×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

দূরের জানালা

যে কারণে বিজ্ঞানীদের জেলে ভরছে রাশিয়া

Icon

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

যে কারণে বিজ্ঞানীদের জেলে ভরছে রাশিয়া

কাগজ ডেস্ক : রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন প্রায়ই গর্বভরে বলেন, তার দেশ বিশ্বে প্রথম হাইপারসনিক অস্ত্র তৈরিতে কাজ করছে- যা শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ দ্রুত গতিতে যেতে পারবে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করা একাধিক রাশিয়ান পদার্থবিজ্ঞানীকে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং কারারুদ্ধ করা হয়েছে- যা মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো অতি উৎসাহী কঠোর দমনাভিযান হিসেবে দেখছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বেশির ভাগই বয়স্ক এবং এদের মধ্যে তিনজন এখন মৃত। একজনকে ক্যান্সারের শেষ পর্যায়ে থাকা অবস্থায় হাসপাতালের বিছানা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং কিছুক্ষণ পরেই তিনি মারা যান। আরেকজন হলেন ৬৮ বছর বয়সি ভøাদিস্লাভ গালকিন। তিনি একজন একাডেমিক এবং গত এপ্রিলে দক্ষিণ রাশিয়ার তমস্কে তার বাড়িতে ২০২৩ সালে অভিযান চালানো হয়। একজন আত্মীয় বলেন, কালো মুখোশ পরা সশস্ত্র লোকরা ভোর ৪:০০টায় এসে আলমারির মধ্যে খোঁজাখুঁজি করে এবং বৈজ্ঞানিক সূত্রসহ কাগজপত্র জব্দ করে।

২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১২ জন পদার্থবিজ্ঞানী গ্রেপ্তার হয়েছে- যারা কোনো না কোনোভাবে এই হাইপারসনিক প্রযুক্তি বা এটা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারা প্রত্যেকে ভয়ংকর দেশদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত, যার মধ্যে আছে রাষ্ট্রীয় গোপন খবর বিদেশি রাষ্ট্রে পাচার করা।

রাশিয়ায় বিশ্বাসঘাতকতার বিচার করা হয় বন্ধ দরজার আড়ালে, তাই তাদের বিরুদ্ধে ঠিক অভিযোগটা কী তা স্পষ্ট নয়। ক্রেমলিন শুধু জানিয়েছে ‘অভিযোগগুলো গুরুতর’ এবং যেহেতু বিশেষ বাহিনী এতে যুক্ত তাই এ নিয়ে আর কিছু বলা যাবে না।

কিন্তু তাদের সহকর্মী ও আইনজীবীরা বলছেন, এই বিজ্ঞানীরা অস্ত্র তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিল না, কিছু মামলা দায়ের হয়েছে। তারা যে খোলাখুলিভাবে অন্য দেশের গবেষকদের সঙ্গে মিলে কোনো কাজ করছিল সেটার জন্য। রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা তাস একটি সূত্র উল্লেখ করে বলেছে, জেভেগিন্তসেভের গ্রেপ্তার সম্ভবত ২০২১ সালে একটি ইরানি জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধের কারণে হয়ে থাকতে পারে। গালকিন এবং জেভেগিন্তসেভ দুজনের নামই আছে দ্রুত গতির বিমানের জন্য এয়ার ইনটেক প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে এ সম্পর্কিত একটি নিবন্ধে যা ওই জার্নালে প্রকাশ হয়েছিল। ২০২২ সালের গ্রীষ্মে এফএসবি জেভেগিন্তসেভের দুজন সহকর্মী, যার একজন তিনি যেখানে কাজ করতেন সেখানকার পরিচালক এবং দ্রুত গতির অ্যারোডাইনামিক্স ল্যাবরেটরির সাবেক প্রধানকেও গ্রেপ্তার করে।

