×

সারাদেশ

সুনামগঞ্জে কমছে পানি বাড়ছে রোগের প্রকোপ

Icon

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মো. সাজ্জাদ হোসেন শাহ, সুনামগঞ্জ থেকে : হাওরের জেলা সুনামগঞ্জে দ্বিতীয় দফা বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এখন ভেসে উঠছে বন্যার ক্ষত। দুদফা বন্যায় জেলার সড়কের হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে। এবার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ। প্রতিদিনই আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে জ¦র, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের পাশাপাশি বয়স্করাও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

তাহিরপুর উপজেলার উজান তাহিরপুর গ্রামের আসকর বলেন, ঘরের ৮ জনের মধ্যে সবাই সর্দি, কাশি ও জ¦রে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় পড়ে আছে। জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক গ্রামের তোফায়েল আহমদ বলেন, ঘরের ৫ জনের সবারই সর্দি, জ¦র সেই সঙ্গে হালকা গলা ব্যথাও আছে।

ধর্মপাশা উপজেলার চকিয়াচাপুর গ্রামের সৌরভ হাসান বলেন- গত পাঁচ দিন ধরে ঘরের ৭ সদস্যের মধ্যে সবারই সর্দি, জ¦র এবং কাশি।

সরজমিন জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায়, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে গত কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শিশুরা হাসপাতালে আসছেন। শিশুদের পাশাপাশি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত বয়স্করাও রয়েছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার পর্যন্ত ৬২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ২৭ জন শিশু, ১৯ জন নারী এবং পুরুষ রোগীর সংখ্যা ১৬ জন। তারা অধিকাংশই ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। এছাড়া প্রতিদিন জ¦র-সর্দি নিয়ে অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে আসছেন।

ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের ছাতারকই গ্রামের আনছার মিয়া বলেন, গত চার দিন আগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয় তার দেড় বছরের শিশু। তাকে নিয়ে হাসপাতালে এলে চিকিৎসক তাকে ভর্তি দেন।

হাসপাতালে ভর্তি দুই মাসের এক শিশুর মা বলেন, হাসপাতালে ভেতরে শিশু রোগীদের সংখ্যা খুব বেশি। শিশুরা শুধু কান্না করছে। তিন দিন ধরে শিশু সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে আছি।

জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আরা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের পাশাপাশি বয়স্কদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে চাপ বাড়ছে। ৫০ শয্যা হাসপাতালে প্রায়শই ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। বন্যা পরিস্থিতিতে আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণসহ আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়েও মেডিকেল ক্যাম্প করেছি। সুনামগঞ্জের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. শুকদেব সাহা জানিয়েছেন, গত একমাস ধরেই সুনামগঞ্জের আবহাওয়া তেমন একটা ভালো যাচ্ছে না। এজন্যই মূলত সর্দি, কাশি হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। তাছাড়া এ সময়ে এটা হয়েই থাকে। জেলার কোনো উপজেলাতেই ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী তেমন একটা নেই। এ জন্য ভয় পাওয়ার কিছু নেই জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App