×

সারাদেশ

সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের সম্মেলন সেপ্টেম্বরে

সভাপতি-সম্পাদক পদ পেতে তৎপর ৪২ নেতা

Icon

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মো. সাজ্জাদ হোসেন শাহ্, সুনামগঞ্জ থেকে : সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের সম্মেলন করতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় যুবলীগ। জেলার দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই হতে পারে সংগঠনের জেলা সম্মেলন। এরই মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে জেলা আওয়ামী লীগের তিন শীর্ষ নেতার তিনটি গ্রুপের ৪২ জনেরও বেশি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা লবিং ও তদবিরে রয়েছেন বলে সংগঠনের একাধিক দায়িত্বশীলরা নিশ্চিত করেছেন। তারা সবাই কেন্দ্রীয় দপ্তরে বায়োডাটা জমা দিয়েছেন।

জানা যায়, আট বছর পর জেলা যুবলীগের সম্মেলন করার উদ্যোগ নেয়ায় জেলাজুড়ে আওয়ামী লীগের এ সহযোগী সংগঠনটি সরগরম হতে দেখা গেছে। একটি সূত্রে জানা গেছে, পদ পেতে আগ্রহীরা এখন রাজধানীতেই সময় কাটাচ্ছেন বেশি। সংগঠনের একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্মেলনের মাধ্যমে কিংবা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে সেপ্টেম্বরে জেলা যুবলীগের নতুন কমিটি হচ্ছে এটি অনেকটা নিশ্চিত।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল হুদা মুকুট, সাধারণ সম্পাদক নোমান বখত পলিন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক বর্তমান আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমনের সমর্থকরা পৃথকভাবে বায়োডাটা জমা দিয়ে যার যার বলয়ের নেতাদের কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন।

২০২৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের জেলা সম্মেলনে জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান সেন্টু জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হন। যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির বেশির ভাগ সদস্য আওয়ামী লীগের জেলা কমিটিতে স্থান পান। এতে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা জেলা কমিটি করার জন্য সম্মেলন করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ পেতে আগ্রহীদের বায়োডাটা জমা দেয়ার জন্যও নির্দেশ দেয়া হয়।

সভাপতি পদ প্রত্যাশীদের মধ্যে বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার মঞ্জুর আহমদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, কেন্দ্রীয় যুবলীগের উপসাংস্কৃতিক সম্পাদক ফজলে রাব্বি স্মরণ, ছাতক উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম কিরণ, জেলা যুবলীগের বর্তমান কমিটির সদস্য সবুজ কান্তি দাস, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মনিষ কান্তি দে মিন্টু, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ তারিক হাসান দাউদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মোরছালিন আহমদ আরিফ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নিহার তালুকদার, সুব্রত সরকার, এমদাদ আহমেদ, সোহেল আহমদ, কামরুল ইসলাম, নুরুল আমিন, রাজন তালুকদার, শাহ্ রুবেল আহমদ, ঝুমুর তালুকদার, জাবির আহমদ জাবেদ বায়োডাটা জমা দিয়েছেন।

সাধারণ সম্পাদক পদে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমদ চৌধুরী, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফারুক আহমদ সুজন, জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি দীপংকর কান্তি দে, যুবলীগের সদর উপজেলা সভাপতি এহসান আহমদ উজ্জ্বল, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবুল হোসেন, রঞ্জিত চৌধুরী রাজন, জমিরুল হক পৌরব, শাহ্ মহসিন আহমদ, ইসতিয়াক আলম পিয়াল, মনিরুজ্জামান মনির, তানজিল তিমু, মির্জা জাকির সুমন, আক্তার ইবনে আজিজ লিটন, বদরুল আলম টিপু, রুমেন চৌধুরী, সোহেল আহমদ (মুরারবন্দ), মামুনুর রশিদ সালমান, হুমায়ুন কবীর পাপন, শোভন আহমদ, সাজিদুর রহমান লিমন, আপ্তাব উদ্দিন, মোয়াজ্জেম হোসেন রুকন, রনি তালুকদার, কাওছার আহমদ ও জনি আহমদ বায়োডাটা জমা দিয়েছেন।

সংগঠনটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সভাপতি পদে বর্তমান আহ্বায়ক সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপলের বায়োডাটাও জমা দিয়েছেন তার সমর্থকরা।

খায়রুল হুদা চপল ভোরের কাগজকে জানিয়েছেন, তার সময়কালে যুবলীগ সম্মানের সঙ্গে সক্রিয় ছিল। মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছে সংগঠনটি। তিনি চান নতুন নেতৃত্ব আসুক, যারা চাঁদাবাজিসহ কোনো অপকর্মে নিজেকে যুক্ত করবে না। ক্লিন ইমেজে রাখবে যুবলীগকে তারাই আসুক নেতৃত্বে। এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নোমান বখত পলিনের সমর্থকরা সভাপতি পদে মনিষ কান্তি দে মিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক পদে আবুল হোসেনের পক্ষে লবিং-তদবির করছেন বলে জানা গেছে। নোমান বখত পলিন বলেন, ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যাদের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি ছিল, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে তাদের যুবলীগের নেতৃত্বে দেখতে চাই। আমি কারো পক্ষে তদবির করছি না। ব্যারিস্টার ইমনের সমর্থকরা ফজলে রাব্বী স্মরণকে সভাপতি ও পৌরব আহমদকে সম্পাদক দেখতে চান বলে জানা গেছে।

এম এনামুল কবির ইমন বলেন, আমি কারো সুপারিশ করছি না। আমি আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়ে ১৩ বছর পর যুবলীগকে সক্রিয় করেছিলাম। জেলাজুড়ে জাগরণ তৈরি হয়েছিল। আমি চাই সাহসী, প্রতিভাবান সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা যুবলীগের নেতৃত্বে আসুক।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App