×

সারাদেশ

জগন্নাথপুর

ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে চলছে ভারী যান, দুর্ঘটনার শঙ্কা

Icon

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে চলছে  ভারী যান, দুর্ঘটনার শঙ্কা

রিয়াজ রহমান, জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) থেকে : জগন্নাথপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসংলগ্ন নলজুর নদীর উপর ডাকবাংলো সেতুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেতুটি ভেঙে পড়ে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

নলজুর নদীর উপর জগন্নাথপুর খাদ্য গুদামসংলগ্ন সেতুর নির্মাণকাজ চলমান থাকায়, এর পাশে বিকল্প বেইলি ব্রিজ বসানো হয়। নদীর পানি বাড়ায় বেইলি ব্রিজটি তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ডাকবাংলো সেতু দিয়ে যান চলাচল করছে। এই সেতু দিয়ে যান চলাচল বেড়ে যাওয়ায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এতে চরম ভোগান্তিতে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ পথচারীরা। ডাকবাংলো সেতুর উপর দিয়ে ভারী যান চলায়, এটির ভেঙে পড়া আশঙ্কায় রয়েছেন এলাকাবাসী।

বছর দুই আগে এটি দেবে গেলে, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় সেতুটি। তবে কিছুদিন পর পায়ে হেঁটে চলাচলের জন্য খুলে দেয়া দেয়া হয়। গত বছরের ২৩ মার্চ জগন্নাথপুর পৌরসভা সেতুটি স্টিলের পাটাতন দিয়ে মেরামত করে দেয়। এরপর শুরু হয় হালকা যান চলাচল। কিন্তু জগন্নাথপুর সদর বাজারে ভারী মালামাল পারাপারে বিকল্প রাস্তা না থাকায় প্রায়ই মালভর্তি ভারি যান পার হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতু দিয়ে। গত বছরের ২২ আগস্ট সুনামগঞ্জ-পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের জগন্নাথপুর অংশে বেইলি ব্রিজ ভেঙে সিমেন্টবোঝাই ট্রাক কাঁটা নদীতে পড়ে দুজন মারা যান। এ দুর্ঘটনা ডাকবাংলো সেতু দিয়ে যাতায়াতকারী লোকজনকে আতঙ্কিত করে তুলেছে।

যাত্রীরা বলেন, সেতুটি ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় চলাচলের সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আফু মিয়া বলেন, ডাকবাংলো সেতুর অবস্থা খুবই নাজুক। গত ৩ জুলাই মোটরসাইকেল থেকে একটি শিশু নদীতে পড়ে যায়। স্থানীয়দের চেষ্টায় শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

তিনি আরো বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু দিয়ে মানুষ পার হচ্ছে। অতিদ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

জগন্নাথপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কৃঞ্চ চন্দ্র চন্দ বলেন, খাদ্য গুদামসংলগ্ন বিকল্প ব্রিজ দীর্ঘ একমাস পানির নিচে থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচল বেড়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করে কোনো ফল পাওয়া যায়নি। তিনি খাদ্য গুদামসংলগ্ন সেতুটির দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।

জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র আক্তার হোসেন বলেন, সেতুটি জনস্বার্থে মেরামত করা হয়েছে। ভারী যান চলাচলের ফলে যেন দুর্ঘটনা না ঘটে, সেই জন্য ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা নেয়া উচিত। উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতু দিয়ে গাড়ির ওজনসহ তিন টনের বেশি ভারী যান চলতে পারবে না। রাতে আমাদের অগোচরে ভারী মালবাহী যান পারাপার হয় বলে শুনেছি। রাতের বেলায় ভারী যান চলাচল বন্ধ করতে পাহারা বসানো হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App