×

সারাদেশ

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি

ছাতক-সুনামগঞ্জ সড়কে ভাঙন দুর্ভোগে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ

Icon

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 ছাতক-সুনামগঞ্জ সড়কে ভাঙন  দুর্ভোগে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ

মো. সাজ্জাদ হোসেন শাহ্, সুনামগঞ্জ থেকে : সুনামগঞ্জে দ্বিতীয় দফায় বন্যায় ছাতক-আন্ধারীগাঁও-সুনামগঞ্জ সড়কের আন্ধারীগাঁও এলাকায় বিশাল ভাঙনের ফলে ভেঙে পড়েছে দুই উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থা। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দুই উপজেলার অন্তত ৪টি ইউনিয়নের অর্ধলক্ষাধিক মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা। বর্তমানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এসব মানুষ বন্দিদশায় দিন কাটাচ্ছেন।

এদিকে ওই সড়ক সংস্কারে টেন্ডার হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে কাজ বিলম্ব হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

জানা যায়, গত ২০ জুন পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে ছাতক-সুনামগঞ্জ সড়কের আন্ধারীগঁাঁও এলাকায় সড়কে ভাঙন শুরু হয়। সড়কটি জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যে বিকল্প পথ তৈরি করে জনদুর্ভোগ লাঘবে উদ্যোগ গ্রহণ করেন নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান। স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুন ভাঙনস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম কিরণ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তাফা মুন্না ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম। জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করার জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে ১ লাখ, উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫০ হাজার এবং ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আরো ৫০ হাজার টাকা দিয়ে সড়কের মেরামত কাজ শুরু করা হয়। কাজের বেশ অগ্রগতিও হয়েছিল। জানা যায়, ছাতক থেকে কাটাখালী সড়ক সংস্কারে প্রায় ১০ কোটি টাকার একটি টেন্ডার হয়েছে কয়েক মাস আগে। কাজটি পেয়েছেন মমিনুল হক নামে একজন ঠিকাদার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ছাতক-আন্ধারীগাঁও-সুনামগঞ্জ সড়ক মেরামতের জন্য অনেক আগেই একটি টেন্ডার হলেও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে এখন পর্যন্ত এ সড়কে কাজ শুরু করা হয়নি। বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করায় ছাতক উপজেলা সদর, দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া, মান্নারগাঁও এবং পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের অর্ধলক্ষাধিক মানুষদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঠিকাদার নিজের কাজের স্বার্থে হলেও এ ভাঙা অংশ মেরামত করা জরুরি বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

ছাতক উপজেলার বাসিন্দা মিয়া হোসেন বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করলেই সমস্যার সমাধান হতে পারত। নিজের কাজের স্বার্থেই প্রথমে ভাঙন অংশে মাটি ভরাট করে সড়ক যোগাযোগ সচল করলে সহজেই নির্মাণসামগ্রী এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহন করা সম্ভব হতো। কিন্তু ঠিকাদার বিষয়টি আমলেই নিচ্ছে না।

এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী সাব্বির আহমেদ জানিয়েছেন, সড়কের ভাঙন এলাকা নিয়ে তিনি চিন্তিত। এছাড়া বৈরী পরিবেশও অনেকাংশে কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে খুব কম সময়ের মধ্যে একটি কালভার্ট নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে এখানে। এসব বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

জানতে চাইলে এলজিইডি সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, সড়ক সংস্কারের টেন্ডার হয়ে গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কের মেরামত কাজ শুরু করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App