×

সারাদেশ

মহাদেবপুরে ৫ স্কুলভবন মেরামত প্রকল্প

কাজ না করে টাকা উত্তোলন করলেন শিক্ষা কর্মকর্তা

Icon

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

গৌতম কুমার মহন্ত, মহাদেবপুর (নওগাঁ) থেকে : মহাদেবপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন মেরামত প্রকল্পের কাজ শুরুর আগেই অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। গত অর্থবছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় উন্নয়ন কর্মসূচি পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয় ভবন মেরামতের জন্য ১০ লাখ টাকা দেয়। উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের খোর্দজয়পুর লতিফুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিরামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভীমপুর ইউনিয়নের খোর্দনারায়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সফাপুর ইউনিয়নের গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের শিবরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামতের জন্য ওই বরাদ্দ দেয়া হয়। এ প্রকল্পে প্রতিটি বিদ্যালয়ের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গত ৩০ জুনের মধ্যেই ওই প্রকল্পের কাজ শেষ করাসহ এ ব্যয় বরাদ্দের টাকা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা দিতে হবে। তবে ৩০ জুন পর্যন্ত খোর্দজয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া অপর চারটি বিদ্যালয় এ প্রকল্পের কাজ গত ৭ জুন পর্যন্ত শেষ করতে পারেনি। এ প্রকল্পের কাজ শেষ না করে ৩০ জুনের আগেই ওই চারটি বিদ্যালয় তাদের ব্যয় বিল ভাউচার দাখিলের মাধ্যমে বরাদ্দের টাকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাব নম্বরে নেয়া হয়েছে।

সূত্রমতে, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করবে। কাজ শেষ করে ভাউচার দাখিলের মাধ্যমে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে কাজের শতভাগ সম্পন্নের প্রত্যয়ন পাবে। প্রত্যয় পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ব্যাংক হিসাবে প্রকল্পের ব্যয়ের সব টাকা জমা হওয়ার নিয়ম থাকলেও সেটা মানা হয়নি।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের একটি সূত্র জানায়, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ৩০ জুনের আগেই ওই পাঁচটি বিদ্যালয় মেরামত প্রকল্পের বিল ভাউচার জমা দেয়া হয়েছে। সরকারি ট্যাক্স কেটে রেখে হিসাবরক্ষণ অফিস প্রকল্পের সব টাকা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার চাহিদা অনুযায়ী তার নিজের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেছে।

এ প্রকল্পের কাজ শুরু করতে না পারার সত্যতা স্বীকার করে শিবরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুলালী রাণী জানান, ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করা না দেখালে প্রকল্পের টাকা ফেরত যাবে। এজন্য কাজ শেষ না করে সবাই ভাউচার দিয়েছেন, তাই তাদের মতো তিনিও ভাউচার দিয়েছে।

এদিকে গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিলোনা রাণী জানান, এখন পর্যন্ত এ প্রকল্পের কাজ তিনি শেষ করতে পারেননি। ৩০ জুনের মধ্যে বিদ্যালয় মেরামত কাজের বিল ভাউচার দাখিল না করলে বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরত যাবে। এজন্যই প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই আগাম ভাউচার দাখিল করেছেন বলে তিনি জানান। এ প্রকল্পের এস্টিমেট তৈরি ও দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সার্ভেয়ার আশিকুর রহমান জানান, নিয়মানুযায়ী বাজার দরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রকল্পের এস্টিমেট তৈরি করা হয়েছে। খোর্দজয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় প্রত্যয়ন দেয়া হয়েছে। অন্য চারটি বিদ্যালয়ের কাজ শেষ হলে পরিদর্শন শেষে প্রত্যয়ন দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাফিয়া আকতার অপু জানান, প্রকল্পের কাজে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। ওই চারটি বিদ্যালয়ের কাজ শেষ না হওয়ায় ৩০ জুনের আগে প্রকল্পের টাকা ভাউচার দিয়ে তার নিজের একাউন্টে নিয়ে রেখেছেন। যেদিন কাজ শেষ হবে, উপজেলা প্রকৌশলী প্রত্যয়ন দেবেন, তখনই ওইসব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের হিসাব নম্বরে টাকা দেয়া হবে। নিয়মানুযায়ী প্রকল্পের টাকা সরাসরি প্রধান শিক্ষকদের হিসাব নম্বরে না দিয়ে তার নিজের ব্যাংক হিসাবে রাখাটাও বেআইনি হয়নি বলেও দাবি করেন এই শিক্ষা কর্মকর্তা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App