উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহতের আশঙ্কা
শেরপুরে সিন্ডিকেট করে বেশি দামে বালু বিক্রির অভিযোগ
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৪, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
খোরশেদ আলম, শেরপুর থেকে : জেলার বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দাম বাড়িয়ে বেশি দামে বালু বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ফলে দেশে উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া বালুর দাম বাড়ায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানায় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বালুর দাম নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, প্রতিবছরের মতো এবারো জেলার সীমান্ত নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই, চেল্লাখালি ও ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর বালু মহালগুলো সরকারিভাবে ইজারা দেয়া হয়। তবে সরকারিভাবে এসব মহালের ইজারার মূল্য বাড়ানো না হলেও ইজারাদার ও ড্রেজার মেশিন মালিকরা সিন্ডিকেট গড়ে বেশি দামে বালু বিক্রি করছে।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর প্রতি ট্রাক বালু বিক্রি করা হয়েছে ১২ হাজার টাকায় এবং প্রতি ট্রাক ইজারাদার রাজস্ব আদায় করেছেন ২ হাজার ৫০০ টাকা। তবে এ বছর ইজারাদার ও ড্রেজার মেশিন মালিকরা সিন্ডিকেট গড়ে দাম বাড়িয়ে প্রতি ট্রাক বালু বিক্রি করছেন ৩৫-৪০ হাজার টাকায়। আর ইজারাদার ট্রাকপ্রতি রাজস্ব আদায় করছেন ১০ হাজার টাকা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নেত্রকোনার দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর বালু দিয়ে সারাদেশের উন্নয়নমূলক কাজের চাহিদা পূরণ করা হতো। কিন্তু ইজারাদারদের মধ্যে সৃষ্ট দ্ব›েদ্ব আদালতে মামলাসংক্রান্ত জটিলতায় বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। এ কারণে উন্নয়নকাজ চালু রাখতে বালুর চাহিদা বেড়ে যায়। এর ফলে শেরপুরের সীমান্তের বালু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট গড়ে ১২ হাজার টাকার বালু বিক্রি করছেন ৪০ হাজার টাকায়। বালুর দাম আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে। এমন অভিযোগ বিভিন্ন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের।
অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলার উদ্দেশ্যেই বালু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট গঠন করে বালুর দাম বাড়িয়েছেন। জরুরি ভিত্তিতে সিন্ডিকেট ভেঙে বালুর বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে নির্মাণ ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে সোমেশ্বরী নদীর বালুমহালের ইজারাদার সামীম আহমেদ বলেন, আমরা কোনো সিন্ডিকেট করিনি। চাহিদার তুলনায় বালু উত্তোলন কম। এছাড়া উত্তোলন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বেশি দামে বালু বিক্রি করতে হচ্ছে। একই কথা বলেছেন অন্য বালু ব্যবসায়ীরাও। এ বিষয়ে শেরপুরের জেলা প্রশাসক তরফদার মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
