×

সারাদেশ

ঝালকাঠিতে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়েই চলছে যানবাহন

প্রতি বছর সংস্কারে অর্থ ব্যয়

Icon

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতি বছর সংস্কারে অর্থ ব্যয়

মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি (শহর) থেকে : ঝালকাঠির বাসন্ডা নদীর উপর ১৯৯১-৯২ অর্থবছরে নির্মাণ করা হয় ১২৪ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৭ দশমিক ৩০ মিটার প্রস্থের বেইলি ব্রিজ। নির্মাণের ৩৪ বছর পরও এর উপর দিয়ে চলেছে যানবাহন। বর্তমানে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মেরামত করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষ তিন বছর আগে এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করলেও নতুন সেতু নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি সেতু বিভাগ। প্রতি বছর ব্রিজ সংস্কারে ব্যয় করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।

ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ মাসে ব্রিজটি মেরামতে খরচ গুনতে হয়েছে প্রায় চার লাখ টাকা। প্রতিদিনই ছুটে যাচ্ছে ঝালাই, স্থানচ্যুত হচ্ছে প্লেট এবং খুলে যাচ্ছে নাট-বল্টু। এরপরও সেতুর উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ভারী যানবাহন। গাড়ি উঠলেই ব্রিজটি দুলতে থাকে। ফলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। ব্রিজটি ভেঙে পড়লে ঝালকাঠি থেকে বরগুনা পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা ও যশোরসহ সীমান্তবর্তী এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। স্টিলের ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে একটি কংক্রিটের ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পাঠানো হয়েছে। সেটি অনুমোদিত হলে নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, দরপত্র ছাড়া নিজস্ব তত্ত্বাবধানে বছরে তিনবার ব্রিজটি মেরামত করে সড়ক বিভাগ। প্রতিবার খরচ হয় ৬ লাখ টাকা। গাবখান সেতু টোলপ্লাজা থেকে জানা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭শ ভারী যানবাহন চলাচল করে। বারবার মেরামত করা হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই ফের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ট্রাকচালক মহিম মিয়া বলেন, লোড ট্রাক নিয়ে ব্রিজে উঠলে মনে হয় এই বুঝি ভেঙে পড়ল। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। খুলনাগামী একটি বাসের চালক মালেক হাওলাদার বলেন, রাতে ব্রিজ পার হওয়ার সময় যে শব্দ হয়, তাতে মনে হয় গাড়ির চাকা থেকে টায়ার খুলে গেছে। ব্রিজটি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। মেরামতে আর কাজ হবে না। নতুন করে নির্মাণ করা দরকার। যাত্রী আবুল কাশেম বলেন, আমাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে। এ ব্রিজের পাশেই রয়েছে নেছারাবাদ মাদ্রাসা, যেখানে মাহফিল অনুষ্ঠিত হলে প্রচুর যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। যানবাহনের চাপে দুলতে থাকে ব্রিজটি।

ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরীফ খান বলেন, এ ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ইতোমধ্যে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য আমরা ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি সম্পন্ন করেছি। বাকি তথ্যগুলো আমরা প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে পাঠিয়েছি। ডিপিপি বাস্তবায়ন হলে শিগগির এখানে নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।

তিনি বলেন, প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির জন্য ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইম্প্রুভমেন্ট প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালকের কাছে সম্ভাব্য সেতুর যে তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে তার মধ্যে বাসন্ডা সেতুর নামও রয়েছে। অনুমোদন পেলেই নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ বাসন্ডা বেইলি সেতুটি কংক্রিট দিয়ে নির্মাণ করার জন্য নকশা একে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী আরো বলেন, আমি যোগদানের পর ৯ মাসে ৪ লাখ টাকা দিয়ে ব্রিজটি মেরামত করেছি। ২০২১ সালের ২৩ ডিসেম্বর ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা সেতুটি বর্তমানে ঝালকাঠি সড়ক বিভাগের গলার কাঁটা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App