×

সারাদেশ

পরিত্যক্ত ভবনে চলছে কয়রা সমাজসেবা অফিসের কাজ

Icon

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পরিত্যক্ত ভবনে চলছে কয়রা সমাজসেবা অফিসের কাজ

শেখ সিরাজউদ্দৌলা লিংকন, কয়রা (খুলনা) থেকে : অবকাঠামো, কারিগরি ও জনবল সংকট সঙ্গী করেই চলছে খুলনার কয়রা উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়। এ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঝুঁকিপূর্ণ অফিসে বসে ২ লাখের বেশি মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। অফিসটি ৮ বছর আগে পরিত্যক্ত হিসেবে ঘোষণা করা হলেও, এখানে বসেই কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসের সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৯ সালে নির্মিত দুই রুমের আধাপাকা টিনসেডের সমাজসেবা অফিসটি ২০১৬ সালে উপজেলা পরিষদ পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। কোনো উপায় না থাকায় সেই সময় থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসঘর ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকদিন ধরেই অফিসঘরের টিনের ছাউনি ছিদ্র, অল্প বৃষ্টিতেই পানি পড়ে। চেয়ার টেবিল আসবাবপত্র অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে জরুরি কাগজপত্র। অকেজো হয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রাখার দুটি আলমারি। বাকি পাঁচটি আলমারি নষ্টের পথে। অফিসঘরের জানালা দরজা নেই বললেই চলে। পলেস্তারা খসে দেয়ালের ইট হা-মুখ করে রয়েছে। বৃষ্টির হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনেকটা কাকভেজা হয়েই সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যান। তবে এতে বিঘœ সেবায়।

২০১২-১৩ অর্থবছরে পরিত্যক্ত ঝুঁকিপূর্ণ অফিসঘরের পাশে দুই রুমের একতলা ভবন নির্মাণ হলেও সেটির অবস্থাও জরাজীর্ণ। উপকূলীয় বিশাল জনগোষ্ঠীর সেবাদানে ১১ জন কর্মকর্তা কর্মচারীর থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র আটজন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপজেলা সদরসহ সাতটি ইউনিয়নের বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি, দলিত শিক্ষা উপবৃত্তি, হিজড়া ভাতা, দলিত অনগ্রসর ভাতা, ৬টি এতিমখানা, ৭০-৮০টি সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, অসুস্থদের আর্থিক সহযোগিতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহযোগিতা, শিশু সুরক্ষা কার্যক্রম, পল্লী মাতৃকেন্দ্র, দগ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন কার্যক্রম, প্রতিবন্ধী জরিপ ও সুবর্ণ নাগরিক কার্ড দেয়াসহ বিভিন্ন সেবার আওতায় ২ লাখের বেশি মানুষকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এছাড়া প্রতিদিন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সেবা নিতে আসা নারী-পুরুষ প্রতিবন্ধী, ছোট বাচ্চা, মা, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ সেবা প্রার্থীদের দাঁড়ানো বা বসার কোনো জায়গা নেই। সেবাপ্রার্থীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভাঙাচোরা অফিসঘরের বাইরে কখনো রোদে পুড়ে, কখনো বৃষ্টিভেজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। প্রকৃতির ডাক এলে তাদের কোনো উপায় থাকে না। অফিসের আশপাশে অন্য কোনো ভবন না থাকায় বৃষ্টি এলেই সেবাপ্রার্থীদের দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। এ সময় প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও ছোটবাচ্চার মায়েদের বৃষ্টিস্নাত হওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, জনবল ও অবকাঠামো সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এ মুহূর্তে জনবল সংকট ও অফিসের ভাঙাচোরা ও জরাজীর্ণ অবস্থার মধ্যেই সেবাপ্রার্থীদের শতভাগ সেবা দেয়া চেষ্টা করছি। শূন্যপদে জনবল নিয়োগসহ অফিস সংস্কার করে উন্নত করা হবে। এতে সেবার মান তখন আরো বাড়বে বলে আশা করা যায়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App