×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

সারাদেশ

চান্দিনার জমিদার ভৈরব চন্দ্রের ধ্বংসপ্রায় ভবন সংরক্ষণের দাবি

Icon

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চান্দিনার জমিদার ভৈরব চন্দ্রের ধ্বংসপ্রায় ভবন সংরক্ষণের দাবি

চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : ভৈরব চন্দ্র সিংহ ছিলেন কুমিল্লা ও ত্রিপুরা রাজ্যের জমিদার। বর্তমান কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মহিচাইলের জমিদার ভৈরব চন্দ্র সিংহের ধ্বংসপ্রায় ভবন। এখনো এখানে তার বংশধররা বসবাস করছেন। ভবনটা পরিত্যক্ত। ভৈরব চন্দ্র সিংহ জমিদার বাড়ির গ্রাম থেকে জমিদারি করতেন। আজো তার বাড়ি ও সমাধিস্থল দেখে মুগ্ধ হন মানুষ। অসংখ্য মানুষ ভিড় জমান তার বাড়িতে। সুন্দর নকশা করা বাড়ি। তবে বিভিন্ন সময়ে একটু একটু করে ভেঙেছে। তাই তিন তলা জমিদার বাড়িটি ভেঙে এখন দুই তলায় পরিণত হয়েছে।

ভগ্নদশায় পড়ে থাকা বাড়িটির ভেতরে বড় বড় কক্ষ। ছাদে জমে থাকে বৃষ্টির পানি। সংরক্ষণের অভাবে ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে কক্ষের ভেতর। ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা যায় ছোট একটি দরজা। ভেতরে উঁকি দিলে দেখা যায় মাটির নিচে কক্ষের মতো। যারা ঠিক সময়ে খাজনা দিতে পারতেন না, তাদের এই কক্ষে আটকে রাখা হতো।

মূল জমিদার বাড়ির দোতলায় রয়েছে একটি জলসা ঘর। সেখানে নাচ-গান হতো। দেয়ালগুলো এখনো সেই স্মৃতি বহন করে চলছে। প্রতিটি দেয়ালে ছোট ছোট খোপ আছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসবে শরাব রাখা হতো। দেয়ালে কারুকাজ স্পষ্ট। এখন সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ চোখে পড়বে। তিন তলায় একটি সিংহের মূর্তি ছিল। তিন তলা ক্ষয়ে গেছে। তাই এখন আর সিংহের মূর্তিটি নেই।

জমিদার বাড়িতে বেশ কয়েকটি পরিবার বাস করে। তাদের মধ্যে একটি পরিবার রয়েছে, যারা জমিদারদের পঞ্চম প্রজন্ম বলে দাবি করে। এ বাড়ির ছেলে সুজন চন্দ্র দে। তিনি ভোরের কাগজকে জানান, জমিদার ভৈরব চন্দ্র সিংহ সম্পর্কে তার বড় বাবা। তার মা এ বাড়ির অনেক ইতিহাস জানেন। সুজনের মায়ের নাম ল²ী রানী দে। জমিদার বাড়ির বউ। কথা হয় তার সঙ্গে। ল²ী রানী দে জানান, ১৯৫২ সালে তার জন্ম। তাই এ বাড়ির কিছু ইতিহাস তিনি জানেন এবং কিছু দেখেছেন। জমিদার ভৈরব চন্দ্র সিংহের দুই ছেলে। হরধর চন্দ্র সিংহ ও কামিনী চন্দ্র সিংহ। জমিদার বাড়ির প্রবীণ মানুষ ক্ষিতিশ চন্দ্র সিংহ। তিনি ২০১৬ সালে মারা যান। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি জমিদার ভৈরব চন্দ্র সিংহের নাতি ছিলেন।

ভৈরব চন্দ্র সিংহ বেশ প্রতাপশালী জমিদার ছিলেন। আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন ছিল জমিদার বাড়ির মানুষজনের। দূরবর্তী যাতায়াতের জন্য জমিদার বাড়ির পুরুষরা হাতি ও ঘোড়া ব্যবহার করতেন। নারীদের জন্য পালকি ছিল। জমিদারি প্রথার বিলুপ্তির অনেক বছর পর্যন্ত সেই পালকিটি ছিল। ল²ী রানী দে সেই পালকিটি দেখেছেন। পরে সংরক্ষণের অভাবে সেটি নষ্ট হয়ে যায়। দুর্গাপূজায় এই বাড়িতে বড় মহিষ বলি দেয়া হতো। তখন বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষের জমায়েত হতো। বাড়িটিতে দীর্ঘ সময় ধরে উৎসব হতো। সময়ের কালক্রমে জমিদারি প্রথার বিলুপ্তি হয়। ভেঙে পড়ছে জমিদারি বাড়িটি। নেই সেই উৎসব। ইতিহাস-ঐতিহ্যের সেই স্মৃতিচিহ্ন জমিদার বাড়ি, ঘোড়া-হাতি আস্তাবল জলসা ঘর। স্থানীয়দের দাবি, জমিদার ভৈরব চন্দ্র সিংহের বাড়িটি যেন সংরক্ষণ করা হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App