×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

সারাদেশ

কাঁঠালিয়া

ভাঙা বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে ডুবছে ঘরবাড়ি-জমি

Icon

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ভাঙা বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে ডুবছে ঘরবাড়ি-জমি

মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি থেকে : ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার বিষখালী তীরবর্তী বেড়িবাঁধটি বড় বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিবারই বিধ্বস্ত হয়। এবারো ঘূর্ণিঝড় রেমালে বিষখালী নদীর সাড়ে তিন কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে প্রতিদিন দুবার জোয়ারের পানি ঢুকে তলিয়ে যায় গ্রামের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন দেখা দেয়ায় আতঙ্কিত তীরের বাসিন্দারা। সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা যায়, কাঁঠালিয়া উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধের কিছু অংশ চলতি বছরের শুরুতে মেরামত করা হয়। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় রেমালে উপকূলীয় জেলা ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে ছয়-সাত ফুট পানি বাড়ে। এতে বিষখালী নদী তীরের অরক্ষিত বেড়িবাঁধের সাড়ে ৩ কিলোমিটার ভেঙে ফসলি জমি ও বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ে।

ঘূর্ণিঝড়ে উপজেলার আমুয়া, আউরা, জয়খালী, চিংড়াখালী, বড় কাঁঠালিয়া, আওরাবুনিয়া গ্রামের প্রায় ২০০ ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ শত শত একর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পানির তোড়ে গ্রামের কাঁচা পাকা রাস্তা ভেঙে গেছে।

বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় চরম আতঙ্কে রয়েছে নদীর তীরবর্তী মানুষ। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বিষখালি ও সুগন্ধা নদীর ৪৮ কি.মি বেড়িবাঁধের মধ্যে কাঁঠালিয়া উপজেলার ২৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের পুরোটাই নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বিষখালী নদীর হাত থেকে কাঁঠালিয়া উপজেলাকে রক্ষা করতে হলে সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

কাঁঠালিয়া লঞ্চঘাট এলাকার শ্রমিক আবুল কালাম বলেন, নতুন বেড়িবাঁধ করার পরে ভাবছিলাম একটু শান্তিতে থাকতে পারব। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে আবারো বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এখনও ঘরের মধ্যে পানি ঢোকে। জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় মালামাল। কোথাও থাকার জায়গা নাই।

লঞ্চঘাট এলাকার রিকশাচালক আব্দুল আজিজ বলেন, ঘরের মধ্যে পানিতে থৈ থৈ করে। পানির মধ্যেই আমরা বসবাস করি। এখন ছেলেমেয়ে নিয়ে থাকার মতো কোনো জায়গা নেই। বেড়িবাঁধটা ঠিক করে দিলে আমরা একটু শান্তিতে থাকতে পারব।

গৃহকর্মী দুলি বেগম বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের দিন বেড়িবাঁধের সঙ্গে আমাদের ঘরও ভেঙে গেছে। ঘর একটু ঠিকঠাক করছিলাম, কিন্তু বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি এখনো ঘরের মধ্যে ঢোকে। কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নেছার উদ্দিন বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে কাঁঠালিয়া উপজেলায় বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নতুন বেড়িবাঁধের সাড়ে তিন কিলোমিটার ভেঙে গেছে।

অনেক স্থানে বেড়িবাঁধ না থাকায় এখনো জোয়ারের পানি ঢুকছে। বেশি পানি উঠলে উপজেলা পরিষদেও পানি ওঠে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি চিঠি দিয়ে জানিয়েছি। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যেই বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশে কাজ শুরু করা হবে।

ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম নিলয় পাশা বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে পানি বেড়ে স্রোতে সাড়ে তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গিয়েছে। বেড়িবাঁধের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। প্রকল্প তৈরি করে বর্ষার আগে বেড়িবাঁধ রক্ষায় কাজ শুরু হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App