগান মালিকদের। টানা কয়েক বছর চায়ের দরপতন হওয়ায় দেশের অনেক বাগান ঋণ পরিশোধ, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেয়া ছাড়াও চা উৎপাদনে নতুন বিনিয়োগে যেতে পারছে না। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চায়ের সর্বনিম্ন মূল্যস্তর দেয়াসহ চায়ের যৌক্তিক দাম নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছিল। এ ব্যাপারে বাংলাদেশীয় চা সংসদের সভাপতি কামরান তানভিরুর রহমান বলেন, টানা কয়েক বছর ধরে দেশের চা খাত লক্ষ্যমাত্রা ও চাহিদার তুলনায় বাড়তি উৎপাদনে রয়েছে। উৎপাদক ছাড়া সেক্টরভিত্তিক সবগুলো পক্ষই চা নিয়ে লাভজনক অবস্থানে রয়েছে। চা খাতের প্রধান স্টেকহোল্ডার বাগান মালিকরা উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে চা বিক্রির মাধ্যমে লোকসানে পড়েছে। আমরা চাই চা উৎপাদন, বিপণন ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে উইন-উইন সিচুয়েশন থাকুক।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App