×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

সারাদেশ

শ্যামনগরে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিক

Icon

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আনিস সুমন, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) থেকে : শ্যামনগরে যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেরই নেই স্বাস্থ্য বিভাগের লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। কিছু প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স থাকলেও নবায়ন হয় না। এতে একদিকে মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে কাক্সিক্ষত স্বাস্থ্যসেবা থেকে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে মোটা অঙ্কের রাজস্ব।

জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য মতে, জেলায় বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে ১২০টি। এর মধ্যে শ্যামনগরে ২০টির মতো বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যে পরিমাণ নিজস্ব চিকিৎসক ও নার্সসহ জনবল থাকার কথা তা নেই কোনোটিতেই। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকের ওপর নির্ভরশীল এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক চলছে প্রশাসনের নাকের ডগাতেই। ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর পরিস্থিতিও একই রকম। ৫০টির মতো রয়েছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার অথচ তার অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেই প্যাথলজিস্ট, টেকনিশিয়ান ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। এরপরও বছরের পর বছর চলছে এসব প্রতিষ্ঠান।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে কমিশন পাচ্ছে দালাল চক্র। ফলে উন্নত চিকিৎসাসেবার নামে মানুষ ঠকানোর ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। এতে প্রতিনিয়ত অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন রোগীরা। অধিকাংশ ক্লিনিক বা হাসপাতালের নেই কোনো বৈধ কাগজপত্র। এছাড়া হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজ থাকলেও তা ২০১৯ সালের পর আর নবায়ন হয়নি, তারপরও কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই চলছে প্রতিষ্ঠানগুলো। শ্যামনগর স্বাস্থ্য কম্পপ্লেক্স থেকে দালালের মাধ্যমে রোগী এনে বিভিন্নভাবে ভুল বুঝিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অপারেশনে বাধ্য করছে। বেসরকারি হাসপাতালে গর্ভবতীরা এলে প্রথমে পাঠানো হচ্ছে প্যাথলজি সেন্টারে। সেখানে একাধিক টেস্ট দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। এরপর প্যাথলজি সেন্টারে বলে দিচ্ছে, বাচ্চার ওজন যাই থাকুক ২৫০০ গ্রাম রিপোর্টে লিখে দিতে হবে। বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের নির্দেশ মতো বাচ্চার ওজন ১৪০০ অথবা ১৫০০ গ্রাম থাকলেও ২৫০০ গ্রাম করে দিচ্ছে। কারণ বাচ্চার ওজন ২৫০০ গ্রামের কম হলে অপারেশন করা যায় না। এতে বাচ্চা প্রসূতির বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। এভাবে সিজার করার কারণে প্রায়ই প্রসূতি ও বাচ্চার মৃত্যুর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কাগজপত্র না থাকার কথা স্বীকার করে এক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বলেন, আমরা স্বাস্থ্য বিভাগের লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছি। শুধু আবেদন করেই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন কেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সিভিল সার্জনের অনুমতি নিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছি।

এ ব্যাপারে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেব। এ ব্যাপারে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজিবুল আলম বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশ পেলে অভিযান পরিচালনা করব।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App