থিওরেটিক্যাল অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড মেকানিক্স ইনস্টিটিউট (আইটিএএম)-এর কর্মচারীরা তাদের তিন গ্রেপ্তারকৃত সহকর্মীর সমর্থনে একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন। এখন ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইট থেকে সেটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, তারা ‘দুর্দান্ত বৈজ্ঞানিক ফলাফল’ এর জন্য পরিচিত এবং তারা দেশের স্বার্থের প্রতি ‘সবসময় অনুগত’ ছিলেন।

এতে বলা হয়, তারা যে কাজটি সবার জন্য প্রকাশ করেছিলেন তা বারবার আইটিএএম-এর বিশেষজ্ঞ কমিশনের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছিল যে এতে কোনো স্পর্শকাতর অপ্রকাশযোগ্য তথ্য আছে কিনা- কিন্তু এরকম কিছু পাওয়া যায়নি।

‘হাইপারসনিক এখন এমন একটি বিষয় যে আপনি সেটার জন্য মানুষকে জেলে ভরতে বাধ্য,’ বলছিলেন রাশিয়ার মানবাধিকার ও আইনি সংস্থার প্রথম বিভাগের আইনজীবী ইয়েভজেনি স্মিরনভ। স্মিরনভ দেশদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত বিজ্ঞানী ও অন্যদের হয়ে আদালতে লড়াই করেছেন, কিন্তু তার সেই কাজের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার শঙ্কায় তিনি ২০২১ সালে রাশিয়া থেকে প্রাগে চলে যান। এই গ্রেপ্তারগুলো শুরু হয় কয়েক বছর আগে ৮৩ বছর বয়সি ভøাদিমির লাপিজিনের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে। তিনি ২০১৬ সালে জেলে যান, কিন্তু চার বছর পরে প্যারোলে মুক্তি পান। লাপিজিন ৪৬ বছর ধরে রাশিয়ান মহাকাশ সংস্থার প্রধান যে গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সেই টিএসএনআইআইমাশের হয়ে কাজ করেছিলেন।

লাপিজিনকে একটি অ্যারোডায়নামিক গণনার সফটওয়্যার চীনে একজনের কাছে পাঠানোর জন্য অভিযুক্ত করা হয়। তিনি বলেন, তার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্পূর্ণ প্যাকেজ বিক্রির আলোচনার অংশ হিসেবেই একটি ডেমো সংস্করণ পাঠিয়েছিলেন।

কিন্তু তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি যে ভার্শনসি পাঠান তাতে কোনো গোপন তথ্য ছিল না, ‘বহুবার বিভিন্ন নিবন্ধে বর্ণনা করা’ বিষয়টির একটি উদাহরণ ছিল মাত্র। লাপিজিন বিবিসিকে বলেছেন, হাইপারসনিকের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে যারা গ্রেপ্তার হয়েছিল তারা কেউই ‘অস্ত্র তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না’। দিমিত্রি কোলকার অন্য আরেকজন বিজ্ঞানী যিনি সাইবেরিয়ায় লেজার ফিজিক্স প্রতিষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছিলেন, ২০২২ সালে তিনি যখন গ্রেপ্তার হন সেই সময় তিনি হাসপাতালে গুরুতর অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের জন্য ভর্তি ছিলেন।

কোলকার তার গ্রেপ্তারের দুদিন পর ৫৪ বছর বয়সে মারা যান। ‘এখানে এই ব্যবস্থার ভেতরেই একটা গণ্ডগোল আছে,’ বলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রেপ্তার হওয়া এক বিজ্ঞানীর সহকর্মী।

বিজ্ঞানীরা এখনো আন্তর্জাতিকভাবে তাদের লেখা প্রকাশ করা ও বিদেশি সহকর্মীদের সঙ্গে মিলে কাজ করতে ইচ্ছুক, ‘কিন্তু এদিকে এফএসবি মনে করে বিদেশি বিজ্ঞানীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও বিদেশি জার্নালে লেখা প্রকাশ করা মাতৃভূমির সঙ্গে বেইমানির সমান,’ বলেন তারা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App