×

দূরের জানালা

গাজায় গণহত্যা-বর্বরতার ২০০ দিন

Icon

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

গাজায় গণহত্যা-বর্বরতার ২০০ দিন
কাগজ ডেস্ক : আকাশে বুলেট-বারুদের ধোঁয়া। ঘুম থেকে ওঠলেই সাইরেনের শব্দ। বাড়ির সামনে লিফলেট। ঘর ছাড়ার হুমকি। বিনা নোটিসে বোমা। পালানোর নেই পথ। বাতাসে লাশের গন্ধ। শহরের অলিগলিতে পাথর-কংক্রিটের মাঝে ছিন্নভিন্ন মরদেহ। একদিকে স্বজন হারানোর শোক অন্যদিকে পেটের ক্ষুধা। চিৎকার করার শক্তি ও চোখের পানি দুটোই যেন হারিয়ে গেছে গাজার নিরীহ ফিলিস্তিনিদের। ইসরায়েলের অমানবীয় নৃশংসতায় গত মঙ্গলবার ছিল গাজা যুদ্ধের ২০০ দিন। আলজাজিরা। ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলের আগ্রাসনের মুখে পড়েছে গাজা। অবরুদ্ধ অঞ্চলটিতে বেড়েছে মৃত্যুমিছিল। হয়েছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। ২০০ দিনের বর্বরতায় গাজা উপত্যকায় ৭৫ হাজার টন বিস্ফোরক ফেলেছে ইসরায়েল সেনাবাহিনী। অবরুদ্ধ অঞ্চলটিতে ৩৮,০,০০০টি হাউজিং ইউনিট, ৪১২টি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়, ৫৫৬টি মসজিদ, ৩টি গির্জা এবং ২০৬টি প্রতœতাত্ত্বিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থান ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। এছাড়াও ভয়াবহ এ হামলায় মানুষের মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলের তাণ্ডবে গাজার ৩২টি হাসপাতাল এবং ৫৩টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ও ১২৬টি অ্যাম্বুলেন্সকেও টার্গেট করা হয়েছে। গাজার মিডিয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী অবরুদ্ধ অঞ্চলটিতে ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ৩০ বিলিয়ন ডলার। গাজায় ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে নারী ও শিশুরাই ছিল তাদের মূল টার্গেট। ফিলিস্তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিঃশেষ করতে বদ্ধপরিকর ইসরায়েলি সেনারা। আলজাজিরার তথ্যানুসারে গাজায় এখন পর্যন্ত নিহত নারীর সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। এদিকে যুদ্ধের সবচেয়ে সহজ ও নির্মম শিকার শিশুরা। প্রতিনিয়তই মারা যাচ্ছে তারা। ইসরায়েলের নৃশংসতায় গাজায় প্রাণ গেছে ১৪ হাজার ৬৮৫ শিশুর। এ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমকে সরব দেখা গেলেও এক মাস ধরে অজ্ঞাত কারণে তাদের সক্রিয়তা কমেছে। যেন বিশ্ব ভুলে গেছে এ নির্দোষদের, যারা বোমা, গুলি ও অনাহারে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। জাতিসংঘের ত্রাণবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর গণমাধ্যম উপদেষ্টা আদনান আবু হাসনা জানান, গাজায় শত শত শিশু এতিম হয়ে গেছে। গাজায় এখন ১৮ হাজার এতিম শিশুর বাস, যারা সবকিছুই হারিয়েছে পরিবার, আদর ও জীবন। ইউনিসেফের তথ্যমতে, প্রতি ১০ মিনিটে গাজায় একটি শিশু হতাহত হচ্ছে। এ কারণে দ্রুতই একটি যুদ্ধবিরতি দাবি করছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থাটি। তারা মনে করেন, শুধু যুদ্ধবিরতিই পারে সেখানে অব্যাহত শিশুমৃত্যু ঠেকাতে। এ নিয়ে একাধিকবার জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হলেও কোনো সুরাহা করা সম্ভব হয়নি। এমনকি আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ফিলিস্তিনিদের ওপর নৃশংসতা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর বাইরে গাজায় ত্রাণ সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় অনাহার-অপুষ্টিতে মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে হাজার হাজার শিশু। অনেক শিশু চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে। গাজায় পানি, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সুবিধা না থাকায় দুর্ভোগের প্রকৃত চিত্র উঠে আসছে না। বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকদের সেখানে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। যারা সংবাদ প্রচার করছেন তাদের সপরিবারে হত্যা করা হচ্ছে। ত্রাণপ্রত্যাশী ও ত্রাণকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে। এদিকে ইসরায়েলের হামলা থেকে বাঁচতে গাজার অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত হয়েছে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি। শরণার্থী শিবিরে থেকেও ইসরায়েলি বোমার শিকার হচ্ছে তারা। যুদ্ধের ২০০তম দিনেও কবে এই সংঘাতের অবসান হবে সঠিক তথ্য জানা নেই। মঙ্গলবার এএফপির সংবাদদাতা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজার আশপাশের আল-তুফাহ, শুজাইয়া এবং জেইতুন এলাকায় রাতভর তীব্র গোলাবর্ষণ করেছে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিম গাজা এবং দক্ষিণে খান ইউনিসে গোলাবর্ষণ এবং প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এমনকি গাজার আল-শিফাসহ বড় বড় হাসপাতালে গণকবরেরও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। ইসরায়েলের হামলার ২০০ দিনে গাজায় নিহতদের সংখ্যা ৩৪ হাজার ছাড়িয়েছে এবং আহতদের সংখ্যা ৭৭ হাজারের বেশি। অন্যদিকে যুদ্ধকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধেও প্রতিবাদে সরব হয়েছে ইসরায়েলের বাসিন্দারা। ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সেনাবাহিনী হামাসের হাতে বন্দি রয়েছে ইসরায়েলের নাগরিকরা। যুদ্ধবিরতির শর্তেই তাদের ছেড়ে দেবে হামাস। কিন্তু বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় ভীষণ ক্ষেপেছে দেশটির নাগরিকরা। এমনকি তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছে তারা। ১৮ হাজারের বেশি এতিম শিশু : যুদ্ধের সবচেয়ে সহজ ও নির্মম শিকার শিশু। ফিলিস্তিনের গাজায় প্রতিনিয়তই মারা যাচ্ছে তারা। এ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমকে সরব দেখা গেলেও এক মাস ধরে অজ্ঞাত কারণে তাদের সক্রিয়তা কমেছে। যেন বিশ্ব ভুলে গেছে এ নির্দোষদের, যারা বোমা, গুলি ও অনাহারে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। ইউনিসেফের তথ্যমতে, প্রতি ১০ মিনিটে গাজায় একটি শিশু হতাহত হচ্ছে। এ কারণে দ্রুতই একটি যুদ্ধবিরতি দাবি করছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থাটি। তারা মনে করেন, শুধু যুদ্ধবিরতিই পারে সেখানে অব্যাহত শিশুমৃত্যু ঠেকাতে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App